বেড়ায় বন্যার কথা জানে না প্রশাসন !

ফাই ফটো

ফাই ফটো

পাবনা জেলা প্রতিনিধি: বেড়া উপজেলায় বন্যায় বেশির ভাগ বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করলেও উপজেলা প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, বন্যা পরিস্থিতিই তৈরি হয়নি। উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানেরা তথ্য না পাঠানোয় উপজেলা প্রশাসন তাঁদের কোনো খোঁজ নেয়নি।

সরেজমিনে উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের প্যাঁচাকোলা, মালদাপাড়া, নতুনভারেঙ্গা ইউনিয়নের বাগশোয়াপাড়া, সাফুল্যাপাড়াসহ বেশ কিছু গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ।

প্যাঁচাকোলা গ্রামের মর্জিনা বেগম (৪০), জমেলা খাতুন (৬৫), সাফিয়া বেগমসহ (৩৮) ছয়-সাতজন নারী বলেন, ঘরে পানি ঢোকায় তাঁরা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অথবা অন্যের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

ইকরাম হোসেন (৩০) বলেন, ‘তাঁতের কাম কইর‌্যা খাই। ঘরে পানি ঢোকায় ১০ দিন ধইর‌্যা বেকার। চাল কেনার মতো টাকাও ঘরে নাই।’

হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফজলুল হক বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের (প্যাঁচাকোলা, মালদাপাড়া গ্রাম) ৯০ ভাগ বাড়িতে পানি। লোকজন খেয়ে না-খেয়ে দিন কাটালেও সরকারি সহায়তা না আসায় কিছুই করতে পারছি না।’

বেড়া উপজেলায় একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়ন রয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভেতরে অবস্থিত হওয়ায় পৌর এলাকা ও চাকলা ইউনিয়ন বন্যামুক্ত।

কিন্তু হাটুরিয়া-নাকালিয়া, কৈটোলা, নতুন ভারেঙ্গা, পুরান ভারেঙ্গা, জাতসাকিনী, মাসুমদিয়া, রূপপুর ও ঢালারচর ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা যমুনা ও পদ্মার তীরে হওয়ায় সহজেই প্লাবিত হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরই মধ্যে আটটি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউপির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে ছয়টিই বন্যাকবলিত। এতে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার বন্যায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বন্যার্ত লোকজনের মধ্যে দ্রুত ত্রাণ দেওয়ার প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ৩১ জুলাই তা ইউএনও কার্যালয়ে পাঠানো হবে।’

পুরান ভারেঙ্গা ইউপির চেয়ারম্যান এ এম রফিক উল্লাহ বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে আটটিই পানির নিচে। এতে ২ হাজার পরিবারের ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দু-এক দিনের মধ্যেই ইউএনও কার্যালয়ে পাঠানো হবে।’

বেড়া উপজেলা ইউএনও সামসুন নাহার গত শনিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে বলেন, ‘বন্যার ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যানদের তথ্য দেওয়ার কথা। এখন পর্যন্ত তাঁরা বন্যা হয়েছে বলে আমাকে জানাননি। আমি যত দূর জেনেছি বেড়ায় বন্যার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।’

পাউবো কৈটোলা নির্মাণ শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন গতকাল রোববার (৩১ জুলাই) বিকেলে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার কৈটোলা পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।