শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বেড়ায় বালুদস্যুদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

বেড়ায় বালুদস্যুদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

image_pdfimage_print
বেড়ায় বালুদস্যুদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

বেড়ায় বালুদস্যুদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

বেড়া প্রতিনিধি: বেড়া উপজেলায় যমুনা নদীর মোহনগঞ্জ থেকে রাকশা পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার অংশে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। অবাধে বালু তোলায় এরই মধ্যে দুই গ্রামের বিরাট একটি অংশ যমুনায় বিলীন হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

এ ছাড়া হুমকিতে রয়েছে যমুনার পশ্চিম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পসহ অন্তত ১২টি গ্রাম। এই অবস্থায় বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে গতকাল সোমবার (০৬ সেপ্টেম্বর) দেড় হাজারের বেশি মানুষ মানববন্ধন করেছেন।

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে যমুনার চর ও তীর-সংলগ্ন ১৫ গ্রামের মানুষ একজোট হয়ে ‘সর্বদলীয় বালুকাটা প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করেছে।

কমিটি জেলা প্রশাসক, ইউএনও, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ (পাউবো) বিভিন্ন কার্যালয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে লিখিত আবেদন দেয়।কিন্তু এতে কোনো কাজই হয়নি।

দাবি আদায়ে গতকাল যমুনাপারের দেড় হাজারের বেশি মানুষ মানববন্ধন করেছেন। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত নাকালিয়া বাজার-সংলগ্ন সড়কে এই মানববন্ধন হয়।

পরে পথসভা করেন তাঁরা। দাবি আদায় না হলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি করে দেন তাঁরা।

বালুকাটা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বালুদস্যুদের কারণে এরই মধ্যে সাত থেকে আট শ পরিবারের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে।

এভাবে চলতে থাকলে শিগগিরই ভাঙনের কবলে পড়বে মোহনগঞ্জ থেকে রাকশা পর্যন্ত এলাকার কমপক্ষে ১২টি গ্রাম।

বালু উত্তোলন রোধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাঁচার তাগিদে বাধ্য হয়ে আমরা ১৫ থেকে ১৬টি গ্রামের মানুষ একজোট হয়েছি।’

লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিনে জানা যায়, যমুনা নদীর মোহনগঞ্জ থেকে রাকশা পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার অংশ অত্যন্ত ভাঙনপ্রবণ।

ভাঙন রোধে পাউবোর উদ্যোগে ২০০১ সালে বেড়া উপজেলায় যমুনা নদীর পশ্চিম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।

প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৫ সালে এ প্রল্পের কাজ শেষ হয়।

দক্ষিণ চরপেঁচাকালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও দক্ষিণ চরপেঁচাকালা গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘গ্রামের সামনের অংশ থেকে বালু তোলা হচ্ছিল। এরই প্রভাবে স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদসহ গ্রামের বেশির ভাগ অংশই বিলীন হয়ে গেছে।’

চরপেঁচাকোলা গ্রামের আবদুল করিম বলেন, ‘বালুদস্যুদের কারণে আমাগরে গ্রামের ৫০০ পরিবার ঘরবাড়ি হারায়া নিঃস্ব হয়া পড়িছে। বালুকাটা বন্ধ না হলি গ্রামের বাকি অংশও যাওয়ার পথে।’

নাকালিয়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, ‘তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ফলপ্রসূ হওয়ায় আমরা ভেবেছিলাম, নাকালিয়া বাজার ভাঙন থেকে মুক্ত হয়েছে। কিন্তু বালুদস্যুদের কারণে ঐতিহ্যবাহী এই বাজারটি এখন আবার হুমকিতে।’

এদিকে এলাকাবাসী বলেন, ৮০ থেকে ৯০ ব্যক্তি শতাধিক নৌকার সঙ্গে খননযন্ত্র লাগিয়ে বালু তুলছেন। বালু উত্তোলনকারীদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় শরীফুল ইসলাম ওরফে ভোলা মেম্বার বলেন, ‘বালু উত্তোলনের ফলে কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে বা হতে পারে বলে কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারে, তবে আমরা তৎক্ষণাৎ বালুকাটা বন্ধ করে দেব।

বরং বালু তোলার সঙ্গে জড়িত হয়ে প্রায় এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে বালু উত্তোলনের বিরোধিতা করছে।’

ইউএনও সামসুন নাহার বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।’


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!