মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বেড়ায় মাইকিং করে মুরগি বিক্রি !

image_pdfimage_print

file (8)বিশেষ প্রতিনিধি: অতিরিক্ত লোকসান থেকে বাঁচতে পাবনার বেড়ায় মাইকিং করে মুরগি বিক্রি করছেন অনেক খামারি। এতে বিক্রি কিছুটা বাড়লেও খামারিদের প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। ব্যাপক লোকসানের মুখে বন্ধ হয়ে গেছে বেড়া উপজেলার অর্ধেকের বেশি মুরগির খামার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেড়া উপজেলায় মুরগির খামার রয়েছে সহস্রাধিক। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে ইতিমধ্যে পাঁচ শতাধিক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি খামারগুলোরও বন্ধ হওয়ার পথে।

সরেজমিনে উপজেলার প্রচুর খামার মুরগিশূন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

খামারিরা জানান, চড়া দামে (প্রতিটি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা) মুরগির বাচ্চা কিনতে হয়েছে। এর সঙ্গে খাদ্য ও ওষুধেরও দাম বাড়ায় ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ বেড়েছে। খামারে একেকটি বাচ্চা দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের মুরগি হিসেবে বড় করতে ৩০০ টাকার মতো ব্যয় হয়।

এতে কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ পড়ে ১৩০ টাকার ওপরে। অথচ মুরগি ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি কেজি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। এতে খামারিদের পরিশ্রম ও ঘরভাড়া বাদেই প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা লোকসান হচ্ছে।

লোকসান দিয়েও মুরগি বেচতে না পারায় এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার কোনো কোনো খামারি খুচরা ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মাইকিং করছেন। আশপাশের এলাকায় রিকশাযোগে মাইক নিয়ে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে মুরগি বিক্রি করা হচ্ছে।

বাজারের তুলনায় কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা কম হওয়ায় ক্রেতারা খামারিদের মাইকিং করা স্থানে গিয়ে মুরগি কিনছেন। মাইকিং করায় মুরগি বিক্রি কিছুটা বেড়েছে বলে জানান খামারিরা।

হাটুরিয়া গ্রামের পোলট্রি ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম বলেন, তাঁর খামারে ৫০০ মুরগি ছিল। দুদিন আগে সব বিক্রি করে শেষ করেছেন। বিক্রি শেষে হিসাব কষে দেখেছেন তাঁর ২৫ হাজার টাকার বেশি লোকসান হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মুরগি বেচতে আমিই প্রথম মাইকিং করাই। এরপর আমার দেখাদেখি অনেকেই এখন মাইকিং করে মুরগি বেচছেন।’

পোলট্রি খামারের পথপ্রদর্শক বলে পরিচিত বেড়া পৌর এলাকার জোড়দহ মহল্লার জিয়াউদ্দিন অপু বলেন, ‘মুরগির চাহিদা একেবারে পড়ে গেছে। খামারিরা মুরগি ব্যবসায়ীদের কাছে উৎপাদিত মুরগি বেচতে না পেরে মাইকিং করে বিক্রি করছেন। এতে প্রতি কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে খামারিদের। এ অবস্থায় উপজেলায় অর্ধেকের বেশি পোলট্রি খামার বন্ধ হয়ে গেছে।’

উপজেলার বেড়া বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত মোল্লা পোলট্রি অ্যান্ড সেল সেন্টারের মালিক আবদুল মুন্নাফ বলেন, ‘ব্যাপক লোকসান হওয়ায় একের পর এক বন্ধ হচ্ছে খামার। আমার দোকান থেকে প্রায় ৮০ জন খামারি বাচ্চা ও খাদ্য নিতেন। এখন মাত্র ১০ থেকে ১২ জন নিচ্ছেন। অনেক খামারি লোকসানের কারণে ঋণগ্রস্ত হয়ে পালিয়ে রয়েছেন। ’

সরেজমিনে উপজেলার প্রচুর খামার মুরগিশূন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!