News Pabna
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৩১ অক্টোবর ২০১৯

বেড়ায় মৃৎশিল্পীদের দুর্দিন; পেশা বদলাচ্ছে অনেকে

News Pabna
অক্টোবর ৩১, ২০১৯ ৯:০৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আরিফ খাঁন, বেড়া পাবনা : পাবনার বেড়ায় এক সময় মাটির তৈরী বাসনপত্রের কদর ছিল অনেক। কিন্তু এখন মাটির সামগ্রীর পরিবর্তে প্লাষ্টিক সামগ্রীর ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মাটির বাসনপত্রের ব্যবহার ও মৃৎশিল্পীদের কাজের পরিধি কমে গেছে।

ফলে পাবনার বেড়া উপজেলার নিভৃত পল্লীতে কয়েক যুগের স্মৃতি বহনকারী কুমোরপাড়া গ্রামের মৃৎশিল্পীরা তাঁদের পূর্ব পুরুষদের পেশা বদলাতে চাচ্ছেন।

অনেক পেশার মতো এ গ্রামের কুমোররাও এতো দিন টিকে ছিলেন নানা প্রতিকুলতার মধ্যে। কিন্তু এটেল মাটি, পৃষ্টপোষকতার অভাব ও ব্যাংক ঋণ না পাওয়ায় এবং তাদের তৈরী জিনিসপত্রের চাহিদা কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারনে কুমোররা তাদের পেশা বদলাতে চাচ্ছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কুমোর পাড়ার হাতে গুনা কয়েকটি বাড়িতে বেশি তৈরী হচ্ছে ছোট বড় দৈই এর খুটি, গুরের হাঁড়ি, ছোট আকারের দেবদেবির মূর্তি, ঝাঁঝড়-ছাবনা, পিঠা তৈরীর সাঁজ সহ আরও কয়েকটি পদ। এগুলো মাটির তৈরী না হলে মানুষের ব্যাবহারে অনুপযোগী হত।

এই কুমোর পাড়া পল্লীটি বেড়া উপজেলার মালদাহপাড়া, পেঁচাকোলা গ্রামে অবস্থিত।

সবুজ শ্যামল ছায়া ঘেরা গ্রামটির শোভা বর্ধন করে পাল পরিবারের নিপুণ হাতে তৈরী মাটির কলস, চাড়ি, হাড়ি, পাতিল, খুঁটি, দেয়র, ধুপাতি ও নানা বৈচিত্রের খেলনা সহ নানা সামগ্রী।

কুমাররা তাদের তৈরী বৈচিত্র্যময় এসব বাসনপত্র এখন বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করে। কিন্তু মাটির সামগ্রীর পরিবর্তে প্লাষ্টিক সামগ্রীর ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার ফলে তাদের জিনিসের চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে।

তাই এখন কুমোর পাড়া গ্রামে মাত্র ১০-১২ টি পাল পরিবার টেনেটুনে তাদের পৈত্রিক পেশা ধরে রেখেছেন।

হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের মালদাপাড়া গ্রামের মেনে বালা পাল (৫৫) জানান, আগের মতো মাটির তৈরী জিনিসের আর কদর নেই। তাছাড়া এটেল মাটি ও মাটির বাসন তৈরীর অন্য সকল সামগ্রীও আগের মতো সহজে পাওয়া যায় না।

তাই এ পেশায় এখন আর স্বাবলম্বী হওয়া তো দুরের কথা, দু‘বেলা দু‘মুঠো খাবার জোটানো কঠিন হয়ে পড়ে।

বিপেন পাল বলেন, এ শিল্পকে ধরে রাখার জন্য আগে থেকেই প্রয়োজনীয় এটেল মাটি, মাটি পোড়ানোর জন্য চিটাধান এবং অন্যান্য সামগ্রীর মজুদ রাখতে হয় এজন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি আমাদের নেই।

বাধ্য হয়ে পেশা বদলাতে হচ্ছে। অবিনাশ পাল ও লালু পাল বলেন, হাজার বছরের ঐতিহ্য পাল বংশের রক্ষায় কেউ এখন এগিয়ে আসছে না। আমরা কি দিয়ে এই ঐতিহ্য রক্ষা করব?

পাল সম্প্রদায়টিতে আগের চেয়ে শিক্ষার হার কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু তাতে তাদের বড় বাঁধা জীবন জীবিকা। কারন পালদের কাজে বউ ঝিরাসহ বাড়ির ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সহযোগীতা করে।

এলাকার বিজ্ঞ মহল মনে করেন গ্রামীণ ঐতিহ্যের ধারক ও বাহকদের এই মৃত্তিকা শিল্পীকে ধরে রাখার জন্য সরকার এবং এনজিও সহ সংশ্লিষ্টদের এখনি এগিয়ে আসতে হবে।