রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বেড়ায় যমুনা নদীর বাঁধে ধস; লোপাট হচ্ছে জিও ব্যাগ ও ব্লক

বেড়ায় যমুনা নদীর বাঁধে ধস। ফাইল ছবি

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : পাবনার বেড়া উপজেলায় যমুনা নদীর তীর রক্ষাকারী বাঁধের কয়েকটি স্থানে কংক্রিটের ব্লকগুলো ধসে পড়েছে। আর সুযোগ বুঝে একশ্রেণির মানুষ এসব ব্লক ও তীর রক্ষায় ব্যবহৃত জিও ব্যাগ লোপাট করছে। ফলে এসব স্থানে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও এলাকাবাসী জানায়, যমুনা-মেঘনা ভাঙনরোধ প্রকল্পের আওতায় ২০০১ সালে বেড়া উপজেলায় যমুনা নদীর পশ্চিম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।

প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৫ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।

প্রকল্পের আওতায় উপজেলার মোহনগঞ্জ থেকে রাকশা পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার পর্যন্ত যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে (ডান তীর) প্রতিরক্ষা বাঁধ তৈরি করা হয়।

এতে ভাঙনপ্রবণ এই অংশের ভাঙন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাবনা সেচ প্রকল্পের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও কৈতোলা পাম্পিং স্টেশনসহ ৩০টি গ্রাম ভাঙন থেকে রক্ষা পায়।

অন্যদিকে নগরবাড়ী থেকে কাজীরহাট পর্যন্ত ৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার অংশে ২০১২ সাল থেকে শুরু হয়েছে আরেকটি তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ। এর মধ্যে মোহনগঞ্জ থেকে রাকশা পর্যন্ত অংশ পাউবোর কৈতোলা নির্মাণ বিভাগের ও নগরবাড়ী থেকে কাজীরহাট পর্যন্ত অংশ পাউবোর বেড়া কার্যালয়ের আওতাধীন।

ভাঙন রোধের জন্য কংক্রিটের (পাথর, বালু ও সিমেন্টের মিশ্রণ) ব্লক তৈরি করে তা দিয়ে যমুনার তীর বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তীরসংলগ্ন যমুনা নদীর তলদেশে ফেলা হয়েছে প্রচুর ব্লক।

এ ছাড়া বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি করা জিও টেক্সটাইলের ব্যাগে (জিও ব্যাগ) বালু ভর্তি করে তীর ও তীরসংলগ্ন তলদেশে ফেলা হয়েছে। কিন্তু বছর দুয়েক হলো তীর রক্ষাকারী বাঁধের কয়েকটি স্থানে ব্লকগুলো ধসে পড়তে শুরু করেছে।

এর মধ্যে মোহনগঞ্জ ও কৈতোলা স্লুইসগেটের কাছে ধস মারাত্মক রূপ নিয়েছে। এ দুটি স্থানে ব্লক সরে গিয়ে নিচের মাটি বের হয়ে এসেছে। এ ছাড়া পেঁচাকোলা, নাকালিয়া, রাকশাসহ আরও কয়েকটি স্থানে এসব ব্লক বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এখনই ব্যবস্থা না নিলে এসব স্থানেও ধস দেখা দিতে পারে বলে স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

মোহনগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা ও বেড়া পৌরসভার কাউন্সিলর আবু সুফিয়ান সরদার বলেন, ‘তীর রক্ষাকারী বাঁধের ওপর দিয়ে ইট ও বালুবাহী ট্রাক যাতায়াত করছে। এগুলোর কারণেই কয়েকটি স্থানে ব্লক ধসে পড়েছে। বিষয়টি আমরা পাউবো কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। কিন্তু তাঁরা এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধসে পড়া অংশে যে পরিমাণ ব্লক থাকার কথা তার চেয়ে অনেক কম রয়েছে। স্থানীয় লোকজন বেশ কিছুদিন ধরে সেখান থেকে ব্লক তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তারা সেসব ব্লক দিয়ে বাড়ির দেয়াল, সিঁড়ি তৈরিসহ নানা কাজে ব্যবহার করছে।

কেউ কেউ জিও ব্যাগ চুরি করতে শুরু করেছে। চুরি করার জন্য তারা ব্লেড বা ধারালো কিছু দিয়ে বালুভর্তি জিও ব্যাগের একাংশ কেটে বালু ফেলে দেয়। এরপর খালি জিও ব্যাগ বাড়িতে নিয়ে যায়। এসব ব্যাগ জোড়া দিয়ে বাড়ির বেড়ায়, ঘরের চালে অথবা মেঝেসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, জিও ব্যাগ সবচেয়ে বেশি চুরি হয়েছে নগরবাড়ী থেকে কাজীরহাট পর্যন্ত অংশে।

পাউবোর বেড়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হামিদ বলেন, তাঁর আওতাধীন (নগরবাড়ী-কাজীরহাট) এলাকা থেকে ব্লক চুরির অভিযোগ নেই। তবে কিছু জিও ব্যাগ চুরি হওয়ায় সে ব্যাপারে তাঁর কার্যালয় সতর্ক রয়েছে। ইতিমধ্যে জিও ব্যাগ চুরির সঙ্গে জড়িত দুজনকে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।

পাউবোর কৈতোলা নির্মাণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, ‘আমাদের আওতাধীন (মোহনগঞ্জ-রাকশা) এলাকার ধসে পড়া অংশ মেরামতের জন্য ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্লক চুরি ও তীরের বাঁধানো অংশ দিয়ে ট্রাক চলাচল বন্ধের জন্য পুলিশি সহায়তা নেওয়া হবে। তবে এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!