শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বেড়া পৌরনির্বাচন : একাট্টা আ.লীগ, বিএনপি চুপচাপ!

ফাইল ফটো

image_pdfimage_print
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বেড়া প্রতিনিধি: বেড়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে স্থানীয় প্রায় প্রত্যেক নেতা-কর্মী মাঠে নেমেছেন। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রচারণায় মুখর বেড়া পৌরসভা। অর্থাৎ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠেছেন বেড়ায়।

অপরদিকে মেয়র পদে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে খুব একটা মাঠে দেখা যাচ্ছে না নেতা-কর্মীদের। বিএনপির প্রার্থীসহ অপর দুই প্রার্থীর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।  তাঁদের বেশির ভাগই চুপচাপ। এমনকি পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতাদেরও প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে না। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অপর প্রার্থীর পক্ষেও প্রচার-প্রচারণায় তেমন সাড়া নেই।

আগামী ৭ আগস্ট বেড়া পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে মেয়র পদে তিনজন, কাউন্সিলর পদে ৬২ জন ও মহিলা কাউন্সিলর পদে ১২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বাতেন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চিকিৎসক আব্দুল আউয়াল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উল্লেখ্য, বেড়ায় আওয়ামী লীগে বিভক্তি দেখা দেয় ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে। ওই সময় সংস্কারপন্থী হওয়ার অভিযোগে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে বাদ দিয়ে শামসুল হক টুকুকে সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

এতে আবু সাইয়িদের অনুসারীরা আওয়ামী লীগে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনেও পাবনা-১ আসনে মনোনয়ন পান শামসুল হক টুকু। ওই নির্বাচনে আবু সাইয়িদ দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তালা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে শামসুল হকের কাছে পরাজিত হন। এরপর আবু সাইয়িদের অনুসারীরা আবারও নিষ্ক্রিয় হয়ে যান।

এদিকে গত ২৭ জুন বেড়া পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য মোট সাতজন তৎপরতা চালাতে শুরু করেন। ওই সাতজনের মধ্যে তিনজন ছিলেন আবু সাইয়িদের অনুসারী। শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পান শামসুল হকের ছোট ভাই ও বর্তমান মেয়র আব্দুল বাতেন। মনোনয়ন না পাওয়ায় বাকি ছয়জনের মধ্য থেকে পাঁচজন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তবে আবু সাইয়িদের ভাগনে আব্দুল আউয়াল স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।

গত ২৩ জুলাই প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণা শুরু হতেই পাল্টাতে থাকে দৃশ্যপট। আবু সাইয়িদের অনুসারী বলে পরিচিত আওয়ামী লীগের যেসব নেতা-কর্মী এত দিন নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তাঁরা আওয়ামী লীগে সক্রিয় হয়ে নৌকা মার্কার প্রচারণায় সরব হয়ে ওঠেন। এর ফলে বিভক্তি দূর হয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগে ঐক্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন নেতা-কর্মীরা।

বেড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, গত দুটি সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগে যে বিভক্তি দেখা দিয়েছিল, এবারের মেয়র নির্বাচনে তার অবসান হয়েছে। দলের প্রত্যেক নেতা-কর্মী নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই নন, বেড়া পৌর এলাকার পাঁচ থেকে ছয়টি সামাজিক সংগঠনের সদস্যরাও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল বাতেন মিউনিসিপ্যালিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ম্যাব) সভাপতি পদে থাকায় বিভিন্ন পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলররাও এসে তাঁর পক্ষে ভোট চাইছেন।

এদিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যেখানে চাঙা হয়ে উঠেছেন, সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। নৌকার পক্ষে জমজমাট প্রচারণার বিপরীতে অনেকটাই নিষ্প্রাণ প্রচারণা চলছে ধানের শীষের। বিএনপির পৌর, উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের নেতাদের নির্বাচনী মাঠে দেখাই যায় না বলা যায়। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রইজউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের নেতা-কর্মীদের ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। এর ফলে অনেকেই মাঠে নামার সাহস পাচ্ছে না। আমাদের আশঙ্কা নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।’

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল আউয়ালের নির্বাচনী প্রচারণায়ও নেই তেমন জোড়। বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে তাঁর সমঝোতা হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁর সমর্থকেরা। তবে মুঠোফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!