বেড়া পৌরমেয়রের যমুনা নদীতে অবৈধ বন্দর- বছরে কোটি টাকা আদায়

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার বেড়ায় যমুনা নদীতে ‘অবৈধ’ নৌবন্দর প্রতিষ্ঠা করেছেন বেড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বাতেন।

বেড়া পৌর এলাকার বৃশালিখায় স্থাপিত এ বন্দর থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা আদায় করা হচ্ছে। মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে বাঘাবাড়ী নৌবন্দর বাদ দিয়ে মালবাহী নৌযান এ ঘাটে নোঙর করায় বিপুল অঙ্কের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

সূত্র জানায়, নৌবন্দর পরিচালনায় একমাত্র অনুমোদিত ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

অথচ নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বৃশালিখায় অবৈধ নৌবন্দর পরিচালনা করছেন বেড়ার পৌর মেয়র।

তবে বৃশালিখা ঘাটকে অবৈধ মানতে নারাজ মেয়র আব্দুল বাতেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার আইন অনুসারে ঘাট থেকে অর্জিত রাজস্ব অবশ্যই স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ পাবে।

যেহেতু বৃশালিখা ঘাট পৌর এলাকার মধ্যে, তাই পৌরসভা সেখান থেকে রাজস্ব সংগ্রহ করছে। এখানে বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদনের কোনো প্রয়োজন নেই।

সরেজমিন বৃশালিখায় গিয়ে দেখা যায়, বন্দর পরিচালনার জন্য হুরাসাগর নদের পাড়ে পৌর মেয়র একটি একতলা ভবন নির্মাণ করেছেন।

সেখানে ঝোলানো সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, বৃশালিখা বেসরকারি রাজঘাট, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় আলহাজ আব্দুল বাতেন।

পাশেই ঘাটে নোঙর করা ১০টি মালবাহী জাহাজ থেকে সিমেন্ট, কয়লা ও খাদ্যশস্য নামানো হচ্ছে। পরে ট্রাকে সেসব পণ্য নেওয়া হচ্ছিল নিজ নিজ গন্তব্যে।

পোটন ট্রেডার্স নামের একটি পণ্য পরিবহন সংস্থার প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন বলেন, বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে শ্রমিক সংকটসহ নানা জটিলতা রয়েছে।

ফলে জাহাজ থেকে পণ্য নামাতে সময় বেশি লাগে। বৃশালিখা ঘাটে সে সমস্যা নেই। আমরা তুলনামূলক কম খরচে এ ঘাট দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া করতে পারি।

এ ঘাট পরিচালনাকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে মত দিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন অনুসারে বিআইডব্লিউটিএ দেশে নৌবন্দর পরিচালনায় বৈধ কর্তৃপক্ষ। বাঘাবাড়ীর আশপাশে সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থাকে নৌবন্দর পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সরকার খেয়া পারাপারের জন্য ঘাট ইজারা দিতে পারে, কিন্তু পণ্যবাহী জাহাজ নোঙর করে বৃশালিখা ঘাটে যেভাবে বন্দরের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ।

তিনি আরও বলেন, বাঘাবাড়ী ঘাটে নোঙর করা প্রতিটি মালবাহী জাহাজকে প্রতি টন মাল খালাসের জন্য ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা দিতে হয়।

সেই হিসাবে বৃশালিখা ঘাটের কারণে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।