রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বেড়া পৌর মেয়রসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি

image_pdfimage_print

photo-1445342813শহর প্রতিনিধি : বেড়া পৌরসভার মেয়র ও বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল বাতেনসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা পৃথক তিনটি মামলার মধ্যে নং স্পেশাল ৫/১৬ মামলায় আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।

পাবনার বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ অপরাধ আমলে নিয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। এদিকে আসামীরা গ্রেফতার এড়াতে বেড়া ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানা গেছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত বছরের ২৭ এবং ৩১ আগষ্ট দুদক পাবনা অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে বেড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বেড়া মডেল থানায় পৃথক তিনটি মামলা করেন।

পরে একটি মামলা ভেঙে দু’টি মামলায় রুপান্তরিত হয়। মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন, বেড়া পৌরসভার প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজুল আলম, সাবেক সচিব বর্তমান পঞ্চগড় পৌরসভার সচিব রাশিদুর রহমান, কাউন্সিলর যথাক্রমে হাবিবুর রহমান হবি, আবু দাউদ শেখ, জয়নাল আবেদীন, শামসুল হক, এনামুল হক শামীম, আব্দুর রাজ্জাক সরদার, ইসলাম উদ্দিন, আব্দুস সামাম মহালদার, শহিদ আলী, নার্গিস আক্তার, জাকিয়া খাতুন এবং চতুরহাটের ইজারাদার মাহবুব হোসেন বাবলু। সম্পূরক চার্জশীটে বেড়া পওর বিভাগের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম তালুকদার, বেড়া পওর বিভাগের তৎকালীন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, এলজিইডি বেড়ার তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সরোয়ার, বেড়ার তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, বেড়া পৌরসভার তৎকালীন প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ খান ও পাবনার সাবেক জিপি শাহাবুদ্দিন সবুজকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পাবনা দুদক অফিসের সাবেক উপ-সহকারী পরিচালক জালাল উদ্দিন চার্জশীটে উল্লেখ করেন, গত বছরের ২৭ আগষ্ট বেড়া থানায় সাড়ে ৭৬ লাখ টাকা এবং দুই লাখ তিন হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বেড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেনসহ ১৪ জনের নামে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুদক।

তদন্তে এই মামলা দু’টিতে আত্মসাতকৃত টাকার পরিমান বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে এক কোটি ৮৫ লাখ ৪৭ হাজার ৯৫ টাকা এবং ৪৭ লাখ ১২ হাজার ২৫০ টাকা।
এছাড়া একই বছরের ৩১ আগষ্ট দায়ের করা আরো একটি মামলা তদন্তের পর দু’টি মামলায় পরিনত করা হয়। এখানে নয় লাখ ৩৬ হাজার ৫৬০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থ আত্মসাত, অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে বেড়া সিঅ্যান্ডবি নতুনহাটের ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৫৬০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে মেয়র অব্দুল বাতেনসহ অন্য আসামীরা দূর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন।

এছাড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেনসহ অভিযুক্তরা নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি হাটকে বেসরকারি ব্যক্তি মালিকানাধীন দেখিয়ে এক বছরের স্থলে এক নাগারে ১৩ বছর অবৈধভাবে ভোগদখল করে সরকারের বিপুল রাজস্বের ক্ষতি সাধন করে ব্যক্তিগত লাভবান হয়েছেন। বিধি মোতাবেক তারা সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেননি।

দুদক পাবনা অফিসের সাবেক উপ-সহকারী পরিচালক জালাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন অনুসন্ধানের পর সত্যতা পাওয়ায় গত ২৩ মার্চ বুধবার পাবনার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে চারটি পৃথক চার্জশীট দাখিল করা হয়। যার নং- ৫২, ৫২(ক) ৫৩, ৫৪ তারিখ ২৩ মার্চ ২০১৬ইং।

পাবনার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ রেজাউল করিম চার্জশীট গ্রহন করে মামলার পরবর্তি কার্যক্রম গ্রহনের নির্দেশ দেন। গত ২৭ এপ্রিল পাবনার বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ অপরাধ আমলে নিয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন।

এ ব্যাপারে বেড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। নতুনহাটের ইজারাদার মাহবুব হোসেন বাবলু জানান, পৌর মেয়রের সাথে চুক্তি অনুয়ায়ী সরকারের কোষাগারে যে টাকা জমা দেয়ার কথা ছিল তা যথাসময়ে পৌর মেয়রের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। তাই এই মামলায় তাকে জড়ানো সঠিক হয়নি।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!