শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বেড়া-সাঁথিয়ায় অগ্নিমূল্যে পেঁয়াজ বীজ কিনতে দিশেহারা কৃষক

image_pdfimage_print

আরিফ খান, বেড়া, পাবনাঃ পাবনার বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলায় পেঁয়াজের দামের আগুনের প্রভাব পড়েছে বীজের বাজারেও।

গত বছর যে পেঁয়াজের বীজ ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে সেই বীজ এবার বিক্রি হচ্ছে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায়।

একই সঙ্গে বেড়েছে পেঁয়াজের কন্ধ বা গোটার দামও। এ অবস্থায় পেঁয়াজের আবাদ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন দুই উপজেলার কৃষকেরা।

পেঁয়াজ চাষিরা জানান, ভালো দাম দেখে পাবনার বেড়া ও সাঁথিয়ার কৃষকেরা এবার পেঁয়াজের আবাদে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
কিন্তু গতবারের তুলনায় এবার প্রতিকেজিতে পেঁয়াজ বীজের দাম বেড়েছে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। গত বছর প্রতিকেজি পেঁয়াজের বীজ ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

কিন্তু এবার প্রতিকেজি বীজ বিক্রি হচ্ছে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদা বেশি হওয়ার সুযোগ নিয়ে বীজ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি চক্র এবার পেঁয়াজ বীজের দাম কৌশলে বাড়িয়ে দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাঁথিয়া ও বেড়া দেশের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী উপজেলা হিসেবে পরিচিত। দুই উপজেলায় পেঁয়াজের আবাদ হয়ে থাকে দুই পদ্ধতিতে।

এর একটি হলো মূলকাটা ও অপরটি হলো হালি। মূলকাটা পদ্ধতিতে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে পেঁয়াজের আবাদ করে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে পেঁয়াজ ঘরে তোলা হয়।

এই পদ্ধতিতে অঙ্কুরিত পেঁয়াজ জমিতে রোপণ করা হয়। মূলকাটা পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় না।

অন্যদিকে হালি পদ্ধতিতে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে পেঁয়াজের আবাদ করে মার্চ-এপ্রিলে পেঁয়াজ ঘরে তোলা হয়। এই পদ্ধতিতে পেঁয়াজের চারা জমিতে রোপণ করা হয়। হালি পেঁয়াজ দীর্ঘদিন ঘরে সংরক্ষণ করা যায়।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুই উপজেলায় পেঁয়াজের মূল যোগান আসে হালি পদ্ধতির পেঁয়াজ চাষ থেকে।

হালি ও মূলকাটা মিলিয়ে এবার সাঁথিয়ায় ১৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর ও বেড়ায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে।

এর মধ্যে সাঁথিয়ায় ১৩ হাজার ৭৫০ ও বেড়ায় তিন হাজার এক শ হেক্টর জমিতে হালি পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

হালি পদ্ধতিতে পেঁয়াজের আবাদের জন্যই পেঁয়াজ বীজের প্রয়োজন। কৃষকেরা দুই উপজেলার উঁচু জমিতে ইতিমধ্যেই পেঁয়াজের চারার জন্য বীজতলা তৈরি শুরু করেছেন।

মাস খানেকের মধ্যে দুই উপজেলায় ব্যাপক ভিত্তিতে পেঁয়াজের চারা তৈরির জন্য আবাদ শুরু হবে। এ জন্য কৃষকের ঘরে ঘরে চলছে প্রস্তুতি।

কিন্তু পেঁয়াজ বীজের অগ্নিমূল্যের জন্য কৃষকেরা বীজতলা তৈরি নিয়ে চরম সংশয়ে রয়েছেন। চড়াদামের বীজে পেঁয়াজ আবাদের পর উৎপাদন খরচ উঠবে কিনা তা নিয়েও ভাবেছন কৃষকেরা।

সাঁথিয়ার কাশিনাথপুরের ভাই ভাই বীজ ভান্ডারের মালিক এমদাদুল হক জানান জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পেঁয়াজের বীজের দাম তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে। এত চড়াদামের কারণে বীজ বিক্রি কম হচ্ছে। এ ছাড়া তাঁদের লাভও হচ্ছে গতবারের তুলনায় কম।

বেড়ার নলভাঙ্গা গ্রামের মৌসুমী বীজ বিক্রেতা আরব আলী বলেন, ‘অন্যান্য বছরের মতো এবারও আমি ফরিদপুর থেকে পেঁয়াজের বীজ আনিছি। কিন্তু এবার পাইকারি দরে বীজ আনব্যার যায়া এত দামে নিজেই আশ্চর্য হয়া গেছি। যেমন দামে বীজ কিন্যা আনছি তেমন দামেই আমাগরে বেচা লাগতেছে।’

বেড়া উপজেলার চাকলা গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘পেঁয়াজের ভালো দাম দেইখ্যা এবার দুই বিঘা বেশি জমিতে পেঁয়াজ আবাদের ইচ্ছা করিছিল্যাম। কিন্তু বীজের দাম এত বেশি হওয়ায় আবাদে সাহস হতেছে না।’

সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার গোস্বামী ও বেড়া উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আজমত আলী জানান, স্থানীয়ভাবে দুই উপজেলায় সামান্য কিছু পেঁয়াজ বীজের উৎপাদন হয়।

কিন্তু চাহিদার বেশির ভাগ পেঁয়াজ বীজই আসে রাজশাহী ও ফরিদপুর থেকে। গত বছর শিলাবৃষ্টি হওয়ায় ও কৃষকেরা ভালো দাম পেয়ে বীজের জন্য না রেখে পেঁয়াজ বিক্রি করে দেওয়ায় সারা দেশেই এবার পেঁয়াজের বীজের উৎপাদন কম হয়েছে। এ কারণে বীজের দামও বেশি।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!