বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বেড়া-সাঁথিয়ায় করোনাকালে প্রাইভেট বাণিজ্য!

image_pdfimage_print

বেড়া প্রতিনিধি : দেশে মহামারি করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সরকার যখন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ ঘোষণা করেছে।

ঠিক সে সময়ে পাবনার বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্দেশনা উপেক্ষা করে কোনো প্রকার সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখেই নতুন কৌশলে প্রাইভেট বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

এসব শিক্ষক ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে একসঙ্গে ৩৫ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে একেকটি ব্যাচে পড়াচ্ছেন। এতে দুই উপজেলায় করোনা সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

জানা গেছে, সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সরকারি নির্দেশকে উপেক্ষা করে দুই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে কাশিনাথপুর এলাকার বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলা অংশে প্রকাশ্যে প্রাইভেট পড়ানো হচ্ছে।

কাশিনাথপুর এলাকাটি বেড়া ও সাঁথিয়া দুই উপজেলার অংশ নিয়ে জনবহুল স্থানে অবস্থিত।

এই এলাকার আশেপাশে চারটি কলেজসহ প্রায় ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে সেখানে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক চাপ রয়েছে।

এলাকাটি উপজেলা সদর থেকে দূরে হওয়ায় প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে নির্ভয়ে শিক্ষকেরা প্রাইভেট বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু কাশিনাথপুরেই অন্তত ২০ জন শিক্ষক বাসা ভাড়া নিয়ে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন।

প্রাইভেট পড়ানোর জন্য তাঁরা যে কক্ষগুলো ভাড়া করেছেন তাতে ১৫ থেকে ২০ জনের বসার ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে অতিরিক্ত বেঞ্চ ফেলে সেগুলোতে গাদাগাদি করে ৩৫ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থীকে বসানো হচ্ছে।

এতে বজায় থাকছে না সামান্যতম স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব।

শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষকেরা প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদেরকে স্কুলব্যাগ নিতে নিষেধ করছেন। এর পরিবর্তে চটের ব্যাগ বা পলিথিনে বই নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাশিনাথপুর নয়াবাড়ী গ্রামের দুজন অভিভাবক জানান, তাঁদের বাড়ির কাছে সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কয়েকজন শিক্ষক প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। প্রতি ব্যাচে একসঙ্গে ৩০ থেকে ৩৫ জনকে বসিয়ে প্রাইভেট পড়ানোয় সামাজিক দূরত্ব বলে কিছুই থাকছে না। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

হরিদেবপুর এলাকায় প্রাইভেট পড়ান এমন একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে এ প্রতিনিধির কথা হয়। শিক্ষকেরা জানান, অনেকেই প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। তাই তাঁরাও পড়ান। এ ছাড়া অভিভাবকেরা প্রাইভেট পড়ানোর জন্য অনুরাধও করছেন।

বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার দুই (ইউএনও) যথাক্রমে আসিফ আনাম সিদ্দিকী ও এসএম জামাল আহমেদ জানান, প্রাইভেট পড়ানোর ব্যাপারে তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন।

অভিযোগ পেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে তাঁরা জানান।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!