বেড়া-সাঁথিয়ায় চলছে দূর্গাপূজার প্রস্তুতি

আরিফ খাঁন, বেড়া, পাবনাঃ হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে পাবনার বেড়া-সাঁথিয়া উপজেলায় এখন সাজ সাজ রব।

দেবী দুর্গার আগমন উপলক্ষে চলছে প্রস্তুতিপর্ব। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত রয়েছে দুই উপজেলার মৃৎশিল্পীরা।

এ বছর করোনা ভাইরাসের প্রভাব থাকার কারনে উৎসবে ভাটা পড়বে। আগামী অক্টোবরের ২৩ তারিখ থেকে শুরু হয়ে ২৬ অক্টোবর বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে পূজার কার্যক্রম।

দুই উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সূত্র ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলা শাখার সভাপতিদের সূত্রে জানা যায়, এবছর বেড়াতে ৪৫ টি ও সাঁথিয়ায় ৪৩ টি মোট ৮৮ টি মন্ডবে শারদীয়া দুর্গাপূজা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

দুই উপজেলায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে প্রতিমা ও পূজা মন্ডপ তৈরীর কাজ। স্থায়ী পূজামন্ডপগুলোতে মেরামতের কাজ চলছে। প্রায় সব মন্দিরে প্রতিমা তৈরীর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

কোথাও কোথাও প্রতিমায় একাধিকবার মাটির প্রলেপ দেয়া হয়েছে। ফলে মৃৎশিল্পীদের এখন আর দম ফেলার সময় নেই।

সাঁথিয়া উপজেলার ধোপাদহ গ্রামের মৃৎশিল্পী শশাঙ্ক পাল, গুপিনাথপুর গ্রামের ষষ্ঠি পাল ও বেড়া উপজেলার চরপাড়া মহল্লার বিনয় পাল, পেঁচাকোলা গ্রামের প্রাণ গোপাল পালসহ আরও কয়েক জন প্রতিমা তৈরীতে বিশেষ পারর্দশী মৃৎশিল্পীর সাথে প্রতিমা তৈরী নিয়ে কথা হলে সবাই এখন প্রতিমা তৈরিতে খরচ বৃদ্ধির কথা জানান।

মৃৎশিল্পী শশাঙ্ক পাল জানায় মূর্তি তৈরীতে ব্যবহৃত সরঞ্জাদির মুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় মূর্তি তৈরীতে এখন অনেক খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সে প্রকার ভেদে মূর্তি প্রতি ৩০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা মজুরী নিয়ে থাকে। তাছাড়াও এখন প্রতিমার পোশাক পরিচ্ছেদ যেমন জর্জেটের শাড়ী, হরেক রকমের পুতি, চুমকি ও জরি কাজের লেস, ডাইমন্ড পুতি, গোল্ড চুমকি, সিটি গোল্ডের গহনা এ ধরনের সাজসজ্জা কিনে আনতে ১৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা টাকা লেগে যায় যা আগে মাটি আর রং দিয়ে তৈরী হতো।

সরেজমিনে বেড়া-সাঁথিয়ার কয়েকটি গ্রামের পূজা মন্ডব ঘুরে দেখা গেছে প্রতিমা তৈরীর কাজ প্রায় বেশিরভাগ মন্ডবে শেষের দিকে কোথাও আবার চলমান। কয়েকদিন পরে রং তুলির কাজ করা হবে বলে জানা গেছে।

বেড়া বাজারের কয়েকজন ডেকোরেটর ব্যবসায়ীরা জানান, পূজার গেট-প্যান্ডেল তৈরী কাজের অর্ডার পেয়ে নতুন নতুন আইটেমের কাপর সংগ্রহ শুরু করছি।

পুজা শুরু হওয়ার ১০/১২ দিন আগে থেকে গেট-প্যান্ডেল বানানো শুরু করবো। গেট-প্যান্ডেল ও লাইটিং এর ধরন অনুযায়ী ২০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়ে থাকি। আর বড় অর্ডার পেলে লাখ টাকার বেশি বিল হয়।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বেড়া উপজেলা শাখার সভাপতি ভৃগু রাম হালদার জানান, এবার বেড়া উপজেলায় মোট ৪৫ টি পূজামন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

গত বছর ৫৫ টি মন্ডবে পূজা হয়েছিল মূলত করোনার কারনেই এবার ১০ টি মন্ডবে হচ্ছে না পূজা।

এবারের পূজায় মায়ের কাছে আমাদের প্রার্থনা থাকবে সারা পৃথিবীকে যেন মা দূর্গা করোনা মুক্ত করে দেয়।

সাঁথিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুশীল কুমার দাশ জানান, সাঁথিয়া উপজেলায় এ বছর ৪৩ টি পূজামন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
করোনার কারনে এবার কয়েকটি মন্ডবে পূজা হচ্ছে না। তবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ও সরকারের বিধি মোতাবেক পূজা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে তিনি জানান।

আইনশৃঙ্খলার অবস্থা বিষয়ে বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাশেম আজাদ ও সাঁথিয়া থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শারদীয় দূর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায় যেন স্বাস্থ্য মেনে নির্বিঘ্ন ও আনন্দ মুখর পরিবেশে পালন করতে পারে তার জন্য তারা সর্বাত্বক ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানিয়েছেন।

প্রত্যেকটি মন্দিরে আনসার বাহিনীর সদস্যসহ পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ২৪ ঘন্টা সজাগ ও সর্তক পাহাড়ায় থাকবে বলেও জানান তাঁরা।