মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বেড়া-সাঁথিয়ায় পেঁয়াজ রোপণের দিনমুজুর শিক্ষার্থীরা!

আরিফ খাঁন, বেড়া, পাবনা : পেঁয়াজের কৃষি প্রধান অঞ্চল হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি আছে পাবনার বেড়া-সাঁথিয়া উপজেলা।

দুই উপজেলায় বেশিরভাগ ফসলি জমিতে হালি পেঁয়াজের চাড়া রোপন শুরু করেছেন কৃষকেরা। এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকারী ফসল হিসেবে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষকে বেছে নিয়েছেন।

বেড়া-সাঁথিয়ার কৃষকেরা এখন পেঁয়াজের চাড়া রোপণ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। এই রোপণ চলবে পুরো জানুয়ারী মাস জুড়ে। এই প্রচন্ড শীতে এ কাজে বড় শ্রমিকদের সাথে কাজ করছে দুই উপজেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্ররা।

কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মওসুমে দুই উপজেলায় ২১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে হালি পেঁয়াজ রোপণের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (০৭ জানুয়ারি) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বেড়া উপজেলার ছোন্দাহ বিলে পেঁয়াজের চাড়া পেঁয়াজ রোপণ করতে দিন মুজুর হিসাবে কাজ করছে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ছাত্ররা। প্রতিটি পেঁয়াজ রোপণের জমিতে প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে।

দিনমুজুর হিসাবে পেঁয়াজের চাড়া রোপণ করতে আসা বেড়া উপজেলার বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র আলিম বলেন, জেএসসি পরীক্ষা দিয়ে ৯ম শ্রেনীতে উঠেছি জানুয়ারী মাসে ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রী কম হয় তাই বাড়তি কিছু টাকা রোজগার করে সংসারে সচ্ছলতা আনার জন্য এ কাজ করছি।

সাঁথিয়ার পুন্ডুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র আজাদুল বলেন, আমি পিএসসি পরিক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে পাশ করে পুন্ডুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছি। ক্লাসে কেউই ঠিকমত যাচ্ছে না তাছাড়াও স্কুলের ড্রেস, জুতা, গাইড কিনতে হবে তাই কয়েক দিন কাজ করছি।

সজীব জানান, তাদের মত আরো অনেক ছাত্রই দিন প্রতি ৪০০ টাকা করে এবং বড় মানুষেরা ৪৫০ টাকা করে কাজ করছে। দিনে তিনবেলা খাওয়ার মাধ্যমে দিনমুজুর হিসাবে সবাই কাজ করে। সজীব আরও বলেন, এ বছর পেঁয়াজ লাগানোর কাজ করে আমি একখান সাইকেল কেনবো।

বেড়া কলেজ ছাত্র সিপন বলেন, গতবছর পেঁয়াজ রোপণের মৌসুমে ১০হাজার টাকা রোজগার করেছিলাম আর এবারের মৌসুমেও ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা রোজগার করতে চাচ্ছি। আর এই রোজগারকৃত টাকা দিয়ে এবারে একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও জামা কাপড় কিনবেন বলে তিনি জানান।

পরিশ্রমের বিষয়ে জানতে চাইতেই সবাই জানান, সকালে কুয়াশার মধ্যে পেঁয়াজের চাড়া তুলতে কষ্ট হয়। তাছাড়া লাগানোর সময় গল্পে গল্পে কখন যে দিন চলে টেরই পাইনা।

বেড়া উপজেলার চাকলা গ্রামের কৃষক আরজান মোল্লা বলেন, এবারে ১৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করব আর ইতিমধ্যে ৪ বিঘা জমিতে রোপণ করেছি।

তিনি আরো জানান, প্রতি বিঘা জমিতে এই পেঁয়াজের চাড়া রোপণ করতে ১৩ থেকে ১৪ জন দিনমুজুর লাগে আর এদের মধ্যে বর্তমানে বেশিরভাগই স্কুল কলেজের ছাত্ররা কাজ করছে।

প্রতি বিঘাতে খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। তবে গত বছরের থেকে এ বছর ৫-৭ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে ও পেয়াজের দাম বেশির কারণে কৃষকরাও পেঁয়াজ বেশি রোপণ করছে। পেয়াজ তিন মাসের ফসল দামও বেশি তাই পেঁয়াজ রোপণে আগ্রহী সব কৃষকেরা ।

লিপু নামে অন্য আরেকজন কৃষক বলেন, গ্রাম অঞ্চলের ছাত্ররা শ্রমিকদের চেয়ে এ কাজ ভাল পারেন এবং মুজুরীও তাদের থেকে একটু কম তাই এ কাজে ছাত্রদের দিনমুজুর হিসাবে কাজে নেই তাড়াও আগ্রহের সাথে কাজ করে তারা।

এই পেঁয়াজ রোপণের মৌসুমে রংপুর, বগুড়া, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত মানুষ দিনমুজুর হিসাবে এই পেঁয়াজের চাড়া রোপণ কাজের জন্য কাশিনাথপুর হাটে আসেন। সেই হাট থেকে কৃষকরা শ্রমিকদের মুজুরি চুক্তিকরে নিয়ে এসে কাজ করান।

বেড়া উপজেলার বঙ্গবন্ধু আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানিক হোসেন বলেন, আমাদের গ্রাম অঞ্চলের সব ছাত্ররাই কৃষক পরিবারের। অনেক ছাত্ররা তাদের নিজেদের পেঁয়াজ রোপণেই ব্যাস্ত। তাই এই পেয়াজ লাগানোর মৌসুমে সকল স্কুল কলেজেই ছাত্রদের উপস্থিতি একেবারেই কম হয়। পুরো জানুয়ারী মাসেই ছাত্রদের উপস্থিতি কম থাকবে।

বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মশকর আলী ও সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব কুমার গোস্বামী জানান, সঠিক ভাবে রোপণ, পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের চেয়েও এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হবে।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!