বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ১০:০২ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বেড়েছে আত্মবিশ্বাস

খুব বড় কোনো টুর্নামেন্ট এটি ছিল না। র‌্যাংকিংয়ের ১২ নম্বর দল আয়ারল্যান্ড আর বিশ্বকাপ স্কোয়াডের তুলনায় খর্বশক্তির উইন্ডিজ নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ। উভয় প্রতিপক্ষকেই গত কয়েক বছরের সবক’টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজে হারিয়েছেন মাশরাফিরা; ফেভারিট ছিল তাই বাংলাদেশই। আদতে শিরোপাজয়ও এখানে মুখ্য ছিল না, ছিল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শানিত করার বৃহৎ লক্ষ্য। কিন্তু আপাত ‘নিরীহ প্রকৃতি’র এই ত্রিদেশীয় সিরিজই ছিল পাহাড় ডিঙানোর চ্যালেঞ্জের সমান। যে দল বিগত দশ বছরে টানা ছয়টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে হেরেছে, যে দল সপ্তাহ দুয়েক পর ইংল্যান্ডের মাটিতে নিজেদের সামর্থ্য জানান দেওয়ার স্বপ্নে বিভোর- সে দলের জন্য একটি ট্রফি জয় ছিল ফাইনালের ‘বড় ফাঁড়া’ কাটানো আর ‘বিশাল’ বিশ্বকাপের জন্য আত্মবিশ্বাস জোগানোর মাধ্যম।

১৭ মে, আয়ারল্যান্ডের বিকেল আর বাংলাদেশের মধ্যরাত- ডাবলিনে দেশের ইতিহাসের দারুণ সেই কীর্তিটিই গড়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজারা। উইন্ডিজকে ডিএল মেথডে ৫ উইকেটে হারিয়ে সৌম্য-মোসাদ্দেকরা জিতিয়েছেন ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল আর বাংলাদেশ জিতেছে ওয়ানডে টুর্নামেন্টের প্রথম ট্রফি। মাইলফলকের এ জয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উচ্ছ্বাসে ভেসেছে সারাদেশ, উদ্বেলিত হয়েছেন ক্রিকেটাররাও। তবে ত্রিদেশীয় সিরিজের এই সমাপ্তি থেকেই শুরু নতুন চ্যালেঞ্জের। ৩০ মে ইংল্যান্ডে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ। ২ জুন দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের মিশন। রাউন্ড রবিন লীগ পদ্ধতির কারণে এবার ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকছে নূ্যনতম ৯টি। পয়েন্ট তালিকায় এগিয়ে থেকে দশ দলের মধ্যে সেরা চারে থাকা তাই অসম্ভবও নয়। আয়ারল্যান্ডের মাটিতে বহুজাতিক টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সে স্বপ্ন এখন দ্বিগুণ গতিতে ডানা মেলছে। অধিনায়ক মাশরাফি অবশ্য ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়কে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর টনিক মানলেও বিশ্বকাপ প্রত্যাশায় বাস্তবতার লাগামও টানতে চাইছেন। ট্রফি নিয়ে দলীয় ও একক ছবির উৎসব শেষে বলেন, ‘এ জয়ে আমাদের এখন নিজেদের ওপর বিশ্বাস আরও পোক্ত হলো। তবে বিশ্বকাপের সঙ্গে এটার তুলনাই চলে না। অন্তত তিন গুণ কঠিন হবে বিশ্বকাপ।

প্রতিটি মাঠ, প্রতিপক্ষ, পরিস্থিতি সব সামলে দীর্ঘ সময় ছন্দে থাকা খুবই কঠিন হবে।’ বিশ্বকাপের সেই কঠিন চ্যালেঞ্জে ঝাঁপ দেওয়ার আগে মাশরাফি আপাতত কয়েক দিনের বিশ্রাম পাচ্ছেন। ডাবলিনের ম্যালাহাইডে দলের সঙ্গে মাঠে শিরোপা উদযাপন করেই এয়ারপোর্টে ছুটে গেছেন অধিনায়ক। দিন চারেক থাকবেন দেশে। তারপর ইংল্যান্ডে উড়ে গিয়ে যোগ দেবেন দলের সঙ্গে। মাশরাফির মতো এ দিন দল ছেড়ে গেছেন তামিম ইকবালও। বাঁহাতি ওপেনার গেছেন দুবাইয়ে। দলের সঙ্গে কার্ডিফে যোগ দেবেন বৃহস্পতিবার। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা বাকি ১৩ জন অবশ্য গতকালই ডাবলিন ছেড়ে ইংল্যান্ডের লেস্টারশায়ারে চলে গেছেন। সাকিব-মুশফিকরা সেখানে চার দিনের ক্যাম্প করে বৃহস্পতিবার যাবেন কার্ডিফে। আগামী রোববার ওয়েলসের এ শহরেই হবে বিশ্বকাপ ওয়ার্মআপের প্রথম ম্যাচ, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। দু’দিন পর একই মাঠে প্রতিপক্ষ ভারত। সে অর্থে বলা যায়, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হয়ে গেছে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল শেষের মধ্য দিয়েই। যে সিরিজের টানা ম্যাচে জয়ে, ফাইনালের বড় রান তাড়ায় আর শিরোপা জয়ে দিয়েছে একরাশ আত্মবিশ্বাস আর সম্ভাবনা।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!