শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ০৯:৫৪ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

‘বৈঠকে বিএনপির বৃহত্তর ঐক্য গঠনের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি’

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনসহ কয়েকটি দলের নেতাদের যৌথ বৈঠক শেষ হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় বৈঠকে বসেন তারা। রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে বৈঠক শেষ হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, জাতীয় ঐক্যের জন্য একটি ঘোষণাপত্র তৈরি করা হবে। ঘোষণাপত্র তৈরিতে একটি সাব কমিটি করা হচ্ছে। চার সদস্যের কমিটি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সম্ভাব্য কমিটিতে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন ও নাগরিক ঐক্যের নেতা জাহিদুর রহমানকে সদস্য করা হতে পারে।

বৈঠকে জেএসজি ও নাগরিক ঐক্যের পক্ষ থেকে ৭ দফা করে পৃথক পৃথক প্রস্তাব সভায় উত্থাপন করা হয়। ঘোষণাপত্রের জন্য কমিটি গঠন শেষ হলে ওই কমিটি প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব আবদুল মান্নান, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ আরও অনেকে।

সম্প্রতি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠন প্রক্রিয়া বেশ আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ জোরেশোরেই আলোচনা হচ্ছে বিএনপির জাতীয় ঐক্য গঠনের কথা।

এ দলগুলো এর আগেও একাধিকবার বৈঠকে বসেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের বৈঠক হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সংবিধানপ্রণেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, বিভিন্ন জোটের সমন্বয়ে ‘জাতীয় যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের পরিকল্পনা অনেকটাই এগিয়েছে।

তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে সরিয়ে দিলেই জাতীয় ঐক্য ফলপ্রসূ হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থেই বিএনপি এখন জামায়াতকে ত্যাগ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বি. চৌধুরী জানান, জাতীয় ঐক্যের জন্য যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরাম একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেজন্য চার সদস্যের সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা পরবর্তী কর্মসূচি বিষয়ে জানাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বৈঠকে বিএনপির বৃহত্তর ঐক্য গঠনের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’

এ সময় বিএনপির নেতৃত্বে বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকেও দেখা গেছে। তবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, এমন কাউকে দেখা যায়নি।

এর আগে বিকেলে বি. চৌধুরীর বাসায় যুক্তফ্রন্ট তাদের নিজেদের মধ্যে আলাদা বৈঠক করে। এরপরই তারা ড. কামাল হোসেনের বাসায় বৈঠকে মিলিত হন।

বৈঠক সূত্র জানায়, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে এই বৈঠকে সাতটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

এতে বলা হয়েছে, জাতির ক্রান্তিলগ্নে জাতীয় স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য স্বাধীনতাবিরোধী দল ছাড়া সব সমমনা অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দলসমূহের ঐক্য জরুরি

এছাড়া বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সভা-সমিতির স্বাধীনতা নিশ্চিত করা; আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা-বিচার বিভাগের স্বাধীনতা; নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করা; রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করার জন্য সংসদ ও সরকারের ভারসাম্য নিশ্চিত করা; নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা ও নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া; প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রিসভা বাতিল ঘোষণা; এই মুহূর্তে থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো দলের কর্মীকে গ্রেফতার করা যাবে না এবং তফসিল ঘোষণার আগে সকল ছাত্রছাত্রী ও রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির বিষয়টি প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিগত কয়েক মাস ধরেই জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছিলেন ড. কামাল হোসেন। তার সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের তিনটি দল ঐক্যমত পোষণ করেছে।

অন্যদিকে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপিও বৃহত্তর ঐক্য গড়ার কথা বলছে। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরাসরি এটি দেখভাল করছেন।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!