বৈরী আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ লিচু চাষীরা

da74b4746a1f5d5d627df7f70e244e59স্টাফ রিপোর্টার ঈশ্বরদী : লিচু উৎপাদনের অন্যতম এলাকা হিসেবে পরিচিত ঈশ্বরদী। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে রসালো ও সুস্বাদু ফল লিচুতে দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। এবার ঈশ্বরদীর বাগানগুলোতে লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছে লিচু চাষীরা।

জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৭০টি গ্রামে শত শত লিচুর বাগান রয়েছে। এর সঠিক পরিসংখ্যান কোনো দফতরেই নেই। ফলে তথ্য যা পাওয়া যায় তা বেসরকারিভাবে সংগৃহীত।

কথা হয় ঈম্বরদীর আওতাপাড়া গ্রামের আলাউদ্দিন বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি জানান, তার ৪টি বাগানে প্রায় ২শ’টি গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে গড়ে প্রায় ১০ হাজার লিচু ধরে। গত বছর ভাল মানের লিচু বিক্রি হয়েছে। প্রতি হাজার ২৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। বাগান হিসেবে বিক্রি করলেও প্রতিটি বাগান ৮ থেকে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। এসব বাগানে কমপক্ষে ৫০টি করে গাছ থাকে। লিচুর গুটি আসার পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে ফল কেনা শুরু করেন। এসব বাগান পাহারা দেয়া, পরিচর্যা করার দায়িত্বও ক্রেতার। সুতরাং লিচু বাগানের মালিকদের তেমন কোনো পরিশ্রম নেই।

কিন্তু চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত খরায় লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে লিচু ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা বেড়ে গেছে। তারা লাভ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত।

ব্যবসায়ী (বাগান ক্রেতা) আতিকুর রহমান, জমসেদ আলী, রওশন ব্যাপারি প্রমুখ বেশ হতাশা ব্যক্ত করে বললেন, শুধু বিরূপ আবহাওয়ার কারণে এবার লিচু ব্যবসায় ধস নামতে পারে। কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে লিচু ফাটা ও ঝরা বন্ধ হবে না।

গত বছর এই উপজেলায় প্রায় আড়াইশ’ কোটি টাকার লিচু কেনাবেচা হয়েছে। ঈশ্বরদীর লিচু রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়।

কৃষিবিদ হাসান উর রহমান ঈশ্বরদীতে লিচু উৎপাদনের সফলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে এ ধরনের অর্থকরী ফসলের উপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে। চাষীদের আরো সচেতন করতে পারলে এবং আবহাওয়া বৈরী না হলে প্রতি বছর এই খাত থেকে যে আয় হবে তা থেকে শত শত কৃষক উপকৃত হবেন।