বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ১২:৫৩ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ব্রিটিশ আমলের ঈশ্বরদী জংশনে লাগছে উন্নয়নের ছোঁয়া

image_pdfimage_print

পাবনা প্রতিনিধি : ব্রিটিশ আমলের পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে জংশন ঈশ্বরদীতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাথে নতুন রেলপথ স্থাপন, লাইনের সংস্কার, পুননির্মাণ, প্লাটফর্মের আধুনিকায়ন, প্লাটফর্ম ও শেডের সংস্কার, যাত্রীদের বিশ্রাম, বসবার জায়গা, আধুনিক টয়লেট, সিগন্যাল, রেলওয়ে ইয়ার্ড কম্পিউটারাইজড নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। দীর্ঘদিন পর হলেও এই উন্নয়নের ছোঁয়া পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রেলওয়েতে যাতায়াতকারী যাত্রীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

তবে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন হলেও অভিযোগ রয়েছে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও প্রকল্প সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোন তথ্য প্রকাশ না করে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে পাকশীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দুর্নীতির ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে সরকারের জনকল্যাণ উদ্দেশ্যে অসৎ থাবা বসিয়েছেন। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী।

ব্রিটিশদের শাসনামলে তাদের পরিকল্পনায় গড়ে তোলা হয় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে জংশন ও স্টেশন। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর থেকে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের ছোঁয়া পড়েনি এই জংশন স্টেশনে।

পুরাতন বিল্ডিং, ট্রেনের উচ্চতার চেয়ে কয়েক ফিট নিচু প্লাটফর্ম, ছাউনি ফুটো, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, নোংরা টয়লেট ও যাত্রীদের বসবার স্থান, লাইনগুলো অতি পুরাতন ও নড়বড়েসহ মাদকাসক্ত, চোর ও ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য, প্রতারকদের নিরাপদ আশ্রয়সহ নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আশ্রয় ছিল ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশন এলাকা।

প্রতি বছর যাত্রীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করা হলেও বাড়েনি যাত্রী সেবার মান। সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয় ৩৩৫ কোটি টাকার ‘রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নতুন রেললাইন নির্মাণ, নতুন রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন, রেললাইন সংস্কার, প্লাটফর্ম সংস্কার, যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষে টয়লেটের আধুনিকায়ন, রেলওয়ে স্টেশনে ইয়ার্ড ডিজিটালাইজকরণ’সহ নানামুখী যুগোপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

রেললাইন নির্মাণ, প্লাটফর্ম উচুঁকরণ, ওয়াল নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে শ্রমিকেরা নিয়োজিত রয়েছে। তবে সেখানে রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট বা কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই কাজগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে তেমন কোন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি।

ইটের গাঁথুনি, ঢালাই, রড সোজা করা, বালু ও ইট টানা এমন কি ওয়েল্ডিং মেশিন চালানোর সাথে সম্পৃক্ত একাধিক শ্রমিকের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও তারা কোন কথা বলতে রাজি হননি। তাদের দাবী, আমরা এখানে শ্রমিক। কোন কথা বলা যাবে না। কাজ করতে এসেছি, কাজ করছি। কথা বলার দরকার হলে বসরা আছেন, তাদের সাথে আলাপ করতে হবে।

নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বালু, ইট, রডসহ নির্মাণ সামগ্রী অধিকাংশই নিম্নমানের। কিন্তু এখানে দেখার বা বলার কেউ নেই এমন অভিযোগ স্থানীয় সচেতন বাসিন্দাদের। তাদের অভিযোগ, কাকে জিজ্ঞাসা করবো আর কে এই নিম্নমানের কাজের জবাব দেবেন।

এ ব্যাপারে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আসাদুল হক বলেন, এই স্টেশনের বিদ্যমান সমস্যা সম্প্রতি রেলওয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেখে গেছেন। মূলত তাদের কারণেই আজ এই স্টেশনে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে এই স্টেশনে সকল ধরণের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মান্ধাতামলের এনালগ প্রযুক্তি বাতিল করে কম্পিউটারাইজড ও ডিজিটাল ভাবে পুরো ইয়ার্ড ও স্টেশন এলাকাকে প্রযুক্তি নির্ভর করা হবে। পুরো ইয়ার্ডকে ডিজিটাল রূপান্তর করে একটি কক্ষের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

নির্মাণ কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমার কাছে নেই। এ ধরণের অভিযোগ পেলে তার খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৮৭৮ সালে ব্রিটিশরা তৈরি করে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন।

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!