বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২০, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভাঙ্গুড়ার সেই মেধাবী তৃষার বাড়িতে উপহার নিয়ে গেলেন ইউএনও

ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : ‘এ যেন গোবরে পদ্মফুল ভাঙ্গুড়ার তৃষা’ শিরোনামে নিউজ পাবনা ডটকম অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর সেই মেধাবী তৃষার বাড়িতে গেলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দ আশরাফুজ্জামান।

আজ শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তৃষা পারভীনের বাড়ি পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলীপাড়াতে ফুলের তোড়া ও বই নিয়ে হাজির হন ইউএনও। এসময় তার সাথে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ হালিমা খানম ও উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোঃ জাহিদুল ইসলাম।

ইউএনও আশরাফুজ্জামান সদ্য এমবিবিএস এ ভর্তি পরীক্ষায় হবিগঞ্জ মেডিকেলে চান্স পাওয়া তৃষা পারভীনের হাতে ফুলের তোড়া ও একটি বই উপহার হিসেবে তুলে দেন।

এসময় তিনি বলেন, তৃষা শুধু পাটুলীপাড়ার গর্ব নয়, সে উপজেলার গর্ব। আমরা তার সাফল্যে গর্ববোধ করি। অভাবের মধ্যে থেকেও যে পড়ালেখা করে ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব এবং যে কেউ কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে তৃষা পারভীন এমনই এক উদাহরণ।

এসময় তিনি তৃষা পারভীনের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে সমাজের বিত্তবানদের এমন মেধাবীদের পাশে দাড়ানোর আহবান জানান।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সমাজে অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি রয়েছেন তারা যদি অসহায় দরিদ্র মেধাবীদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়ান তাহলে এমন হাজারোটা তৃষার জন্ম হতে পারে।

জানা গেছে, দারিদ্রের সাথে লড়াই করে সেই দারিদ্রকে হার মানিয়ে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের এববিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ৩৮৬২তম হয়ে হবিগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ করে নিয়েছে ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাটুলীপাড়া গ্রামের তৃষা পারভীন । তার ডাক নাম রুসনা।

পিতা মজিবর রহমান তার পেশা কৃষি। মাতা গৃহিনী। তাদের সামান্য যে ভুমি আছে সেখানে তার পিতা বিভিন্ন ধরনের সবব্জি উৎপাদন করে বাজারে বিক্রিয় করে তাদের সংসার চলে । ৫ ভাইবোনের মধ্যে তৃষা পারভীন সবার ছোট।

দারিদ্রতার কারণে তার পরিবারে কেউই তেমন একটা পড়া লেখা করার সুযোগ পাননি। তাই পিতা মজিবরেরও খুব একটা ইচ্ছা ছিল না যে সর্বছোট মেয়েটি পড়া লেখা করুক।

কিন্তু তার দুই ভাই অর্থাভাবে পড়া লেখা করতে না পারলেও পড়া লেখার মর্ম কি তা উপলব্ধি করত এবং ছোট বোন তৃষাকে পড়ার লেখা করার উৎসাহ দিত। সেই উৎসাহ পেয়ে তাদের পরিবারের সেই ছোট বোনটির এখন ডাক্তার হবার স্বপ্ন পুরণ হতে চলেছে।

তৃষা বাল্যকাল থেকেই ছিল অসাধারণ মেধাবী। সারুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল । এরপর ভাঙ্গুড়া মমতাজ মোস্তাফা আইডিয়াল স্কুল থেকে জিপিএ পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এরপর সরকারি রাজশাহী মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।

তৃষা পারভীনের বড় ভাই আলামিন বলেন, আমাদের আদরের ছোট তৃষা পারভীন এবার ডাক্তারী পড়ার সুযোগ পেয়েছে। এতে আমরা সকলে একদিকে যেমন আনন্দিত অন্য দিকে ভর্তি বাবদ যে টাকা লাগবে কিভাবে সেই টাকার জোগাড় করবো সেই চিন্তাও আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলছে।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!