শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৮:০২ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভাঙ্গুড়ায় গোমানী নদীর ওপর সেতুর কাজ ১১ বছরেও শেষ হয়নি

ভাঙ্গুড়ার নৌবাড়িয়ায় গোমানী নদীর ওপর সেতুর কাজ ১১ বছরেও শেষ হয়নি

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : দুই সরকারের আমলে দুবার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। দরপত্র আহ্বান করা হয় আটবার। চারবার ঠিকাদার পরিবর্তন করা হয়। এরপরও বন্ধ রয়েছে নির্মাণকাজ। ১১ বছর ধরে চলছে এ ঘটনা।

এ সময়ের মধ্যে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার নৌবাড়িয়া নতুনপাড়া ঘাটে গোমানী নদীর ওপর নৌবাড়িয়া সেতুর নির্মাণকাজ অর্ধেকও শেষ হয়নি। এ কারণে পাবনা ও সিরাজগঞ্জের চার উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকাটি দুগ্ধশিল্প, কৃষি ও বাণিজ্যপ্রধান। নদীর এপারে পাবনার চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা সদর, ওপারে ভাঙ্গুড়ার কিছু অংশসহ সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও উল্লাপাড়া উপজেলা।

পাবনা অঞ্চলের বাসিন্দারা নদী পার হয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও ঢাকায় যাতায়াত করেন। তাড়াশ ও উল্লাপাড়ার বাসিন্দারা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কাজে পাবনায় আসেন।

এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৬ সালে বিএনপি সরকার এ নদীর ওপর সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে নির্মাণকাজের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০০৬ সালের ১৯ অক্টোবর বিএনপির স্থানীয় সাংসদ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম প্রথম সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রথম দফায় ২ কোটি টাকার কাজ শুরু হয়। কিছু কাজও হয়। হঠাৎ কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার চলে যান।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১২ সালের ১৭ মে দ্বিতীয় দফায় আবার সেতুটি নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় সাংসদ মকবুল হোসেন। আবার কাজ শুরু হয়। কিন্তু কয়েক দিন পর আবারও ঠিকাদার উধাও হন।

এলজিইডির ভাঙ্গুড়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দফা বরাদ্দ বাড়িয়ে ১৮০ দশমিক ২৫ মিটার দীর্ঘ এ সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা। প্রথম দফায় ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ নিয়ে মাত্র দুটি স্তম্ভ নির্মাণ করে চলে যায়।

২০০৭-০৮ অর্থবছরে নাটোরের একটি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে এবং কিছু কাজ করে চলে যায়। ২০১২ সালে আমিন ট্রেডার্স নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান কাজ নেয়। ২০১৩ সালের শুরুর দিকে কিছুদিন কাজের পর তারাও চলে যায়। সেতুটি নির্মাণের জন্য মোট আটবার দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু কোনো ঠিকাদারই কাজ শেষ করেননি।

৩ মে সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর দুই পাশে সেতুর দুটি দেয়াল ও মাঝে চারটি পিলারের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ভাঙ্গুড়া অংশের দেয়াল থেকে তিনটি পিলার পর্যন্ত বিম (পাটাতনের নিচের অংশ) নির্মাণের পর কাজ বন্ধ রয়েছে। সেতুর নিচে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা দুই পারের বাসিন্দা, সাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশাভ্যান ও মালামাল পার করছে।

নৌবাড়ি গ্রামের নাজমুল হুদা বলেন, প্রতিদিন দুই পারের হাজার হাজার মানুষ নদীর এপার-ওপারে যাতায়াত করেন। নৌকাই তাঁদের জন্য একমাত্র ভরসা। কোনো কারণে নৌকাটি না থাকলে পারাপার বন্ধ থাকে।

ভাঙ্গুড়া পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মিজানুর রহমান বলে, প্রতিদিন কয়েক শ শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে যাতায়াতের জন্য নদী পার হয়। বর্ষার সময় নদী পানিতে থইথই করে। তখন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়। কয়েকবার শিক্ষার্থীদের নিয়ে নৌকাডুবির ঘটনাও ঘটেছে।

ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, গোমানী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি ছিল। কিন্তু বারবার নির্মাণকাজ বন্ধ হওয়ায় সবাই এখন হতাশ।

এলজিইডির ভাঙ্গুড়া কার্যালয়ের প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘লোকসানের আশঙ্কায় বারবার ঠিকাদারেরা কাজ বন্ধ করেন। এরপরও আমরা কাজটি শেষ করার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সম্প্রতি ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকার নতুন কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। জেলার বেড়া উপজেলার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছে। আশা করি, খুব শিগগির কাজ শুরু হবে।’ তথ্য ও সূত্র : প্রথাম আলো

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!