মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ১১:৩৮ অপরাহ্ন

ভাঙ্গুড়া খাদ্যগুদামে পরিতোষের লুটপাট!

oc-lsdনিজস্ব প্রতিনিধি: ভাঙ্গুড়া উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে চাল, গম ও ভালো মানের খাদ্যশস্য সরিয়ে নিম্মমানের খাদ্যশস্য গুদামজাত করা হতো। তারপর সেগুলোকে পরিত্যক্ত দেখিয়ে আবার নতুন খাদ্যশস্য কেনার নামে চলত অর্থ লোপাট। এভাবে এই খাদ্যগুদামের এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে সেখানে লুটপাটের রাজত্ব চলেছিল বলে জানা গেছে।

গত ২৮ জুলাই খাদ্যগুদামের ৩০০ বস্তা গম সরানোর সময় স্থানীয় লোকজন গুদামের এক কর্মকর্তাকে আটক করেন। পরে ঘটনার সত্যতা মেলায় তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করে গুদাম সিলগালা করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

অন্যদিকে গুদামের দীর্ঘদিনের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আটক কর্মকর্তা হলেন খাদ্যগুদামের স্থানীয় সরবরাহ কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ওই কর্মকর্তা বেশ কিছুদিন ধরেই খাদ্যগুদামের চাল ও গম চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি কিছু ব্যবসায়ীর যোগসাজশে খাদ্যগুদাম থেকে ভালো মানের চাল ও গম সরিয়ে নিম্নমানের চাল ও গম রেখে দিতেন।

গুদামের চাল ও গম চুরি করে বাইরে বিক্রিও করতেন। গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় তিনি দুটি ছোট ট্রাকে করে ৩০০ বস্তা গম গুদাম থেকে সরাচ্ছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ভাঙ্গুড়া পৌরসভার মেয়র ও ভাঙ্গুড়া থানার পুলিশকে জানান।

তারা ঘটনাস্থলে এসে হাতেনাতে দুই ট্রাক গমসহ ওই কর্মকর্তাকে আটক করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গুড়ার ইউএনও শামসুল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ওই কর্মকর্তা গম চুরির কথা স্বীকার করেছেন। প্রাথমিকভাবে ওই খাদ্যগুদামের ছয়টি ঘরের মধ্যে মাত্র একটি গুদামঘরের চাল ও গমের বস্তা গণনা করা হয়েছে। সেখানে ১৪০ বস্তা গম কম পাওয়া গেছে। পরে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের পর ওই কর্মকর্তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

পাচারের সময় ৩শ বস্তা গম আটক

পাচারের সময় ৩শ বস্তা গম আটক

ইউএনও শামসুল আলম বলেন, ভাঙ্গুড়া খাদ্যগুদাম নিয়ে আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। ফলে ছয়টি গুদামঘরই সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোস্তাক আহম্মেদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উপজেলার পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই কর্মকর্তা বেশ কিছুদিন ধরে উৎকৃষ্ট মানের খাদ্য পাচার করে নিন্মমানের খাদ্য গুদামজাত করছিলেন। এ ছাড়া চাল ও গম ক্রয় সিন্ডিকেটের সঙ্গেও জড়িত তিনি। তিনি নিজের পছন্দ করা নির্ধারিত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাল-গম সংগ্রহ করেন। আবার তাঁদের মাধ্যমেই গুদাম থেকে সেগুলো পাচার করেন।

ভাঙ্গুড়া পৌরসভার মেয়র গোলাম হাসনাইন বলেন, ‘আমরা এত দিন ভাবতেও পারিনি যে খাদ্যগুদামে এমন কারসাজি চলছে। তবে পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি যে মাঝেমধ্যেই গুদাম থেকে চাল-গম সরানো হতো।

গুদাম কর্মকর্তা ধরা পড়ার আগের রাতে নৌকায় করে প্রায় ৯০০ বস্তা গম সরানো হয়েছে বলে জেনেছি। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই। সেই সঙ্গে ওই কর্মকর্তাসহ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও শাস্তির দাবি জানাই।’

তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা আগামী সপ্তাহ থেকে তদন্তকাজ শুরু করব।’

0
1
fb-share-icon1


শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের প্রিন্স অফ পাবনা

Posted by News Pabna on Thursday, February 18, 2021

© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!