ভাঙ্গুড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে

ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকট ও নানা অনিয়মের কারণে চিকিৎসা সেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে।

এখানে স্বাস্থ্য প্রশাসকসহ ১৫টি মেডিক্যাল অফিসারের পদ থাকলেও উপজেলার দেড় লাখ অধিবাসীর জন্য কর্মরত ডাক্তার রয়েছেন মাত্র চার জন।

প্রায় তিন মাস পূর্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. শাহাদত হোসেন পদোন্নতি নিয়ে অন্যত্র বদলি হন। কিন্তু এ পর্যন্ত সেখানে কাউকে পদায়ন করা হয়নি।

এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এখানে এগারটি মেডিক্যাল অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে ১৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকেও মেডিকেল অফিসারের সার্ভিস বন্ধ রয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরীণ এবং বহি:বিভাগের রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। সার্জন ও অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার না থাকায় প্রসূতি মায়েরাও উপযুক্ত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জানা গেছে, বেশির ভাগ সময় জরুরী বিভাগে একজন মেডিক্যাল অফিসারও থাকেন না। দু’জন উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার ও নার্সরা ওয়ার্ড ও বহি:বিভাগ চালান।

স্থানীয় অধিবাসীরা অভিযোগ করেন ডাক্তার সংকটে সম্প্রতি পারভাঙ্গুড়া গ্রামের একজন নারী চিকিৎসা অবহেলায় মারা গেছেন।

এক বছর আগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ বেড থেকে ৫০ বেডে উন্নীত করা হলেও আজ পর্যন্ত এর প্রশাসনিক অনুমোদন মেলেনি। একারণে অতিরিক্ত কোনো সুবিধাই এখানকার রোগীরা পাচ্ছেন না।

এদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদটি দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় হাসপাতালটি অনিয়মে ভরে গেছে বলেও ভুক্তভোগীরা জানান।

রোগীদের মানসম্মত খাবার দেযা হয়না। স্টোরের সিংহ ভাগ ওষুধ বাইরে চলে হয়। এক্স-রে মেশিনের ফিল্ম নেই। প্যাথলজিক্যাল টেস্টে গোঁজামিল দিয়ে রিপোর্ট তৈরি করা হয়।

এছাড়া অফিসের কর্মচারীরা ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে টাকা লোপাট করছেন। পরিবার পরিকল্পনা অফিসেও ব্যাপক অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা বলেন অভিযোগ গুলো সঠিক নয় তবে ৫০ বেডের হাসপাতালের প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছেন না। আর চিকিৎসকের অভাবে এসব সংকট আরো প্রকট হয়ে উঠেছে।