শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৩:০৫ অপরাহ্ন

ভারতীয় সাহাবী হজরত তাজ উদ্দিন রাদিআল্লাহু আনহু


।। এবাদত আলী।।
ইসলামের ইতিহাস হতে জানা যায় মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) এর আগমণের প্রাক্কালে সমগ্র আরব ভুভাগ ছিলো অন্ধকারাচ্ছন্ন। সেই যুগকে বলা হতো আইয়ামে জাহেলিয়ার যুগ। অপরদিকে ভারতবর্ষ সনাতন ধর্মাবলম্বী বা হিন্দু প্রধান দেশ হওয়ায় সেখানকার হিন্দু রাজাদের ছিলো একচ্ছত্র আধিপত্ত।

সেসময় ভারতের চন্ডিগড়ের প্রতিপত্তিশালী রাজা ছিলেন চেরুমল পেরুমল। তাঁর নিবাস ছিলো বর্তমান ভারতের কেরালা প্রদেশের মালাবার অঞ্চলের কোডঙ্গোলর এলাকায়। তিনি একাধারে ২৬ রছরকাল রাজা হিসেবে অধিষ্ঠিত ছিলেন। পুরো দক্ষিণ ভারতের ২ হাজার ৫ শ মাইলেরও বেশি এলাকা জুড়ে উপকুলীয় অঞ্চলে এ রাজ্যের সীমানা বিস্তৃত ছিলো।

৬১৭ খ্রিষ্টাব্দের কোন এক জোসনা রাতে রাজা চেরুমল পেরুমল রামা ভরমা ছাদে বসে চাঁদের আলোয় অবগাহন করছিলেন। হঠাৎ রাজা দেখলেন চাঁদটি দুখন্ড হয়ে গেলো এবং আবার তা একত্র হলো। এ ঘটনায় তিনি হতবিহবল হয়ে রাজ জ্যোতিষীকে তলব করে কারণ জানতে চাইলেন যে, চন্দ্র দেবতার এ দশা হলো কেন? রাজ জ্যোতিষী সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলেন। ঘটনাচক্রে একদল আরব ব্যবসায়ী তার রাজ্যে উপস্থিত হলে তিনি কথা প্রসঙ্গে সেদিন রাতের অভাবনীয় ঘটনা বর্ণনা করেন।

আরব বণিকেরা জানান যে, মহান সৃষ্টিকর্তার পক্ষ হতে আরবে একজন মহানবী ও রসুল আত্মপ্রকাশ করেছেন। তিনি একত্ববাদ প্রচার করেন। তিনি আল্লাহর আদেশে নিজ হাতে চন্দ্রকে দ্বিখন্ডিত করেছিলেন এবং পরে তা জোড়াও লাগিয়েছিলেন।

এই ঘটনা শোনার পর রাজা অভিভুত হন। তিনি সেই মহান ব্যক্তির সান্নিধ্য লাভের আশায় ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। এরপর রাজা রাজ্য ত্যাগ করে পবিত্র মক্কায় গিয়ে হজরত মোহাম্মদ (সা.) এর নিকট ইসলাম গ্রহণ করেন। সিদ্দিকে আকবর হজরত আবু বকর (রা.) সহ কয়েকজন সাহাবীর উপস্থিতিতে তাঁর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় হজরত তাজ উদ্দিন (রা.)।
প্রখ্যাত সাহাবী হজরত মালিক ইবনে দীনার (রা.) উনার বোন রাজিয়ার (রা.) সাথে সাহাবী তাজ উদ্দিন (রা.) এর বিয়ে দেন এবং সেখানে তিনি সাড়ে ৪ থেকে ৫ বছর অবস্থান করেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

এরপর মহানবী (সা.) এর মুবারক নির্দেশ মোতাবেক তিনি ভারতের উদ্দেশ্য রওনা হন। তাঁর সাথে হজরত মালিক ইবনে দীনার (রা.), স্ত্রী রাজিয়া (রা.) সহ আরো কজন সাহাবী ছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে দক্ষিণ-পুর্ব আরবের এক বন্দরে ( বর্তমানে ওমানের সালালাহ শহর) হজরত তাজ উদ্দিন (রা.)অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মাজার শরীফ ওমানের সালালা শহরে অবস্থিত।

ওদিকে হজরত মালিক ইবনে দীনার এবং তাঁর বোনসহ অন্যান্যরা ঠিকমতই কেরালায় পৌঁছেন। মৃত্যু আসন্ন বুঝতে পেরে সাহাবী হজরত তাজ উদ্দিন (রা.) তাঁর আত্মীয়স্বজনদের কাছে চিঠি লিখে পাঠান হজরত মালিক ইবনে দীনার (রা.) মাধ্যমে। তাাঁরা সেখানেই বসতি স্থাপন করেন। এর আগে থেকেই একদল আরব বণিকেরা তথায় আবাস ভুমি গড়ে তুলে বসবাস করছিলেন। সাহাবী মালিক ইবনে দীনার (রা.) সেখানে একটি মসজিদ নর্মিাণ করেন।
৬২৯ সালে মহা নবী (সা.) এর জীবদ্দশাতেই ভারতে প্রথম মসজিদ নির্মিত হয়। হজরত তাজ উদ্দিন (রা.) এর নির্দেশে কেরলের ত্রিসুর জেলায় সাহাবী হজরত মালেক বিন দিনার(রা.) সেই মসজিদটি নির্মাণ করেন। তখন থেকেই সেই মসজিদ এ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

প্রথম ভারতীয় সাহাবী হজরত তাজউদ্দি (রা.) মহা নবী হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের জন্য উপঢৌকন হিসেবে দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত আচার নিয়ে গিয়েছিলেন। ভারতীয় এক বাদশাহ কর্তৃক আদার সংমিশ্রণে তৈরি সেই আচার সংক্রান্ত একটি হাদীস শরীফ ও রয়েছে বলে জানা যায়। হাদীস সঙ্কলনকারি হাকিম রহমতুল্লাহি আলাইহে উনার ‘‘ মুস্তাদরাক ’’ নামক কিতাবে হাদীসটি সঙ্কলন করেছেন। হাদীস শরীফের বর্ণনাকারি সাহাবী হজরত আবু সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ভারতীয় সাহাবী তাজ (রা.) কে ‘‘মালিকুল হিন্দ” তথা ভারতীয় মহারাজ বলে সম্বোধন করেন। হজরত আবু সাঈদ সা’দ বিন মালিক বিন সিনান আল খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত ‘‘ভারতীয় মহারাজ রসুল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য এক বয়াম আচার নিয়ে আসলেন যার মধ্যে আদার টুকরা ছিলো। রসুল পাক সাল্লাল্লাহু আলআহি ওয়া সাল্লাম সেই টুকরাগুলো উনার সাহাবীদের ভাগ করে দিলেন। আমিও একটি টুকরা ভাগে পেয়েছিলাম।’’

(লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট/সদস্য পাবনা প্রেসক্লাব)।

0
1
fb-share-icon1


শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের প্রিন্স অফ পাবনা

Posted by News Pabna on Thursday, February 18, 2021

© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!