বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভারতের সেফ হোম থেকে ফিরে আসা ইনামুলের পরিবারকে পুনর্বাসন

গত ৩১ মার্চ ভারত থেকে মায়ের বুকে ফিরে আসে ইনামুল

image_pdfimage_print

হেলালুর রহমান জুয়েল; চাটমোহর, পাবনা : চার বছর পর ভারতের সেফ হোম থেকে ফিরে আসা পাবনার চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের সিহাব উদ্দিনের ছেলে ইনামুল হকের পরিবারকে পুনর্বাসন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেহেলী লায়লা।

মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) তাঁর দপ্তরে ইনামুলের পরিবারকে নিয়ে এসে সরকারে বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করেন। এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী খলিলুর রহমান, সাংবাদিক হেলালুর রহমান জুয়েল, রকিবুর রহমান টুকুনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘ চার বছর পর গত ৩১ মার্চ ভারত থেকে মায়ের বুকে ফিরে আসে ইনামুল (১৩)।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে ইনামুল ও তার বাবা-মা জানান, ৪ বছর আগে ৮ বছরের শিশু ইনামুল হক বেরিয়েছিল চালের খোঁজে। স্টেশনে গিয়ে ট্রেন দেখে ভুলে গিয়েছিল ক্ষুধার কথা। খেলার ছলে উঠে পড়েছিল সেই ট্রেনে। দালালের খপ্পরে পড়ে পাচার হচ্ছিল ভারতে। সীমান্তে ভারতীয় পুলিশ তাকে আটক করে।

ছেলেটির আশ্রয় মেলে শিলিগুড়ির একটি সেফ হোমে। এরপর সেখানেই কেটে যায় চার বছর। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেষ্টায় খোঁজ মেলে ইনামুলের। পরিচয় মিলতেই ভারতীয় সেফ হোম কর্তৃপক্ষ তাকে বাংলাদেশে পাঠায়। গত ৩১ মার্চ মায়ের কাছে ফিরে আসে সে।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামে এক আত্মীয়ের জমিতে ছোট্ট একটি টিনের ঘর নিয়ে ইনামুলদের বাড়ি। বাবা সিহাব উদ্দিন শ্রমজীবী। তবে অসুস্থতার কারণে এখন কাজ করতে পারেন না। মা সাজু বেগম গৃহিণী। সাত বছর বয়সী এক বোন আছে ইনামুলের।

পরিবারে নতুন সদস্য হিসেবে যোগ হয়েছে ২ মাস বয়সী এক ভাই। কিন্তু আয়ের কোনো উৎস নেই তাদের।

দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে শিলিগুড়ির বালুঘাটার একটি সেফ হোমে আশ্রয় মিলেছিল ইনামুলের। পড়ত পাশের প্রণবানন্দ বিদ্যাপীঠ স্কুলে। চার বছর আগে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি। এরপর চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরে আসে সে।

এমতাবস্থায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেহেলী লায়লা।

এনামুল ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ান সরকারি এই কর্মকর্তা। আজ মঙ্গলবার তিনি এনামুল ও মা-বাবাকে নিয়ে আসেন উপজেলা পরিষদে। ফৈলজানা ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ইউএনও শেহেলী লায়লা একটি ভিজিডি’র কার্ড তুলে দেন এনামুলের মা সাজু বেগমের হাতে।

তার বাবা সিহাব উদ্দিনকে নিয়োগ করে সরকারে অতি দরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচীর শ্রমিক হিসেবে। একই সাথে সদস্য করা হয় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের।

এজন্য বার্ষিক সঞ্চয়ের ২ হাজার ৪শ’ টাকা জমা দেন ইউএনও নিজেই। আগামী জুলাই মাসে তাকে ঋণ দেওয়া হবে ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া সরকারের প্রকল্প হিসেবে প্রদান করা হবে বাড়ির করার জন্য জমি ও ঘর।

একই সাথে ইনামুলকে ভর্তি করানো হয় স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শর্ত ইনামুল কোনভাবেই পড়া-লেখা বাদ দিতে পারবে না।

ছেলের লেখা-পড়া বন্ধ করানো হলে সরকারের সকল সহায়তা বন্ধ করা হবে। অসহায় পরিবারকে পুনর্বাসন করতে পেরে ইউএনও শেহেলী লায়লা খুশী।

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!