সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০১:৫২ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভেলপুরি

image_pdfimage_print


-নূরিতা নূসরাত খন্দকার

সজীবের সাথে আমার পরিচয় হয় তিন বছর আগে। ছেলেটা মোটামুটি গোলগাল নাদুসনুদুস গড়নের। মুখ জুড়ে তারুণ্যের দাঁড়ি গোঁফ। তিনবছরেও খুব একটা পরিবর্তন আসেনি ওর চেহারায়। গান গায় গুনগুন স্বরে। তালে তালে পিঁয়াজ কাটে। শশা কুচি, মরিচ কুচি, টমেটো কুচি করতে করতে কাঠের ছোট্ট তক্তাটা মূহুর্তেই ভরে ফেলে। আমি বড় সাইজের গোলগাপ্পা টাইপের ভেলপুরি খাই আর তাকিয়ে ওর শিল্পকর্ম দেখি। এটিকে ভেলপুরি কেন বলে আমি জানি না। মনে মনে গোলগাপ্পাই বলি। কারণ প্রজাতিতে এটি গোলগাপ্পাই। গোলগাপ্পা খেতে গিয়েই সজীবের সাথে আমার একটু একটু করে গল্প জমে ওঠে। একদিন মুখে তেঁতুল গোলানো টকঝাল পানি রসিয়ে খেতে খেতে সজীবকে বলি, এটাকে ভেলপুরি বলো কেন?
-আমি নিজেও জানি না ম্যাডাম।
আমি স্কুল শিক্ষক বলে সজীব আমাকে আপা ডাকে না। ম্যাডাম ডাকে। আমি ওকে একটু কটাক্ষ স্বরে বলি, ‘নামের মানে না জানো না যেটার সেটার ব্যবসা করো কেন?’
-আমি শুধু জানি জীবনের সুখ-দুঃখ-মিলন-বিচ্ছেদের মতোই নুন-ঝাল-টক-মিঠা হইলো ভেলপুরির আসল স্বাদ।
কথাগুলো বলেই মুচকি হাসে সে। সে বোঝে, এসব রসিক কথার উত্তর দেওয়া ম্যাডামদের চরিত্র নয়। আরেকদিন সে আমাকে বলেছিলো, ‘আচ্ছা ম্যাডাম, শিক্ষকরা জীবন পড়ায় নাকি খালি বইই পড়ায়’?
আমি ওর এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হয়রান না হলেও কিছুটা তো পেরেশান হয়েছিলাম। কারণ, শিক্ষকরা জীবন পড়ান না বই পড়ান- এমন প্রশ্ন আমার মাথায় কখনও আসেনি। আমি কেবল জানি, শিক্ষকরা বিশেষ বিশেষ বিষয়ের ওপর তালিম দেন। সেদিন সজীবের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমার মাথায় আরও কিছু ভাবনা ভরপুর হয়ে উঠেছিল। ভাবনাগুলোকে ঠিক এড়াতেও পারছিলাম না। সজীবকে বিশ টাকা বিল দিলাম। সেদিন ওকে উত্তর না দিয়ে বরং পাল্টা প্রশ্নই করেছিলাম, ‘আদৌ কি জীবনের সব পড়ানো সম্ভব, সজীব’? এই ফুটপাতি শ্রমজীবি তরুণটা আমার কথার অর্থ বুঝেছিলো কি না তা বুঝতে পারিনি সেদিন। অবশ্য আমি আমার মাথার ভাবনা নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলাম।

রিক্সায় ঘরে ফেরার পথেও ভাবনাগুলো ছুটে চলছিলো রিক্সার চাকার সাথে তাল মিলিয়ে। শিক্ষকরা জীবনের কী কী পড়ান? জীবনের কতটুকু পড়ান? তাঁরা তো বই পড়ান, বিশেষ বিষয়ের তত্ত্ব আর তথ্য পড়ান। পড়ান নাকি মুখস্থ করান! আমি নিজে কী পড়াই? জীবন পড়াই নাকি বই? আমি বই দেখে নোট তৈরি করে ব্লাকবোর্ডে সেগুলো চক দিয়ে লিখি। তারপর ক্লাসওয়ার্কে যা লেখাই সেটাই হোমওয়ার্কে মুখস্থ করতে বলি। জীবনের কবিতা পড়াই, জীবনের গল্প পড়াই। এইতো আমি জীবনই তো পড়াই। না। না তো। ওসবও তো মুখস্থই করাই। কেন মুখস্থ করাই? যেন যে কোন ভাবে প্রশ্ন করলে শিক্ষার্থীরা উত্তর দিতে পারে। তাই তো আমার কাজ। কিন্তু এতে কী লাভ? কার লাভ? টিচার্স ট্রেনিং সেন্টার পেরিয়ে রিক্সা চলে যায় ধানমণ্ডী ২ এর মোচড়ে। সবজির ভ্যান দেখে সব ভাবনা উবে যায়। লকলকে শাক, ডাগর ডাগর শালগম কিনি। সবজীওয়ালা চাচা আমাকে দেখে আরও এটা ওটা বিক্রির জন্য ব্যস্ত হয়ে যায়। কিন্তু আমি তখনও সবজী কেনাকাটার চেয়ে সজীবের প্রশ্ন নিয়েই বেশি মশগুল ছিলাম।

২.
সজীবরা তিন ভাই, চার বোন। বাবা মা কোন এক বস্তির আগুনে মারা যায়। সজীব তখন শিশু। রাস্তায় বন্ধুদের সাথে খেলছিলো সন্ধ্যেবেলায়। সেই ঘটনার ঠিক দশ বছর পর সজীবের সাথে আমার পরিচয়। সজীব ভেলপুরি বেঁচে নিজের জীবন চালায়। ভাইবোন সবাই ওর বড়। বিয়ে-শাদি করে যে যার সংসারে কোনোমতে টিকে আছে। সজীবকে ওর বড়বোন কিছুকাল দেখভাল করেছিলো। ও ক্লাস থ্রী পর্যন্ত পড়েছিলো কোন এক এনজিওর কৃপায়। তারপর মা-বাবার দেহান্ত ঘটলে আর স্কুলের মুখ দেখে নি। এখন বড় হয়ে স্কুলের সামনেই ভেলপুরি বেচে আর গান গায় গুনগুনিয়ে। ওর মূল কাস্টমার হলো স্কুলের কিশোর কিশোরীরা। সজীবকে ভাইয়া ভাইয়া ডাকে আর ‘আমাকে আগে দাও, ও আমার পরে…’ এসব বলে বলে পাগল করে ফেলে। এটাই নাকি সজীবের রোজকার জীবনে সবচে বড় আনন্দের সময়। আমি তিনবছর ধরে স্কুলে চাকরী করছি। প্রথম দিনেই ছুটির পর আমি ওর কাছে গিয়ে ভেলপুরি কিনে খাই। ও খুব বিস্ময়ে আমাকে দেখছিলো। ফ্যালফ্যাল করে তাকাচ্ছিলো বলে আমি খুব বিরক্ত হয়ে বলেছিলাম, ‘এই ছেলে তাকিয়ে আছো কেন’? ধমক শুনে সজীব দ্রুত পিয়াজ কাটায় মন দেয়। দুইদিন পরে অবশ্য ও বলেছিলো, ‘এই স্কুলের কোনো ম্যাডাম ওর কাছে সরাসরি ভেলপুরি কেনে না। এমনকি ছুটির পরেও না। ম্যাডামরা আয়া পাঠিয়ে দেয়। ও ভেলপুরি, টকপানি, ঘুগনি, সালাদ, মশলা সব আলাদা আলাদা করে প্যাকিং করে দেয়। কোনো আয়া কিনতে এলেই ও বোঝে ম্যাডামদের অর্ডার এসেছে।

ওর কাছে ওসব কথা শুনে আমি খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছিলাম। একে তো মহা ঠাটবাটের স্কুল। সেই স্কুলের শিক্ষক হয়ে ফুটপাতে ভেলপুরি খেতে এসে স্কুল আর শিক্ষকদের মানসম্মান চুলোয় গেলো কি না তাই ভেবে। চারিদিকে একবার দু’বার তাকিয়ে দেখেওছিলাম আড়চোখে। ঘরমুখী অভিভাবকদের, শিক্ষকদের, শিক্ষার্থীদের এমনকি আয়দেরও। তাদের দৃষ্টি পড়ারও চেষ্টা করেছিলাম। কেমন যেন অস্বস্তি আর দুশ্চিন্তায় মাথাটা ঘেমে উঠলো। মুখে পোরা গোলগাপ্পাটা চিবোতে চিবোতে বুঝলাম এ আর গলা দিয়ে নামছে না। গিলতে কষ্ট হচ্ছিল। সজীব যে তখনও আমার দিকে নজর দিয়ে রেখেছিলো তা টের পাইনি। প্লেট ভরা পাঁচটার মধ্যে দুটো গাপ্পা খাওয়া হয়েছিলো। তিন নম্বরটিতে এসেই যত সমস্যা তৈরি হলো। আমি প্লেটটা সজীবের দিকে এগিয়ে দিতেই দেখি ও আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমার চোখ ওর চোখে পড়তেই দেখলাম সে দ্রুত চোখ নামিয়ে তেঁতুল পানিতে চামুচ ডুবিয়ে তুললো। আমার প্লেটে ছড়িয়ে দিলো। কী বুঝে এ কাজ করলো কে জানে! যতটা না ক্ষিপ্ত হয়েছিলাম তারচেয়েও বেশি ক্ষিপ্ততার অভিনয় করলাম। কারণ তড়িৎ গতিতে ব্রেন বলছিলো,’অন্বেষা, এটাই সুযোগ। ভেলপুরির প্লেট ফেল, জলদি কেটে পর। একটু পরেই প্রিন্সিপাল ম্যা’ম বের হবেন’। অমনি আমিও পল্টি নিতে সময় নিলাম না। চোখ কটমট করে বললাম, ‘এই ছেলে, এটা কী করলে তুমি? আমি কি টক চেয়েছি তোমার কাছে? ধুর খাবোই না তোমার ভেলপুরি। এই নাও তোমার বিল’।

দ্রুত হেঁটে ফুটপাত ছেড়ে আমার পরিচিত রিক্সাওয়ালাকে দেখা মাত্রই ডাকতে থাকলাম। ‘শহীদার চাচা শহীদার চাচা’ ডাকতে ডাকতে এগোলাম। যদিও শহীদার চাচা আমারই জন্য অপেক্ষা করছিলো। রিক্সায় উঠেই মনে মনে বললাম, ‘যাব্বাবা! বেঁচে গেছি। ভাগ্যিস প্রিন্সিপাল ম্যা’ম আমায় ফুটপাতে গোলগাপ্পা গাপুস গাপুস খেতে দেখেন নি!’ মনে মনে গত দুইদিনের চিত্রগুলোও স্মৃতিতে ভাসিয়ে তুললাম। যতদূর মনে পড়ছে, না গত কালও প্রিন্সিপাল বের হওয়ার আগেই আমি রিক্সা ধরেছিলাম। স্বস্তিও পেলাম। মনের সব আতঙ্ক চুকে গেলে সজীবকেও থ্যাঙ্কস জানালাম মনে মনে। কারণ ও না বললে তো জানাই তো হতো না এই ঠাটবাটের স্কুলের কোনো শিক্ষকই ফুটপাতে দাঁড়িয়ে গোলগাপ্পা খায় না। ভাগ্যিস ছেলেটা বলেছিলো! সিদ্ধান্ত নিলাম, গোলগাপ্পা খেতে হলে শাহবাগ বা টিএসসিতে খাবো। এই স্কুলের চৌসীমানায় আর খাবো না। আর গোলগাপ্পা তো খুব একটা স্বাস্থসম্মত খাবার নয়। যদিও আমি ফাস্টফুড গেলা প্রজন্মেরই। তবুও আমার এই দেশী স্ট্রিটফুডই পছন্দ। অবশ্য রোজ রোজ মাও বকুনি দেয় এর জন্য। প্রথম চাকরীর বেতন পেতে এখনও বহু দেরী। মায়ের কাছেই জীবনের প্রথম লোন নিয়ে স্কুলের যাতায়াত খরচ চালাচ্ছি। মাকে এই টাকার সুদ সমেত না হলেও আসল টাকাটা তো বেতন পাওয়া মাত্রই দিয়ে দিতে হবে। এই বিশ টাকা এক্সট্রা নিয়ে থাকি। গোলগাপ্পার জন্য। কিন্তু এটার জন্য মা সুদ নিবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলো। বাবা একটি প্রতিবাদও করেনি এই বিষয়ে। বাবারা কেন যে এইসব নিষ্ঠুর মায়েদের কাছে জিম্মি থাকে আমিও বুঝি না।

পরদিন স্কুল ছুটির ঘণ্টা শুনতেই জিভে গোলগাপ্পার টকঝাল অনুভূতি খেলে গেলো। কিন্তু গেট পেরিয়ে আমি সজীবের ঝুড়ির দিকে একদম তাকাবো না বলে ভেবেই রেখেছি। ডান দিকের ফুটপাতে ওর ঝুড়ি। আমি ঠিক বামের ফুটপাতে, উল্টো দিকে চলছি। কিন্তু উজবুক বাচ্চাগুলো বামদিকের ফুটপাতেই লাইন করে বসে গোলগাপ্পা গপাচ্ছে। মুখের ভিতরে আমার জিভটাকে সামলে রাখতে হচ্ছে। তেঁতুলের গন্ধ বাতাসে ভাসতেই লোলে ভরে যাচ্ছে গালের ভিতর দেওয়াল। গোলগাপ্পা আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকে। আমি না বলি। তবুও ডাকে। তেলে ভাজা মুচমুচে গাপ্পাগুলো ছেলে মেয়েরা কুচুরমুচুর শব্দ করে মুখে পুরছে। আমার দৃষ্টি সেসব দৃশ্যে আটকে যায় যায় বারবার। সিদ্ধান্ত বদলে ফেলতে মন চায়। ইচ্ছে করে বাম থেকে ডানের ফুটপাতে চলে যাই। আর ঝুরিওয়ালাকে বলি, ‘এক প্লেট। মিডিয়াম ঝাল। টকের কাপটা ভরে দিও’। নাহ্। বাবাকে গতকাল খুব বড়াই করে বলে ফেলেছ, ‘আর গোলগাপ্পার জন্য তোমাকে মায়ের কথা শুনতে হবে না। আমি আবৃত্তি ক্লাসের দিন কেবল টিএসসির গোলগাপ্পা খাবো। স্কুলের গোলগাপ্পাটা ঠিক ভালো না। জানো বাবা, ঐ ঝুরিওয়ালাটা তেমন পরিষ্কার না’। বাবা কেমন যেন একটা স্বরে উত্তরও দিয়েছিলো, ‘তাই নাকি! তুই আবার কবে থেকে ঝুরিওয়ালাদের পরিচ্ছন্নতা দেখতে শুরু করলি! ভূতের মুখে রাম নাম’! মা দূর থেকে ফ্রিজে কিছু একটা রাখতে রাখতে বললো, ‘খোঁজ নিয়ে দেখো। মনে হয় টক পানি কম দিয়েছিলো। ওই ঝুরিওয়ালা তোমার মেয়ের চাহিদা মতো টক হয়তো সাপ্লাই দেয়নি। তাই তাকে আর ওনার পছন্দ নয়। সে এখন অপরিষ্কার, নোংরা’। মা-বাবার কটাক্ষে বেশ অপমানই লাগছিলো আমার। তবুও চ্যালেঞ্জ দিলাম, ‘টিএসসি ছাড়া আর কোত্থাও খাবো না’। এসব বানানো কথা মনে পড়তেই নিজেকে চড় মারতে মন চাইলো। কে আমায় দিব্যি দিয়েছিলো এসব বলতে? ঝুরিওয়ালা? যত্তসব। এসব না বললে আমি এখন একপ্লেট গোলগাপ্পা খেতেই পারতাম। আচ্ছা, খেলেই বা কি সমস্যা। মাকে না বললেই তো হলো। একপ্লেট তো খাওয়াই যায়। সবাই কী সুন্দর করে খাচ্ছে!

কে একজন পিছন থেকে বললো, ‘মিস মিস আজ ভেলপুরি খাবেন না’? শুনেই আমার কলিজা ছ্যাৎ করে উঠলো। আমি দ্রুত স্কুলের এলাকা ছেড়ে এগিয়ে চললাম, কে কি বললো -তা না শোনার ভান করে। শহীদার চাচার রিক্সায় নিউমার্কেটে নামলাম। ওখানে একপ্লেট দইফুচকা খেয়ে বাসায় ফিরলাম। টাকার হিসেব দিতেই মায়ের সন্দেহ দৃষ্টি উপচে পরলো আমার দিকে। মা ধরেই নিয়ে বললো, ‘ও গুলগাপ্পি নোংরা অতি দইফুচকা পাকপবিত্র -তাই না! নতুন উৎপাত শুরু করলি? দইফুচকার দাম বেশি। সুতরাং সুদের হারও বেশি। কথাটা মনে থাকে যেন। ঘরের খাবার খাবে না কিছু না, বাইরের গোলগাপ্পা আর ফুচকাই খেয়ে খেয়ে পেট ভরাবে। অসভ্য মেয়ে কোথাকার’। আমি চোখ কান বুঁজে শাড়ির ভাঁজ খুলতে খুলতে আমার ঘরে ঢুকলাম। ঘরে ঢুকেই শাড়ি খুলে বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে খেঁকিয়ে বললাম, ‘তা ঘরেও তো গোলগাপ্পা বানাতে পারো নাকি’?

৩.
প্রায় এক সপ্তাহ পর আমার সেই চির পরিচিত রিক্সাওয়ালার রিক্সায় বাসায় ফিরছিলাম। এই রিক্সাওয়ালার নাম শহীদার মিস্তিরি। একসময় ইনি কাঠমিস্তিরি ছিলেন। আমি ক্লাস এইট থেকে শুরু করে ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত যাতায়াত করেছি এনার রিক্সায়। এখনও করি। মাসকাবারি রিক্সার ভাড়া নেন। এই টাকাটা তার বেতনের মতোন নাকি উপকার করে। আর বাকী সময় তিনি যা উপার্জন করেন তা দিয়ে রোজকার সংসারী খরচে চলে যায়। এখনও দূরে কোথাও গেলে শহীদার চাচাই আমাদের পারিবারিক ভরসা। ইনিও জানেন আমার গোলগাপ্পার প্রতি দুর্বলতার কথা।

এক সপ্তাহ ধরে শহীদার মিস্তিরি নিউমার্কেটের গেটে রিক্সা থামায়। আমি গোলগাপ্পার বদলে ফুচকা খাই। এ কয়দিন গোলগাপ্পা খাই নি, কিন্তু দইফুচকা খেয়েছি। তবুও গোলগাপ্পার স্বাদটাই আলাদা। শহীদার মিস্তিরি জানেন আমি গোলগাপ্পা খেতেই ইদানীং আমি নিউমার্কেটে নামি। সেদিন ছিলো বৃহস্পতিবার। বাসার গেটে নামতেই শহীদার চাচা আমাকে একটা সাদা খাম ধরিয়ে দিলো। খামটা আমাদেরই ঠাটবাটের স্কুলের। আমি কিছু বুঝতে পারলাম না। উনি শুধু বললেন, ‘মামনি, তুমি এটা তোমার ঘরে গিয়া খুলবা। আমি রবিবার তোমাকে স্কুলে নিয়া যাবো’।

লিফ্টে উঠেই সাত নম্বর বাটনটা চেপে খামটা খুললাম। সন্দেহ হচ্ছিল স্কুলের খাম শহীদারের কাছে কেন এলো। স্কুলের কিছু হলে তো প্রিন্সিপালই দিতে পারতেন। খামের পেট থেকে একটা ছোট্ট কাগজ বের হলো। কারো হাতে লেখা চিঠির মতোন। চারে এসে লিফ্টটা থামলো। আমি দ্রুত ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেললাম চিঠিটা। পাঁচতলার এক বুয়া বালতি ভরা ধোয়া কাপড় নিয়ে ঢুকলো। সে আট নম্বর বাটনে চাপলো। সে ছাদে যাবে। আমি সাতে নেমে গেলাম। মনে মনে ভাবছিলাম কার চিঠি। কোনো প্রেমিকের নাকি? আমার তো কোনো প্রেমিক ঐ স্কুলের আশে পাশে থাকার কথা না। স্কুলে পড়ার সময় যারা একটু দুষ্টমিষ্টু তাকাতো তারা তো উধাও সেই কবেই। জীবনে একটাই প্রেমিক জুটেছিলো। সেই অনার্স পড়ার সময়। সিদ্ধার্থ বড়ুয়া ওর নাম। ও তো এখন দেশে থাকে না। মায়ের প্রবল আপত্তিতে, ধর্ম সংকট পরিবারে বিষম পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলো।তিনবছর আটমাস ছিলো সেই প্রেমের দৈর্ঘ্য। এই চিঠি কে দিলো তাহলে? সিদ্ধার্থ কি দেশে ফিরেছে! তবে কি শহীদার চাচাকে সেই চিঠিটা দিয়েছে! নাহ্ সিদ্ধার্থ শহীদার চাচাকে চিঠি দিবে না। ও খুব ভালো করেই জানে শহীদার চাচার বাবাকে সব বলে দিবে। ইউনিভার্সিটি থেকে প্রায়ই আমি আর সিদ্ধার্থ অন্য রিক্সায় ঘুরতাম। একদিন শহীদার চাচা বাবাকে বিষয়টি জানিয়েও দেয়। কিন্তু পরে অবশ্য শহীদার চাচা আমার কাছে ক্ষমাও চেয়েছিলো। কারণ, তিনি তখন জানতেন না ছেলেটির সাথে আমার মন দেওয়া নেওয়া ঘটেই গেছে। বাবা আমাকে প্রচুর মেরেওছিলো সেবার। আমি সেবার কয়েকদিন ক্লাসে যাইনি। যা হোক সিদ্ধার্থ শহীদার চাচাকে আজও অপছন্দই করে। তাছাড়া ও এমন চিরকুট দেওয়ারও মানুষ নয়।
শহীদার চাচা তো আমাকে রবি থেকে বৃহস্পতি স্কুলেই নিয়ে যায়। তবু আলাদা করে কেন বললো, রবিবার এসে আমাকে স্কুলে নিয়ে যাবে!এ কথা বলার কী অর্থ? কেন বললো? রবিবার কি এই চিঠি প্রেরক আমার সাথে রিক্সায় বসে স্কুল পর্যন্ত যেতে পারে! শহীদার চাচাকে আর বিশ্বাস করা যায়। বাবা অফিস থেকে ফিরলেই সব বলে দিবো কি? মাকে এখন এসব বলা মানে চরম বোকামি হবে। বাবাকে ফোনের পর ফোন করে বাসায় না ফেরা অব্দি তুলকালাম পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে থাকবে।

গোসল সেরে চুল শুকোতে শুকোতে মনে হলো চিরকুটটা বাবাকে দেওয়ার আগে নিজেই একবার দেখা যাক। কে লিখেছে চিঠিটা সেটা নিজেই জানা ভালো। স্কুলের কোনো শিক্ষকের হলে তো প্রিন্সিপালকেও নালিশ করতে হবে ব্যাপারটা। চুল শুকিয়ে ব্যাগ থেকে চিঠিটা বের করলাম। কিন্তু কেবল খামটাই বের হলো। কিন্তু চিঠিট বা চিরকুটটা! সেটা পাচ্ছি না কেন? হাড় হিম হয়ে গেলো। ব্যাগের সব কিছু বিছানায় ঢেলে তন্নতন্ন করে খুঁজলাম। মনে হলো লিফ্টেই কি ফেলে এলাম! এখন লিফ্টে যাওয়া কি ঠিক হবে? বাইরের দরজা খুললেই তো মা প্রশ্ন করবে। কী করা যায়! মায়ের ঘরে গেলাম। ভাগ্যিস মা গোসল করছে। এই সুযোগ। দৌড়ে দরজা খুলে লিফ্টের বাটনে চাপলাম। কিছুক্ষণ পর লিফ্ট এলো। কিছু মানুষও এলো। কিন্তু নামলো না। তারা উপরে যাবে। ভ্যাবাচ্যাকাই লাগলো। আমি সরে দাঁড়ালাম। ভিতর থেকে কেউ বললো, ‘আপনি মনে হয় নীচে নামবেন’। আমিও দ্রুত বললাম, ‘হ্যাঁ। আপনারা উপরে যান’। লিফ্টের দরজা বন্ধ হলো। আমি লফ্ট নেমে আসার অপেক্ষায় থাকলাম।

লিফ্ট থেকে কাগজটি কুড়িয়ে ঘরে ঢুকতেই টের পেলাম মা গোসল সেরে বিরিয়েছে। কারণ ঘরোয়া বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে সাবান, শ্যাম্পুর ঘ্রাণ। ঢোক গিলে আস্তে করে দরজা লাগিয়ে নিজের ঘরে গেলাম। মা কিছু টের পেলো না মনে হয়। ঘরে ঢুকেই দেখি মা বিছানার সব এলোমেলো জিনিসগুলো গুছিয়ে ব্যাগে ঢোকাচ্ছে আর ‘আগোছালো’, ‘এলোমেলো মেয়ে’ এসব বলে বলে একাই বকবক করছে। আমি কাগজটা লুকোবো লুকোবো এমন সময় মা পিছন ফিরে আমাকে দেখলো।
-কি রে বিছানায় এসব এভাবে ঢেলে রেখেছিস কেন? কোথায় গিয়েছিলি দরজা খোলা রেখে? কিছু হারিয়েছিস নাকি?
-না। মানে হ্যাঁ।
-মানে?
-আর বোলো না। রবিবার কিছু প্রক্সিক্লাসের শিডিউল দিয়েছে। সেটা লিফ্টে ফেলে এসেছিলাম।
-ও। আর সেটা খুঁজতে দরজা হা করে গেছিস। উফ্ কবে যে তোর মাথায় আল্লাহ্ একটু বুদ্ধি দিবে। আমি শায়া পরে বের হই তুই জানিস না? এ অবস্থায় যদি কেউ ভিতরে আসতো? তোকে ডাকতে এসে দেখি তুই নাই। তা খুঁজে পেলি শিডিউল?
-হ্যাঁ, হ্যাঁ। তুমি যাও তো শাড়ি পরো তো। লাজশরমের মাথা খেয়ে ফেলেছো একদম।
-ওহো রে! স্কুল থেকে ফিরলে কে যেন পারলে লিফ্টেই শাড়ি খুলতে থাকে?
-ওহ্ মা! জীবনে দেখেছো আমি লিফ্টে শাড়ি খুলেছি?
-ওই হলো। বুদ্ধি কম বলে ঘরের দরজাতেই শাড়ি খুলতে থাকিস।

কে বলেছে আমার মাথায় কোনো বুদ্ধি নেই? চট করে প্রক্সিক্লাসের বুদ্ধিটা তো আমারই মাথায় এলো। বিছানায় গা এলিয়ে চিঠির ভাঁজ খুললাম। ছানাবড়া চোখে গোটা গোটা অক্ষরের লেখাগুলো পড়তে থাকলাম-

আসসালামুআলাইকুম
ম্যাডাম,
শ্রদ্ধা জানবেন। আমি ভেলপুরিওয়ালা। আমার একপ্রকার দুঃসাহসই বলতে পারেন। কিন্তু আপনাকে এই চিঠিটা না লিখেও শান্তি পাচ্ছিলাম না। জানি না আপনার কাছে পৌঁছাবে কি না। তবুও লিখলাম। আপনার পরিচিত রিক্সাওয়ালা শহীদার খালু আমাকে দীর্ঘদিন থেকে চেনে। তাই ওনাকেই জানাই, আপনি সেদিন আমার উপর কেন খুব রাগ করেছিলেন। আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন কি না জানি না। তবুও আমি ক্ষমা প্রার্থী আপনার কাছে। মানুষ মাত্রই ভুল করে। আমারও ভুল হয়েছে। ম্যাডাম, ভেলপুরি না খান, ক্ষমা না করেন কিন্তু আমি ক্ষমা চাইতে পারলাম -এই সান্ত্বনাটুকু যেন নিজেকে দিতে পারি, তাই চিঠিটা লিখলাম। আপনি আমার ফুটপাত জীবিকা ও জীবনের সবচেয়ে বড় কাস্টমার ছিলেন। একজন শিক্ষক আমার হাতের ভেলপুরি আমার ঝুরির সামনে দাঁড়িয়ে তিনদিন হলেও খেয়েছেন এতটুকুই আমার আনন্দ। ভালো থাকবেন। পারলে ক্ষমা করবেন।
ইতি
সজীব

৪.
সেদিন আমি বুঝতে পারিনি এসব কথা মা-বাবাকে বলা দরকার কি না। কারণ আমার মনে অন্য রকম চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিলো। সজীব আমার জীবনে একপ্রকার শিক্ষকের কাজ করেছে। ওর কাছেই আমি প্রথম শিখেছি, জীবনে কোথাও কোনো অপরাধ ঘটে গেলে আসলে অন্যের ক্ষমা প্রত্যাশার মতোই জরুরি নিজের কাছেও নিজের স্বস্তির পথ খুঁজে নেওয়া। সজীব সেই কাজটিই করেছে। অথচ ওর কোনো অপরাধই ছিলো না। ও ওর সঠিক দায়িত্বই পালন করেছিলো। আমি প্লেট এগিয়ে দেওয়া মানে টক পানি বাড়িয়ে দেওয়া –এটাই সে জেনেছিলো প্রথম দিন। সেদিনও সে তাই করেছিলো। অথচ অপরাধ ছিলো আমার নিজেরই। অপরাধী তো আমি নিজেই। আমার স্বস্তি কোথায়? একজন শ্রমজীবী সজীব অজান্তে নিজের স্বস্তি খুঁজে নিয়ে আমাকেই যে অস্বস্তির ভিতর ডুবিয়ে রাখলো –তার মুক্তি কোথায়? ভাবতেই অবাক লাগছে কী দারুণ কৌশলে উন্নত মানস গঠনের দর্শন -এই স্বল্প পড়ুয়া তরুণটি আমায় শেখালো! অপরাধের জন্য ক্ষমা নয়, প্রায়শ্চিত্তের স্বস্তি খোঁজা টাই করণীয়।

সিদ্ধার্থের সাথেও তো আসলে আমিই অপরাধ করেছি। পৃথিবীর সব ফেলে একদিন তার সাথে জীবন কাটাবো বলে কথা দিয়েছিলাম। সিদ্ধার্থ সব প্রস্তুতি নিয়েওছিলো। আমাকে নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাবে। নিজের পাশাপাশি আমারও স্কলারশিপের বন্দোবস্তো করলো। আমি তখনও তাকে প্রকৃত অবস্থার কথা বলিনি। বা বলতে পারিনি। মায়ের প্রবল চাপে আমার প্রেম কখন যে সিদ্ধার্থর হাত ছেড়ে দিয়েছিলো আমি বুঝতেও পারিনি। সিদ্ধার্থ আমায় বিয়ে করে কানাডা চলে যাবে। কিছুকাল আমাদের বিয়ের বিষয়টা গোপন থাকবে সেখানে। আমরা স্টুডেন্ট হিসেবে যাবো। সিদ্ধার্থ ওর বাড়ির সাথেও সম্পর্ক ভাঙলো। আমারই জন্য ত্যাজ্য হলো পরিবার থেকে। আমাদের ভিসাও হলো। আমিই শুধু এয়ারপোর্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলাম না। এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করতে করতে সিদ্ধার্থকে নাকি বন্ধুরা জোর করেই প্লেনে তুলে দিয়েছিলো সেদিন। সিদ্ধার্থ যখন আকাশে উড়ছিলো আমি তখন লক্ষ্মী মেয়ের মতন বাবার সাথে কেরাম খেলছিলাম। কী ভয়ঙ্কর প্রতারণা করেছি! কী ভয়ঙ্কর প্রতারক আমি! আমি কত বড় অপরাধী তা মাপবার মতোন কোনো যন্ত্র এই পৃথিবীতে আজও আবিষ্কার হয়নি। আমি সিদ্ধার্থর কাছে ক্ষমা চাইবার মতোন কোনো সুযোগ আজও পাইনি। পাইনি বলাটা আরও অপরাধের। আসলে আমি সে পথ খুঁজিইনি কখনও। কিন্তু স্মৃতির দেরাজ খুলে সিদ্ধার্থের স্পর্শ-অনুভূতি-আদর সব বের করে আজও আমার শরীরকে রোমাঞ্চিত করি, নিজের সাথে নিজেই। আর আমি একলা হয়ে যাই। গোটা পৃথিবীর দরজা বন্ধ করি। ওয়াদা ভঙ্গ করেও অামার একান্তের যৌনতা নীরবে নিভৃতে সিদ্ধার্থের সাথে মেতে ওঠে। জীবনের এমন অসমন্বিত অধ্যায় কোথায় পাঠ করবো। কে পড়াবে আমায়! ঔদ্ধত্যের প্রবল স্রোতে মন বলে ওঠে, কোনো শিক্ষক জীবন থেকে জীবন পাঠ করায় না। বইয়ের ভিতর থেকে বইই পড়ায়। বইয়ের ভিতর জীবনের অংশ থাকে। কিন্তু জীবনের অংশ ওসব স্কুলি কিতাব একটাও না।

রবিবার আমি স্কুলে যাই। ছুটির পর সজীবের ঝুড়ির সামনে দাঁড়াই স্কুলের ঠাটবাট ভুলে গিয়ে। সজীব আমার দিকে এক ঝলক তাকিয়ে চোখ নীচে নামায়। মুখ ফুটে বলে, ভালো আছেন ম্যাডাম?
-একপ্লেট দাও।
সজীব বোঝে আমি ওর প্রশ্নের উত্তর দিবো না। কিন্তু ওর ঝুড়ির সামনে সবচেয়ে বড় কাস্টমার দাঁড়িয়ে আছে আজ। তাই দ্রুত বড় কাস্টমারকে সে প্লেট কয়েকবার পরিষ্কার জলে ধুয়ে টিস্যু দিয়ে মুছে মুছে ভেলপুরি সার্ভ করে। ভেলপুরি খেয়ে আমি ওকে কয়েক রকম কালির কলম আর কিছু নোটপ্যাড দিই। ও অবাক চোখে সেগুলো দেখে। মনে মনে বলি, ‘সজীব তুই না হাসলে আমি ভালো থাকবো না’। আশ্চর্যজনক ভাবে একটু পরেই সজীব মিষ্টি হাসি দিয়ে লজ্জায় চোখ মুখ লাল করে আমার হাত থেকে সেগুলো নিলো। বুঝলাম ও লিখতে জানে। ওর মাঝে অনেক ভাষা আর শব্দ খেলা করে। চিঠিটা ওর নিজেরই হাতের লেখা।

এরপর থেকে সজীবের সাথে একটু একটু করে কথা বাড়তে থাকে। ওর সাথে আমার অস্বস্তিও কাটাতে থাকি নিজের মতোন করে। শহীদার চাচার কাছে কথার ছলে সজীবের মা-বাবার মৃত্যুর কথা জেনে নিয়েছিলাম একদিন । ভয়ঙ্কর সেই মৃত্যুর দৃশ্য নিজের কল্পনায় নিজেই নানাভাবে এঁকে এঁকে দেখি। ভাইবোনের জটলা ভরা সংসারে সজীবের একলা হওয়ার গল্পের ভিতর দিয়ে নিজের সাথে সিদ্ধার্থের বিচ্ছেদকেও আঁকি। নিজের একলা হওয়ার দৃশ্যগুলোও দেখি। শহীদারের জানা নেই। কিন্তু আমি জানি। সজীবকে আমি গল্পের বই দিই। সে সেসব বই পড়ে। রাতভর মনের সব কথা আমাকে লেখে আর দিনের বেলা ফুটপাতে মেহেনত করে বেঁচে থাকে। আমি অট্টালিকার ঘরে চলি ফিরি আর রোজ সজীবের প্রশ্নটা ভাবি, ‘আচ্ছা ম্যাডাম শিক্ষকরা কি জীবনের সবকিছু পড়ায়?’ আমি এখন এও ভাবি, আমি সজীবের কে হই!
ওকে কী করে বলি, ও যে আমার কাছে শুধুই ভেলপুরিওয়ালা নয়! ও আমার কেবল রসনাকাতর গোলগাপ্পাওয়ালাও নয় ! ওর কাছে আজও ক্ষমা চাওয়া হয়নি। ও যে আমার পরম শিক্ষক। জীবন শিক্ষক। আমি এসবের ভিতর হাতড়ে হাতড়ে এও ভাবি, সজীব আমার কে হয়! নিজের কাছে নিজের স্বস্তি খুঁজতে আমি ডায়েরির পাতা উল্টাই। লিখতে থাকি-

গোলগাল নাদুসনুদুস গোলগাপ্পাওয়ালা
তুই আমাকে জীবনের এমনই শিক্ষা দিয়েছিস যা কোনো শিক্ষক আমায় শেখায়নি। তুই আমার আত্মালয়ের গোপন শিক্ষক! শিক্ষকের কোনো বয়স নাই। শিক্ষক হতে কোনো শিক্ষালয় লাগে না। ‘আচ্ছা ম্যাডাম, শিক্ষকরা জীবন পড়ায় নাকি খালি বইই পড়ায়’- এমন প্রশ্ন তুই কোথায় পাস?
‘আমি শুধু জানি জীবনের সুখ-দুঃখ-মিলন-বিচ্ছেদের মতোই নুন-ঝাল-টক-মিঠা হইলো ভেলপুরির আসল স্বাদ’- জীবন মেশানো জীবিকা চোবানো এমন কথা তোকে কে শেখালো রে!

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!