বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভোটার আসার আগেই ভোট দেওয়া হয়ে গেছে !

ফাইল ফটো

image_pdfimage_print
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

পাবনা জেলা প্রতিনিধি :  ৫ ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পাবনা জেলার  ইশ্বরদী উপজেলা ও সাঁথিয়া উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের ভোটাররা বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে ভোট দিতে এসেছিলেন। কেন্দ্রে এসে জানতে পারলেন ব্যালট পেপারে সিল দেওয়ার আর দরকার নেই। কারণ আগেই তাদের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে।

শনিবার (২৮ মে) পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন এবং ঈশ্বরদী উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৬৮টি কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৬০টি কেন্দ্রে ভোটের আগেই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে এসব কেন্দ্রের ভোটাররা ভোট দিতে গিয়ে দেখেন, অনেক আগেই তাদের ভোট নেওয়া হয়ে গেছে।

এ ছাড়া কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেওয়া, ভোটারদের আসতে বাধা দেওয়া, প্রকাশ্যে ব্যালটে সিল দেওয়া, এজেন্টদের বের করে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে আজ পাবনায় পঞ্চম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিএনপি মনোনীত সাঁথিয়া উপজেলার কাশীনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইদ্রিস আলী মুন্সী, ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নে আব্দুল কাশেম কাশু, পাকশী ইউনিয়নে জাকিউল ইসলাম তপন সরদার, দাশুড়িয়া ইউনিয়নের আমিনুল ইসলাম কেনেডি, মূলাডুলির সিরাজুল ইসলাম সরদার ও সাঁড়া ইউনিয়নের আক্কাস আলী মণ্ডল নির্বাচনে ভোট ডাকাতি, চেয়ারম্যান পদে প্রকাশ্যে সিল মারতে বাধ্য করার অভিযোগ এনে সবাই ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

এ ছাড়া দাশুড়িয়া ইউনিয়নের বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী কে এম রবিউল ইসলামও একই অভিযোগে ভোট বর্জন করেন।

বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সাঁথিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৯৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে কাশীনাথপুর ইউনিয়নের সাটিয়াকোলা, কাবারীখোলা, বরাট, হুইখালী, আর আতাইকুলার মাধপুর, আড়িয়াডাঙ্গি, পুটিগাড়া, রঘুনাথপুর আতাইকুলা, কুমারগাড়ি, পিতৈলকুপি, ধোপাদহ ইউনিয়নের হাপানিয়া, ক্ষেতুপাড়ার বিষ্ণপুর, বিষ্ণুবাড়িয়া, নাগডেমরার ছয়টি কেন্দ্র, ধুলাউড়ির পাঁচটি কেন্দ্র, নন্দনপুরের চারটি কেন্দ্র, ভুলবাড়িয়ার ছয়টি কেন্দ্র ঈশ্বরদী উপজেলার সাতটি ইউনয়নের ৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে পাকশীর ছয়টি কেন্দ্র, দাশুড়িয়ার চারটি কেন্দ্র, সারার চারটি কেন্দ্র, শাহপুরের চারটি কেন্দ্রে সকাল ১০টার মধ্যে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। এসব কেন্দ্রের ভোটাররা ভোট দিতে গিয়ে দেখেন আগেই তাদের ভোট হয়ে গেছে।

কাশীনাথপুর ইউনিয়নের সাটিয়াখেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটার আশরাফুল আলম এবং তাঁর স্ত্রী নাজমা আক্তার সকাল সাড়ে ৯টায় কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন আগেই তাঁদের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে।

কাবারীখোলা কেন্দ্রের ভোটারদের মধ্যে ফিরোজ বিশ্বাস, নজরুল ইসলাম, মন্তাজ আলীসহ ২৫-৩০ জন ভোটার অভিযোগ করেন, সকাল ৯টার সময় গিয়ে দেখেন কে বা কারা তাঁদের ভোট দিয়ে দিয়েছে। সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে তাঁরা প্রশ্ন করেন, ছবি থাকার পরও একজনের ভোট অন্যজন কীভাবে দিতে পারে?

বেলা ১টার দিকে সাটিয়াখোলা কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট দুই যুবককে আটক করে পরে ছেড়ে দেন। আড়িয়াডাঙ্গি কেন্দ্রের ৪ নং বুথের পোলিং অফিসার মো. মনিরুজ্জামান জাল ভোট প্রদানের সত্যতা স্বীকার করে নিউজ পাবনাকে বলেন, পোলিং অফিসার বা প্রিসাইডিং অফিসারের পক্ষে এককভাবে এত কিছু দেখা সম্ভব নয়।

পাবনা জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে সামান্য কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তবে এত কিছুর পরেও শান্তিপূর্ন নির্বাচন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রশাসনের তরফ থেকে নেয়া কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও দুপুরে জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বাবুলচারা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে প্রায় ৪০০ ব্যালট পেপার ছিনতাই ও দুই মেম্বার পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ২০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করে প্রশাসন।

এ ছাড়া একই ইউনিয়নের তিলকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এস এম আকাশকে প্রত্যাহার করা হয়। এই কেন্দ্রে আগে থেকেই ব্যালটে নৌকায় সিল মারা ১২টি ব্যালট পেপার বাতিল করা হয়। এই কেন্দ্রে প্রায় এক ঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল।

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!