সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

ভয়ংকর সেপসিস রোগে মারা যাচ্ছে ২০ শতাংশ মানুষ

সেপসিস-এর নাম শুনেছেন? বাংলায় বলা হয় রক্তদূষণ৷ এ রোগ এতটাই ভংকর, যার পরণতিতে হতে পারে মৃত্যুও। বর্তমান বিশ্বে সেপসিস বা রক্তদূষণ সম্পর্কে ব্যাপক বিশ্লেষণ হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, বিশ্বজুড়ে পাঁচজনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয় এই রোগে। সেপসিসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন দরিদ্র এবং মধ্যম আয়ের দেশের মানুষ। তবে ধনী দেশগুলোতেও এ রোগ দেখা দিচ্ছে।

সেপসিস ‘গুপ্ত ঘাতক’ হিসেবেও পরিচিত। কারণ এটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। এটি এক ধরনের সংক্রমণ, যাতে রোগ জীবাণু রক্ত প্রবাহে ঢুকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আক্রমণ করে। যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো, তারা এ আক্রমণকে প্রতিহত করতে পারে সহজেই। কিন্তু ইমিউন সিস্টেম দুর্বল থাকা মানুষের পক্ষে এ ধকল সামলানো কঠিন। এছাড়া বিভিন্ন অপারেশন ও থেরাপিতে দুর্বল হয়ে যাওয়া রোগীরাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংক্রমিত হয়। যেমন ফুসফুসের সংক্রমণ। অ্যান্টিবায়োটিক নিলে কয়েকদিনের ভালো হয়ে যেতে পারে এই সংক্রমণ। কিন্তু ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের অবস্থা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মারাত্মক হয়ে যায়। প্রাথমিক স্থান থেকে জীবাণু অন্য জায়গায় চলে যায়। যেমন পায়ের বুড়ো আঙুলের সংক্রমণ থেকে রক্তপ্রবাহে ঢুকে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আক্রমণ করে বিকল করে দিতে পারে জীবাণু। এ অবস্থায় প্রায়ই মূল্যবান সময় পার হয়ে যায়। তাই সঠিক রোগটি শনাক্ত করতে প্রচুর অভিজ্ঞতার প্রয়োজন।

প্রাথমিক লক্ষণ

প্রাপ্তবয়স্ক: অস্পষ্ট কথা, চরম কাঁপুনি বা পেশী ব্যথা, সারাদিনে কোনো প্রস্রাব না হওয়া, মারাত্মক শ্বাসকষ্ট, দ্রুত হৃত্স্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা অনেক বা কম হওয়া, ত্বকের রং একেক জায়গায় একেক রকম বা ছোপ ছোপ দাগ।

শিশু: চেহারা দেখতে নীলচে বা ফ্যাকাসে হয়, ত্বকের রং একেক জায়গায় একেক রকম দেখায়, ঘুম থেকে জাগানো কঠিন হয়ে পড়ে, শিশুর শরীর স্পর্শ করলে অস্বাভাবিক ঠাণ্ডা অনুভূত হয়, খুব দ্রুত শ্বাস নেয়, ত্বকে এক ধরনের ফুসফুসি হলে এবং হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়া।


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!