ঢাকাশনিবার , ৭ মে ২০২২

মন্ত্রীপত্নীর ফোনে বরখাস্ত হন ঈশ্বরদীর সেই টিটিই

News Pabna
মে ৭, ২০২২ ১১:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পাবনা প্রতিনিধি : বিনা টিকিটে এসি কেবিনে ওঠে মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দেওয়া সেই তিন যাত্রীর একজন ইমরুল কায়েস প্রান্তের মা ইয়াসমিন আক্তার নিপা বলছেন, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের স্ত্রী শাম্মী আক্তার মনির ফোনের পরই ট্রেনের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) বরখাস্ত হন। নিপা মন্ত্রীপত্নীর মামাত বোন।

শনিবার নিপা আক্তার বলেন, ছেলেদের সঙ্গে ‘অসদাচরণ’ করার কারণে টিটিইকে তিনি বদলি করতে মন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আক্তারকে বলেছিলেন। তখন শাম্মী তাকে জানান, বদলি না বরখাস্তই করে দিচ্ছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি (মন্ত্রীর স্ত্রী) রেলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোন করে বরখাস্ত করতে বলেন।

তবে রেলমন্ত্রী বলেছেন, ওই তিন যাত্রীকে তিনি চেনেন না।

গত শুক্রবার রাতে পাবনার ঈশ্বরদী স্টেশন থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর ভাগ্নে পরিচয় দেওয়া তিন যাত্রী। তারা হলেন, মন্ত্রীর স্ত্রীর বোনের ছেলে ইমরুল কায়েস প্রান্ত, তার চাচাত ভাই ওমর ও হাসান।

টিকিট না থাকলেও এই তিনজন খুলনা থেকে রাত ৮টায় ছেড়ে যাওয়া সুন্দরবন এক্সপ্রেসের এসি কেবিনের আসন দখল করেন। তখন টিটিই শফিকুল ইসলাম তাদের কেবিন থেকে বের করে শোভন বগিতে পাঠান এবং ৩৫০ টাকা করে জরিমানা করেন। এরপরই ট্রেন ঢাকায় পৌছার আগেই মধ্যপথে ভোররাতে টিটিইকে সাময়িক বরখাস্ত করে মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেওয়া হয়।

রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর নানাবাড়ি ঈশ্বরদীতে। প্রান্তের মা ইয়াসমিন নিপা একই শহরের নুরমহল্লা কর্মকার পাড়ার বাসিন্দা। দুই বোন এবার একসঙ্গে একই বাড়িতে ঈদ উদযাপন করেছেন বলেও জানা গেছে।

শনিবার টেলিফোনে নিপা বলেন, ছেলের সঙ্গে টিটিই অসদাচরণ করলে ফোন করে তা আমার ফুফাত বোন শাম্মীকে জানাই। টিটিইকে বদলি করে দিতে বলি। সঙ্গে সঙ্গে তিনি রেলের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাকে ফোন করে ওই টিটিইকে বরখাস্ত করতে বলেন। এরপরই টিটিই বরখাস্ত হন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদরেলমন্ত্রীর আত্মীয়কে জরিমানা, ঈশ্বরদীতে টিটিই বরখাস্ত

সংশ্লিষ্ট সংবাদ : ঈশ্বরদীতে টিটিই বরখাস্ত, মন্ত্রী বললেন যাত্রীরা আত্মীয় নয়

তিনি আরও বলেন, রেলমন্ত্রী ফোন করে শুক্রবারের রাতের ওই ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। শনিবার বিকেলে প্রান্তকে রাজধানীর রেলভবনে ডাকা হয়। সেখানে সে বিস্তারিত জানিয়েছে।

নিপা এও বলেন, আমার ছেলে ও তার দুই চাচাত ভাই টিকিট কেটেই ট্রেনে ওঠেছিল। ট্রেনের এসি কেবিনের সিট ফাঁকা থাকায় গার্ডের অনুরোধে সেখানে গিয়ে বসে। তখন টিটিই শফিকুল ইসলাম এসে টিকিট দেখতে চান। এসি কেবিনের টিকেট না পেয়ে টিটিই তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এরপর তারা নিজেদের রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দেয়। তখন টিটিই আরও খেপে যান। বলেন, ‘ট্রেন কি আপনাদের বাবার’।

তবে যাত্রীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টিটিই শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঈশ্বরদী থেকে তিন যুবক মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে সুন্দরবন এক্সপ্রেসের এসি কেবিনে ওঠেন। এই পরিচয় দেওয়ায় সম্মান দেখিয়ে সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তার (এসিও) পরামর্শে তাদের শোভন শ্রেণির টিকিট দেওয়া হয়।

এদিকে শুক্রবারের ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে রোববার বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তার (ডিসিও) কার্যালয়ে তলব করা হয়েছে শফিকুল ইসলামকে। রেলের পাকশী বিভাগীয় সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

টিটিইকে সাময়িক বরখাস্ত করা ডিসিও নাসির উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে দাবি করেছেন, শফিকুল মানসিক বিকারগ্রস্ত। অতীতেও তিনি যাত্রী ও সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন।

নাসির উদ্দিন বলেন, যাত্রীদের লিখিত অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ট্রেন পথিমধ্যে থাকতে কী করে অভিযোগ পেলেন, এ প্রশ্নে ডিসিও বলেন, রেলের কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টাই চলে। অভিযোগ পাওয়ার আধাঘণ্টার মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়ার শত শত নজির রয়েছে। যে কোনো যাত্রীর অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

এ বিষয়ে মন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আক্তার মনি বলেন, ‘এই ঘটনার সত্য-মিথ্যা কিছুই আমি জানি না।’ আপনি ট্রেনের কর্মকর্তাকে ফোন করেছিলেন কি-না, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো কথা বলব না। যাত্রীর টিকিট না থাকলে রেলের বিষয়, কিন্তু দুর্ব্যবহার…!’