সোমবার, ২৫ মে ২০২০, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

মশা কথন


।। মো. মাসুদ পারভেজ।।

মশাও যে আমাদের জনজীবনে এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এবারের আগে আমরা জানিওনি, ভাবিওনি। মশা এবার শুধু আমাদের জনজীবনেই নয় আমাদের জাতীয় জীবনেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। পত্র-পত্রিকা, রেডিও-টেলিভিশন, অফিস কিংবা চায়ের দোকান, বাসে-লঞ্চে-ট্রেনে-প্লেনে এমনকি হাঁটা-হাঁটিও এবার মশামুক্ত নয় বরং ভীষণভাবে মশা যুক্ত।

এই অতি নগণ্য প্রাণীটি কিছুদিন হলো আমাদের জাতীয় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। কত ধরণের সমস্যা যে এদেশে রয়েছে তার কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে সমস্ত সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে মশা যেনো হয়ে উঠেছে অপ্রতিরোধ্য-প্রধান সমস্যা।

যাই হোক, হঠাৎ করেই আমরা মশাময় হয়ে গেলেও মশার ইতিহাস কিন্তু প্রাগৈতিহাসিক। বাংলা ভাষার বিবর্তনমূলক অভিধান বলছে ‘মশা’ শব্দটির উৎপত্তি আনুমানিক ১৭৪৩ খ্রীস্টাব্দে। তাহলে তার আগে কি মশা ছিল না? অবশ্যই ছিলো-হয়ত অন্য নামে। তখন কি মশা রোগ ছড়াতো না? ছড়াতো, আমরা সেসব রোগে মরতামও কিন্তু জানতামই না।

মজার ব্যাপার হলো- ‘বিশ্ব মশা দিবস’ নামে যে একটি দিবস আছে তা এবারই প্রথম জানলাম! আরো মজার ব্যাপার হলো- এই দিবসটি প্রায় শতবর্ষী! ১৯৩০ সালের দিকে প্রথম এই দিবসটি পালিত হয়। গত ২০ আগস্ট অন্যান্য দেশের মতো বাংলদেশেও দিবসটি পালিত হয়েছে।

মো. মাসুদ পারভেজ। গণমাধ্যমকর্মী।

মশা সম্পর্কে উইকিপিডিয়াতে প্রাথমিক যে তথ্য আছে তা এমন ‘মশা এক প্রকারের ছোট মাছি প্রজাতির পতঙ্গ। অধিকাংশ স্ত্রী মশা স্তন্যপায়ী প্রাণীর রক্ত পান করে থাকে। মেরুদণ্ডী প্রাণী, পাখি, সরীসৃপ, উভচর প্রাণী এবং কিছু মশা মাছের শরীর থেকে রক্ত শোষণ করে। মশার হাজার রকমের প্রজাতি আছে। যদিও যেসব প্রাণীর শরীর থেকে রক্ত শুষে নেয় তা তাদের শরীরের তুলনায় খুবই অল্প, কিন্তু কিছু মশা রোগ জীবানু সংক্রামক। মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়া, পীতজ্বর, জিকা ভাইরাস প্রভৃতি রোগ সংক্রমিত হয়ে থাকে।’

এখানে দুটি বিষয় লক্ষণীয় : এক. মশা আমাদের শরীর থেকে যে রক্ত শুষে নেয় তা আমাদের শরীরের তুলনায় অতি সামান্য এবং দুই মশার মাধ্যমে অনেকগুলো রোগ সংক্রমিত হয়। আমাদের অনেকের হাতের সৌখিন নখের সমানও নয় একটি মশা, আবার আমাদের শরীর থেকে রক্ত শুষে নিলেও বলা চলে তার অল্প-বিস্তরই টের পাই আমরা। তাহলে এ কথা কি জোর দিয়ে বলা যায় মশা অতি নগণ্য এক প্রাণী! বলা যেতেই পারে।

এই অতি নগণ্য প্রাণীটি কিছুদিন হলো আমাদের জাতীয় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। কত ধরণের সমস্যা যে এদেশে রয়েছে তার কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে সমস্ত সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে মশা যেনো হয়ে উঠেছে অপ্রতিরোধ্য-প্রধান সমস্যা।

গত ৩১ আগস্ট প্রথম আলোর ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রতিবেদনে বলা হয়- গত ১৯ বছরে ডেঙ্গু রোগে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগী ছিলো ৫০ হাজার ১৭৬ জন, সেখানে চলতি বছরের শুধু আগস্ট মাসেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তা ছাড়িয়ে গেছে। কি ভয়াবহ সংবাদ! গত জুলাইয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলো ১৬,২৫৩ জন সেখানে আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০,৯৭৪ জন! এবার দেশের সবকটি জেলাতেই ডেঙ্গু ছড়িয়েছে। ২০০০ সালে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিলো ৯৩ জন যা ২০১৮তে নেমে আসে ২৬, আর এ বছর ৩০ আগস্ট পর্যন্ত প্রথম আলো ১৮৭ জনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে -যদিও সরকারি হিসেবে তা কম।

মশা আরও অনেকগুলো রোগ ছড়ায় তন্মধ্যে একটি হলো ম্যালেরিয়া। একটা সময় ছিলো যখন ম্যালেরিয়া ছিলো একটি আতঙ্কের নাম। ম্যলেরিয়া নির্মূলে বাংলাদেশ সরকার ও ব্র্যাকসহ অন্যান্য এনজিওর সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম ২০০৭ সাল থেকে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

গত ২৫ এপ্রিল বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়- ২০০৭ সালে সারাদেশে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা ছিলো ২২৮ যা ২০১৮ তে নেমে দাঁড়িয়েছে ৭। বিশ্বব্যাপি ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাওয়া এবং একই সংঙ্গে ম্যালেরিয়া বিষয়ে সরকার এবং জনগণের সচেতনতার কারণেই মূলত এ অগ্রগতি সাধন হয়েছে বলা যায়।

এখন কথা হলো- একসময়ের প্রাণঘাতি রোগ ম্যালেরিয়া নির্মূলে আমরা যদি অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করতে পারি তবে তুলনামূলক কম পরিচিত ডেঙ্গুর কাছে কি হেরে যাব? না, অবশ্যই হারব না। ডেঙ্গুর এবারের বিস্তার অন্য যেকোন সময়কে ছাড়িয়ে গেছে একথা যেমন সত্য একই সঙ্গে এটাও সত্য যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং নির্মূলে আমরা সফল হব। তার জন্য আপাতত সর্বপ্রথম যা করণীয় তা হলে আমাদের নিজেদের সচেতনতা বৃদ্ধি, সরকারের করণীয়ও কম নয়। সরকার যে ব্যাবস্থা নেবে তা সম্পূর্ণরুপে ফলপ্রসু হতে হয়ত কিছুটা সময় লাগবে। কিন্তু ডেঙ্গুকে মহামারি না হতে দেওয়ার একমাত্র উপায় আমাদের সম্মিলিত সচেতনতা।

একটা নগণ্য মশার কাছে মানুষ পরাস্ত হতে পারে না।

মো. মাসুদ পারভেজ। গণমাধ্যমকর্মী।

(নিউজ পাবনা ডটকম পত্রিকার ‘মুক্তমত’ বিভাগের সকল লেখা লেখকের একান্ত নিজস্ব মতামত, এর সাথে নিউজ পাবনা ডটকম পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতিমালার মিল নাও থাকতে পারে।- বি.স.)

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!