বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

মালিগাছা ইউনিয়নে যে কারণে নৌকার ভরাডুবি

মালিগাছা ইউনিয়নে যে কারণে নৌকার ভরাডুবি

image_pdfimage_print
মালিগাছা ইউনিয়নে যে কারণে নৌকার ভরাডুবি

মালিগাছা ইউনিয়নে যে কারণে নৌকার ভরাডুবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ৬ষ্ঠ ও শেষধাপে গত ৪ জুন পাবনা সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে পাবনা সদরে ১০টির মধ্যে ৬টিতে জয় লাভ করে নৌকা মার্কা প্রতীকের প্রতিদ্বন্দিকারী প্রার্থীরা আর ৪টিতে জয় লাভ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। যে চারটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় লাভ করেছে মালিগাছা ইউনিয়ন তার মধ্যে অন্যতম। আর মালিগাছা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন এ ইউনিয়নে তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ উম্মত আলী।

কিন্তু কেন তিন তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেও হেরে গেলেন এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। এর কারণ প্রথমত, উম্মত আলী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেও নন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পাবনা জেলার কোথাও কোন পদে তার নাম লেখা নেই। কথিত আছে বিএনপি তথা চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় থাকা কালীন সময়ে উম্মত আলী প্রকাশ্যে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তাহলে নৌকা প্রতীক তিনি কিভাবে পেলেন?

মালিগাছা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেতে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার আহমেদ শরিফ ডাবলু চেষ্টা চালিয়েছিলেন। নির্বাচনের প্রায় ১ বছর পূর্বে থেকেই গণসংযোগ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে নিজেকে সস্পৃক্ত করে রেখেছিলেন ডাবলু। মালিগাছা ইউনিয়নবাসীরও অদম্য ইচ্ছা ছিলো শিক্ষিত, মার্জিত, ভদ্র মেজাজের ডাবলুকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে।

কিন্তু সমস্যা দেখা দিলো তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের ভোট নিয়ে। আর সারাদেশে তৃণমূলের ভোট নিয়ে যে কি খেলা শুরু হয়েছিলো তাতো সবারই জানা। তৃণমূলের ভোটে উম্মত আলী পেলেন নৌকা প্রতীক । পরে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন খন্দকার আহমেদ শরীফ ডাবলু।

নির্বাচনে নৌকা   প্রতীক পাওয়ার পর উম্মত আলী আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায় থেকে গ্রীন সিগন্যাল পেয়েছিলেন আর তাই তিনি এ নির্বাচনে অন্যান্যবারের মতো ফিল্ডে নামেননি। দেখা করেননি অত্র ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের সাথে। প্রচার প্রচারণাও তেমন চোখে পড়েনি উম্মত আলীর পক্ষে, শুধু কিছু পোস্টার আর মাইকে নৌকা মার্কার গান ছাড়া তেমন কোন গণসংযোগ চোখে পড়েনি। হঠাৎ দু-একটি নির্বাচনী জনসভার নামে সাজানো ছোট্ট মঞ্চে উঠে বক্তৃতা দিতে দেখা গেছে উম্মত আলীকে।

অপরদিকে আওয়ামী লীগ মনোনিত কোন প্রার্থী নৌকা প্রতীক না পাওয়ায় অসন্তোষ দেখা দেয় অত্র ইউনিয়নের প্রকৃত আওয়ামী লীগ মনা মানুষদের মাঝে। তারা বিভক্ত হয়ে যায় দুইভাগে। এর একভাগ বেছে নেয় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ শরিফুল ইসলামকে। তারা প্রকাশ্যে নৌকার কথা বললেও ভিতরে ভিতরে শরিফুলের আনারস প্রতীকের হয়ে কাজ শুরু করেন।

ভোটেরদিন দেশের অন্যান্য এলাকার মতো একটা অস্থিতীশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালায় উম্মত সমর্থকরা। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ আর মিডিয়ার কড়া নজরদারিতে পরে সেখানেও তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি উম্মত সমর্থকরা। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। হেরে গেছে উম্মত আলী। হেরেছে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নৌকা। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেছে শরিফুল ইসলামের আনারস প্রতীক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মালিগাছা ইউনিয়নের একজন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, মূলত নৌকা প্রতীক উম্মত আলীর নিকট চড়া দামে বিক্রি করা হয়েছিলো, এবং উম্মত আলীকে আশ্বস্ত করা হয়েছিলো যে কোন মূল্যে তাকেই বিজয়ী করে দেওয়া হবে। পরে এ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের মাঝেই মতভেদ সৃষ্টি হলে ফলাফল ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।

মালিাছা ইউনিয়নের একজন বাসিন্দা মোঃ আব্দুস সালাম জানান, যারতার হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিলেই নৌকা বিজয়ী হবে এটা ভাবা ভুল। সে কারণেই মালিগাছা ইউনিয়নের মানুষ এবার উচিত শিক্ষা দিয়ে দিয়েছে।

অত্র ইউনিয়নের অপর একজন বাসিন্দা মোঃ আনোয়ার হোসেন বললেন, প্রকৃত আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কারো হাতে নৌকা নিরাপদ নয়। নৌকা প্রতীক দেখেই মানুষ ভোট দিবে এটা ভাবা ভুল ছিলো, কারণ মানুষ এখন অনেক বুঝতে শিখেছে।

ঘটনা যাই ঘটুক, দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নিরাপদে এই ইউনিয়নের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে এতে কোন সন্দেহ নেই। আর তাতে এবার মলিগাছা ইউনিয়নে একজন সম্পুর্ন তুন মুখ, মিষ্টভাষি, সদালাপী, অল্প বয়সী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাতে মালিগাছা ইউনিয়নবাসীর প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলেও প্রতিয়মান হচ্ছে।

এবারে অত্র ইউনিয়নে যিনি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি হলেন মোঃ শরিফুল ইসলাম (শরিফ)। শরিফের পিতা মোঃ আনছার আলীও একবার এই ইউয়িনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন, এবং শরিফের আপন চাচা হোসেন আলীও এই ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। যাকে ৮০র দশকে পাবনা বাণী সিনেমা হলের মধ্যে গুলি করে হত্যা করেছিলো দূর্বৃত্তরা।


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!