মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২০, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

মা-মেয়ের মাথা ন্যাড়া করা সেই তুফানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

বগুড়া শহরে বহুল আলোচিত মাসহ ধর্ষিতা কিশোরীকে মারপিট, শ্লীলতাহানি ও মাথা ন্যাড়া করে দেবার মামলায় বহিষ্কৃত শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার ও পৌর কাউন্সিলর মার্র্জিয়া হাসান রুমকিসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়েছে।

চার্জশিট দাখিলের দুই বছর পর বৃহস্পতিবার বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ শাহরিয়ার তারিক শুনানির পর এ অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। আগামী বছরের ১০ মার্চ ৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য হয়েছে।

একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়া তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

আদালতের এপিপি আসলাম আঙ্গুর এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অপর অভিযুক্তরা হলেন তুফান সরকারের স্ত্রী তাসমিন রহমান আশা, শাশুড়ি লাভলী রহমান রুমি, আত্মীয় আঞ্জুয়ারা বেগম, তুফানের ক্যাডার মেহেদী হাসান রূপম, সামিউল হক শিমুল, আতিকুর রহমান আতিক, মো. মুন্না, আলী আজম দিপু, এমারত আলম খান ওরফে জিতু মিয়া ও নাপিত জীবন রবিদাস যতীন।

তুফানের শ্বশুর জামিলুর রহমান রুনুকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

নির্যাতিত তরুণীর মায়ের গত ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই সদর থানায় দায়ের করা মামলা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, তুফান সরকার ওই বছরের ১৭ জুলাই কিশোরীকে (১৭) ভালো কলেজে ভর্তির নামে ক্যাডার দিয়ে তার বগুড়া শহরে চকসুত্রাপুর চামড়া গুদাম লেনের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর তাকে সেখানে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষনের পর তাকে জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ খাওয়ানো হয়।

ঘটনাটি তুফানের স্ত্রী আশা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন। তিনি স্বামীকে শাসন না করে ঘটনাটি তার বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকির সঙ্গে পরামর্শ করেন। তারা ওই কিশোরী ও তার মাকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করেন।

আশা ২৮ জুলাই আসামি মুন্না, আতিক, দিপু, রুপম ও শিমুলদের সহযোগিতা মা ও মেয়েকে তুলে নিয়ে রুমকির বাদুড়তলার বাড়িতে আনেন। এরপর মা ও মেয়েকে লোহার পাইপ দিয়ে মারপিট করা হয়।

এছাড়া আশা ও রুমকির নির্দেশে ক্যাডাররা কিশোরীর শ্লীলতাহানী করে। আর এ নির্যাতনের পুরো দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছিল। এতেও তাদের রাগ না কমলে নাপিত যতীনকে ডেকে এনে কিশোরী ও তার মায়ের মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হয়।

এরপর তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বগুড়া শহর ছেড়ে যেতে হুমকি দেয়া হয়েছিল। প্রতিবেশি এক ব্যক্তি ঝুঁকি নিয়ে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে শুধু বগুড়ায় নয়, সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়। তুফানকে শ্রমিক লীগ থেকে বহিস্কার ও কাউন্সিলর রুমকিকে পৌরসভার কাউন্সিলর পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

মামলাটি তদন্ত শেষে সদর থানার তৎকালীন ইন্সপেক্টর (অপারেশন) ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১০ জনের বিরুদ্ধে ও মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার মামলায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক চার্জশিট দাখিল করেন।

একটি মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এবং অপরটি অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে একজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ১২ জনের মধ্যে শুরু থেকেই আসামি আঞ্জুয়ারা বেগম পলাতক রয়েছেন। ধর্ষণ মামলায় তুফান সরকার ও মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার মামলায় শিমুল জেলে রয়েছেন।

শিমুল ৭ নভেম্বর জামিন চাইলে আদালত নামঞ্জুর করেন। অন্য ১০ জন জামিনে আছেন।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!