রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংগ্রহের দিন গুলো

image_pdfimage_print

।। এবাদত আলী।।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভের পুর্বে তৎকালিন পুর্ব-পাকিস্তানের ঊনিশটি জেলার মধ্যে পাবনা জেলা ছিলো অন্যতম একটি জেলা।

অতীতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে নীল চাষ এবং স্বদেশি আন্দোলনসহ জেলার অত্যাচারি জমিদারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে এ জেলায়।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এ জেলাবাসির ভুমিকা ছিলো গৌরবোজ্জল।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এ জেলাবাসি মহান মুক্তিযুদ্ধে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

এ জেলার দামাল ছেলেরা শত্রু হননের জন্য হাতে অস্ত্র তুলে নেয়। দেশের অভ্যন্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এবং প্রতিবেশি বন্ধু রাষ্ট্র ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হয়।

পাবনার আবাল-বৃদ্ধ- বনিতা সবাই তাদেরকে একযোগে সমর্থন দেয় ও বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে।

তখন পাবনা জেলার ছিলো দুটি মহকুমা। পাবনা সদর ও সিরাজগঞ্জ মহকুমা।

পাবনা জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে পাবনার তৎকালিন ডিসি এম নুরুল কাদের খান, এসপি আব্দুল গাফ্ফার এবং পুলিশ লাইন্সের আর আই আবুল খায়েরগণের ভুমিকা ছিলো অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

বলতে গেলে পাবনাতে তারাই সর্বপ্রথম পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেন।

তবে অপ্রিয় হলেও সত্য যে, ১৯৯৬ সালের আগ পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে পাবনা জেলার মুক্তিযুদ্ধের কোন ইতিহাস লিপিবদ্ধ ছিলোনা।

আর এই কাজটির সুচনা করেন পাবনার তৎকালিন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহবুবুর রহমান।

১৯৯৬ সালের নভেম্বর মাসে পাবনার জেলা প্রশাসক পাবনা জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পুস্তকাকারে প্রকাশের ইচ্ছা ব্যক্ত করলে তৎকালিন পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অসিত কুমার মুকুট মনিকে আহবায়ক করে একটি কমিটি গঠন করেন।

অসিত কুমার মুকুট মনি ছিলেন একজন কবি ও গীতিকার। তিনি পাবনাতে যোগদান করার পর হতে তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয় একজন লেখক হিসেবে।

আমি তখন পাবনা জেলার রাজস্ব প্রশাসনে চাকরি করতাম। আমার কর্মস্থল ছিলো আটঘরিয়া উপজেলায়।

তিনি জানতে পারেন যে, আমার লেখা পাবনা জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ধারাবাহিক ভাবে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।

২৭/১১/১৯৯৬খ্রিঃ তারিখে আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহি অফিসার আকমল হোসেনের মাধ্যমে আমাকে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করার জন্য খবর দিলে আমি পরদিন তাঁর অফিসে গিয়ে হাজির হই।

তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে আমার নিকট যে সকল তথ্য-উপাত্ত আছে তা জমা দিতে বল্লেন।

আমি তাঁকে জানালাম আমার নিকট যে সকল তথ্য রয়েছে তা যদিও নির্ভুল এবং আমি প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই বাছাই করে পত্র-পত্রিকায় উপস্থাপন করছি তার পরেও যখন সরকারি পর্যায়ে তা পুস্তকাকারে প্রকাশ করা হবে তাই আমার পক্ষে এখনো যে সকল স্থানে এখনো যাওয়া সম্ভব হয়নি সেকল স্থান থেকে আরো তথ্য সংগ্রহের জন্য কিছু সময় দিলে ভালো হয়।

তিনি হেসে বল্লেন ও নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবেনা, ডিসি স্যারের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে।

সাংবাদিক ও কলামিস্ট রনেশ মৈত্র এবং আপনি এই দুজনে মিলে পান্ডুলিপি তৈরি করবেন। আর এজন্য ডিসি পুলের একটি জিপ আপনাদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যখন যেখানে যাবেন নিয়ে যাবেন। তিনি কল বেল টিপে তার সিএ কে ডেকে জিপ চালককে খবর দিতে বল্লেন।

কিছুক্ষণ পর জিপ চালক আনসার আলী এলে তিনি তাকে সব বুঝিয়ে দিলেন। তিনি টেলিফোনে রনেশ মৈত্রের সঙ্গে কথা বলে আমাকে দিলেন। আমরা আগামিকালই কাজ শুরু করবো।

মেঘ না চাইতেই যেন বৃষ্টি। আমার জন্য এটি একটি বিরল সুযোগ। পরদিন সকালে আনসার আলী জিপ নিয়ে হাজির। আমার ইয়াসিকা ক্যামেরা, মিনি টেপ রেকর্ডার, সানগ্লাস, সান ক্যাপ, নোট বুক নিয়ে আমি তৈরি ছিলাম।

রনেশ মৈত্রের বাসায় গিয়ে দেখলাম তিনি তৈরি হয়েই আছেন। পাশে বৌদি পুরবি মৈত্র দাঁড়িয়ে। কুশল বিনিময় হলো। তিনি চা খেয়ে যেতে বল্লেন। রনেশ মৈত্র আমার অতি শ্রদ্ধাভাজন গুরুজন। বাংলাদেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক ও কলামিস্ট তিনি।

তাঁর সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা, আমি মাঝে মধ্যেই লেখালেখির বিষয় নিয়ে তাঁর শরনাপন্ন হই। তিনি পাবনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। ১৯৬১ সালের ১ মে তারিখে তাঁদের প্রচেষ্টায় পাবনা প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

আর আমি নব্বুইয়ের দশকে ঐতিহ্যবাহি এই পাবনা প্রেসক্লাবের সদস্যপদ লাভ করি। সেই সুবাদে রনেশ মৈত্রের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়।

যাক আমরা চা খেতে খেতে একটি প্রোগ্রাম তৈরি করলাম। পাবনা জেলার ৯ টি উপজেলার মধ্যে প্রথমে আমরা পাবনা সদরে কাজ শুরু করবো। সেমতে আমরা পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের মাধপুরে গিয়ে পৌঁছলাম।

১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ এই মাধপুরেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিকামি স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিলো। (চলবে)।

(লেখক: বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও কলামিস্ট)।

 

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!