শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৩:৪০ অপরাহ্ন

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক পাবনার আ‘লীগ নেতা আমজাদ হোসেনের ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আমজাদ হোসেন

ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের পাবনার প্রতিষ্ঠাকালীন সংগঠক জননেতা আমজাদ হোসেনের  ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ । তার জন্ম ১৯২৪ সালে পাবনা সদর উপজেলার চরসাদিপুর গ্রামে। তবে পরবর্তীতে তার পিতা নূরপুরে স্থায়ী বসত গড়ে তোলেন। তিনি পাবনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন রংপুর কারমাইকেল কলেজে থেকে এরপর স্নাতক পাশ করেন কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে। কলকাতায় পড়ার সময় তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।

ভাষা সৈনিক হিসেবে ৫২-র ভাষা আন্দোলনে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এ কারণে তিনি গ্রেফতারও হন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অত্যন্ত স্নেহভাজন ও আস্থাভাজন হওয়ায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হলে আমজাদ হোসেন তাঁর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করে ১৯৬২ ও ১৯৭০ সলে পাবনা সদর আসন থেকে এমএনএ (জাতীয় পরিষদ সদস্য) নির্বাচিত হন।

ততকালীন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে পাবনা জেলা আওয়ামী আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখেন, তার ত্যাগ ও অবদান সর্বজন স্বীকৃত। স্বাধীনতা পূর্ব পাবনা জেলার অশান্ত বিক্ষুব্ধ রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের তিন প্রধান কান্ডারীর ভুমিকায় ছিলেন আমজাদ হোসেন, বগা মিয়া ও অ্যাডভোকেট আমিনুদ্দিন।

১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে পাবনার মুক্তিকামী মানুষদের সংগঠিত করার পাশাপাশি ২৫ মার্চের পর পাবনা মুক্তিযুদ্ধ কমান্ডের আহ্বায়ক হিসেবে পাবনার প্রশাসন সেল গঠনসহ মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রীয় কমান্ডের নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। তিনি সহ অন্যান্য নেতার প্রচেষ্টায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে সাময়িক রশদ সংগ্রহের জন্য বিশেষ দূত প্রেরণ করা হয়।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শের সৈনিক ও সহচর মুক্তিযুদ্ধের সাংগঠক আমজাদ হোসেনের বাড়ী থেকে শুরু হয়েছে পাবনার মুক্তিযুদ্ধের সকল কর্মকান্ড ও আন্দোলনের অনেক পরিকল্পনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সহ তৎকালীন সকল নেতারাই পাবনা সফরকালে তার বাড়ীতেই উঠতেন। ১৯৯০ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনা সফর কালে তার বাড়ী পরিদর্শন করেন ও পরিবারবর্গের সাথে স্বাক্ষাত করেন।

বুকের গভীরে লালিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং সময়ের সঠিক ও সফল সংগঠক, আমৃত্যু বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের খাঁটি কর্মী হিসেবে, মুক্তিযুদ্ধের সাংগঠক আমজাদ হোসেন থাকবেন চিরস্বরনীয় হয়ে।

দেশপ্রেমিক এই জননেতা আমজাদ হোসেন, এমএনএ ১৯৭১ সালের ৬ এপ্রিল বুক ব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট জানিত কারনে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। উপস্থিত অনেক নেতা কর্মী একে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মানতে রাজী নন, এক অবাঙ্গালী চিকিৎসকের ষড়যন্ত্রেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

৬ এপ্রিল মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত আমজাদ হোসেন পাবনা জেলা মুক্তিযুদ্ধ কমান্ডের আহ্বায়ক এবং পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুর পর জেলা কমান্ডের দায়িত্ব পান রফিকুল ইসলাম বকুল (এম.পি)। তাকে দাফন করা হয় পাবনা আরিফপুর কবরস্থানে, এখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন তার আরেক সতীর্ত আবদুর রব বগা মিয়া (এমপিএ) সহ আরও অনেকে।-প্রেস নোট

0
1
fb-share-icon1


শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের প্রিন্স অফ পাবনা

Posted by News Pabna on Thursday, February 18, 2021

© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!