শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

মুক্তি যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করলেন ভূমিমন্ত্রী

Madhpur_6ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী কিছু কুলাঙ্গার ছাড়া সবাই ছিল মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি। ১৯৭১ সালের আজকের এ দিনে পাবনার দাপুনিয়ার মাধপুর বটতলায় শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর নেতৃত্বে পাকিস্তানি আর্মির সাথে সম্মুখ সমরে নিহত ১৭ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি মন্ত্রী এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের একটি অধ্যায় শেষ হয়েছে মাত্র। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সেদিনই পূরণ হবে যেদিন দেশের শাসন ব্যবস্থায় সকলের জন্য মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। মন্ত্রী বলেন, যারা ইসলামের শত্রু, মানবিকতার শত্রু, স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতকারী, তাদের এদেশ থেকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করা হবে। তিনি বলেন, এদেশে বিপথগামী মানুষ ধ্বংস হয়ে যাবে।

মন্ত্রী ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ মাধপুর বটগাছ তলায় পাকিস্তানি আর্মির সাথে সম্মুখ যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিজ কানে শুনে এসে ঈশ^রদী পেপার মিল, পাকশি রেলওয়ে, থানা ও বিভিন্ন স্থান থেকে আমরা ৪২টি দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করি।

আমরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করছিলাম পাকিস্তানি আর্মির উপর হামলা চালানোর। ২৮ মার্চ পাবনার ডিসি নূরুল কাদেরের নেতৃত্বে পুলিশ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ সাধারণ জনতা পাকিস্তানি আর্মির উপর হামলা চালায়। হামলায় পাকিস্তানি সৈন্য ধরাশায়ী হয়। রাজশাহী থেকে পাকিস্তানি আর্মি কর্নেল বাকি বেলুচ এর নেতৃত্বে কামান, গোলা, হেভীঅস্ত্রশস্ত্রসহ ১৩টি সাজোয়া ট্রাক নিয়ে পাবনায় আটকে পড়া পাকসেনাদের রিকভারির জন্য আসে।

২৯ মার্চ আমরা জানতে পারি তারা পাবনা থেকে দাশুড়িয়া হয়ে রাজশাহী ফিরছে পাক আর্মি। আক্রমণের এটাই সুযোগ ভেবে আমরা পাকশি মাঠ থেকে পাবনার উদ্দেশ্যে হাজার হাজার জনতাসহ ঝাপিয়ে পড়ি। পাবনার দাপুনিয়ার মাধপুর নামক স্থানে একটি বট বৃক্ষকে উপযুক্ত স্থান ভেবে পাকি আর্মিদের প্রতিরোধের জন্য সেখানে টেন্স খনন করি। একসময় পাকসেনাদের সাথে আমাদের সংগৃহীত ৪২টি অস্ত্র, পাবনা থানা থেকে পাওয়া আরও ৭টি আধুনিক অস্ত্র ও তীর, বল্লম, হাসুয়া বাঁশ নিয়ে হাজার হাজার জনতা পাকিস্তানি ১৩টি ট্রাক বহরের উপর সেদিন আমরা ঝাপিয়ে পড়ি।

আমাদের আক্রমণে সেদিন পাকিস্তানি সেনা মেজর আসলামসহ এক ডজন পাক আর্মি নিহত হয়। পাকিস্তানি আর্মির এ বহরের কাহারো রাজশাহী যাওয়ার রাস্তা চেনা না থাকায়, মাধপুরের হামলায় তাদের গোলাবারুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণ আসায় তারা তাদের সাজোয়া যুদ্ধ যান ফেলে রেখে যে যেভাবে পারে পালাতে চেষ্টা করেছিল।

কিন্তু পরে জেনেছিলাম ঐ পাকিস্তানি আর্মি বহরের সব সৈন্যই রাজশাহী পৌঁছার আগেই বিভিন্ন জায়গায় জনস্রোতের আক্রমণে অনেকেই মারা যায়। সেদিনের সেই স্মৃতি ভুলার নয়। মন্ত্রী বলেন, আমি হয়তো ঐ যুদ্ধে শহীদ হতে পারতাম। আজ গাজী হয়েও এক বুক ব্যথা নিয়ে ঢুকরে ওঠি। এখনও খুঁজি রাজুকে, এখনও খুঁজে বেড়াই হাশেম মল্লি¬ককে। তাঁরা হারায়নি, তাঁরা ইতিহাসের পাতায় আজীবন থাকবে।

বঙ্গবন্ধুর সেই ৭ মার্চের মুক্তি সংগ্রামের ডাকই আমাদের পাগল করে দিয়েছিল। এরপর বঙ্গবন্ধুর আহ্বান পেয়ে আমরা উজ্জীবিত হয়ে পাক আর্মির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধের প্রস্তুতি নেই। তার কিছুদিন পরে যদিও ১১ এপ্রিল আমরা ভারতে গেলাম।

১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকার গঠিত হলো, মুক্তিযোদ্ধারা সুসংগঠিত হলো, তবুও মাধপুরের সেইদিনের এ অদম্য বিশাল আত্মত্যাগ জাতিকে শ্রদ্ধার চোখে দেখতে হবে। পাবনার প্রথম স্বার্থক সম্মুখ মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে এ যুদ্ধটি স্বীকৃতি পাবে বলে আমি আশা করছি।

পাবনার মাধপুর ঐতিহ্যবাহী বটতলার পাশেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিস্তম্ভের জন্য ১০ কাঠা জমি আমরা বর্তমান বাজার দরে কিনে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছি।

এ এলাকায় বেশ কিছু খাস জমি রয়েছে এছাড়া অল্প কিছু জমি ব্যক্তিমালিকানায় রয়েছে আমরা তাদের কাছ থেকে উপযুক্ত মূল্য দিয়ে কিনে নেব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মাধপুরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্বরূপ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে একনেকে অনুমোদনের পরই অচিরেই মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, একটি লাইব্রেরিসহ একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।

মুক্তিযোদ্ধা লাবু সরদারের সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুর রহমান হাবিব, ডেপুটি কমান্ডার আবদুল বাতেন, আবুল কাশেম বিশ্বাস, রশীদুল্লাহ, মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক মুজিবুল হোসেন সমাজী, আ. খালেক, আনিসুন্নবী বিশ্বাস, ঈশ্বরদী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুর রাজ্জাক, ঈশ্বরদী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বক্তব্য দেন।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!