বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৪:২৫ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

মেঘে ভাসছে জীবন!

image_pdfimage_print

প্রযুক্তি ডেস্ক : এক অসাধারণ সম্ভাবনার দুয়ারে দাঁড়িয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীর প্রতিবেশী গ্রহ শুক্রর মেঘে জীবসত্তা ভাসছে বলে ধারণা করেছেন তারা। এক প্রতিবেদনে এই খবর দিয়েছে বিবিসি ও রয়টার্স।

শুক্রর বায়ুমন্ডলে একটি গ্যাস খুঁজে পেয়েছেন জোতির্বিজ্ঞানীরা, তা থেকেই জীবনের অস্তিত্বের ইঙ্গিত মিলেছে। এই গ্যাসটি হলো ফসফিন- একটি ফসফরাস পরমাণু ও তিনটি হাইড্রোজেনের পরমানুর সমন্বয়ে এই অণু গঠিত।

পৃথিবীতে ফসফিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর জীবাণুগুলো পেঙ্গুইনের মতো প্রাণীর অন্ত্রে ও অক্সিজেন কম আছে এমন জলাবদ্ধ পরিবেশে থাকে।

এটা শিল্প কারখানায় তৈরি করা যায়, কিন্তু শুক্র গ্রহে কোনও কারখানা নেই এবং নিশ্চিতভাবেই নেই পেঙ্গুইন। তাহলে কেন গ্যাসটি সেখানে, গ্রহটির ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫০ কিলোমিটার উপরে? এই প্রশ্ন করেছেন যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জেন গ্রিভস ও তার সহকর্মীরা।

শুক্রে ফসফিন নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ ন্যাচার অ্যাস্ট্রোনমি সাময়িকীতে বিস্তারিত প্রকাশ করেছেন। তাদের অনুসন্ধানে তারা দেখাতে চেয়েছেন এই অণুগুলো প্রাকৃতিক।

শুক্র সম্পর্কে সবাই যা জানে এবং সেখানে যে পরিস্থিতি বিদ্যমান, তাতে করে এর আশেপাশে ফসফিনের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে পারবে না কেউই। তবে এখানে যে জীবনের উৎস আছে, তা বিবেচনা করা যেতে পারে।

অধ্যাপক গ্রিভস বলেছেন, ‘আমি অবাক হয়েছিলাম, আসলে হতভম্ব। এই পৃথিবীর বাইরে অন্য কোথাও জীবনের সন্ধান পেতে আমি পুরো ক্যারিয়ার আগ্রহী ছিলাম। তাই এমন সম্ভাবনা দেখে আমি যারপরনাই পুলকিত। কিন্তু হ্যাঁ, আমাদের গবেষণায় কোথায় ঘাটতি আছে তা বলার জন্য লোকজনকে উৎসাহিত করছি আমরা। আমাদের কাগজপত্র ও উপাত্তে সবার প্রবেশাধিকার আছে, এভাবেই বিজ্ঞান কাজ করে।’

শুক্রর মেঘে অধ্যাপক গ্রিভসের দল প্রথম ফসফিন শনাক্ত করে হাওয়াই দ্বীপের জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল টেলিস্কোপের মাধ্যমে। এর উপস্থিতি তারা নিশ্চিত করে চিলির অ্যাটাকামা লার্জ মিলিমিটার বা সাবমিলিমিটার অ্যারে ব্যবহার করে।

আসলেই প্রাণের অস্তিত শুক্রে আছে কিনা তা নিয়ে আরও পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাতে হবে। কিন্তু সৌরজগতের এই গ্রহে এমন কিছুর সম্ভাবনা দেখাও অলীক কল্পনা। কারণ পৃথিবীর তুলনায় এটিকে নরক বলা যেতে পারে। বায়ুমণ্ডলের ৯৬ শতাংশ কার্বন ডাই অক্সাইডে ভরা। ভূপৃষ্টের তাপমাত্রা অনেকটা পিজ্জা ওভেনের মতো, চারশ ডিগ্রির উপরে। আর এই কন্ডিশনের মধ্যে এর ৫০ কিলোমিটার উপরে ফসফিনের মতো গ্যাস!

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!