রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা বেসামাল, চিকিৎসাসেবা ব্যহত

Ab_Rojider-Durvog-Charameআবু ইসহাক, সাঁথিয়া (পাবনা) থেকে : পাবনা জেলা সদরসহ ৯টি উপজেলায় অবস্থিত হাসপাতালগুলোর কোন নিয়ম কানুনই মানছেন না ওষুধ কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা। অভিযোগ উঠেছে, যখন-তখন তারা দল বেধে ঢুকে পড়ছেন চিকিৎসকের কক্ষে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকেরা রিপ্রেজেন্টেটিভদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন। এতে হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন ।

অভিযোগে জানা গেছে, রোগীরা চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বাইরে আসার সাথে সাথে রিপ্রেজেন্টেটিভ ও তাদের এজেন্টরা প্রেসক্রিপশন নিয়ে শুরু করেন টানাহেঁচড়া। নিজেদের কোম্পানির ওষুধ না লিখলে চিকিৎসকের কাছে অনেকে কৈফিয়ত চাইতে দ্বিধা করেন না। ইবনেসিনা ফার্মাসিটিক্যাল ইউনানী ডিভিশনের সাঁথিয়া-বেড়া প্রতিনিধি আবুল কালাম একাধিক ডাক্তারের সাথে খারাপ আচরণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে হাসপাতালগুলোয় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা হাসপাতালগুলোয় একই অবস্থা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা কোন আদেশ মানছেন না। তারা হাসপাতালের বাইরে ব্যাগ রেখে অনায়াসে রোগীর দর্শনার্থী সেজে ভেতরে ঢুকে পড়ছেন। আর এরই মাঝে তারা কাজ সেরে নিচ্ছেন। প্রতিদিন দুপুর ২ টার পর মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ প্রবেশের অনুমতি রয়েছে। তবে শীর্ষস্থানীয় দুই-একটি ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ ছাড়া এ নিয়মনীতি কেউ মানছেন না। নানা কৌশলে সকাল ৯ টা থেকেই তারা ভেতরে ঢুকে পড়েন।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের একধিক সূত্র জানিয়েছেন, বর্হিবিভাগে সব সময় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের থাকে জটলা। চিকিৎসকদের কক্ষ থেকে রোগীরা বেড়িয়ে এলেই প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাহেঁচড়া করেন বিভিন্ন কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি। এতে অনেক রোগী ভয়ে আঁতকে ওঠেন। চিকিৎসকের কক্ষের সামনে দায়িত্বরত কর্মচারি জানান, নির্ধারিত সময়ের বাইরে চিকিৎসকের সাথে দেখা করতে তারা কখনও সাদামাটা পোশাকে আবার কখনও রোগী সেজে চেম্বারে ঢুকে পড়েন।

জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ দেশেরবিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করছেন। প্রতিটি কোম্পানি থেকে বিক্রয় প্রতিনিধিদের ওপর একটি চাপ থাকে নির্দিষ্ট ওষুধের বিক্রি বাড়ানোর। আর ওষুধের বিক্রি বাড়ানো ও লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ওপর নির্ভর করে তাদের চাকরি এবং প্রমোশন।

এ কারণে প্রেসক্রিপশনে প্রতিটি কোম্পানির প্রতিনিধিরা ওষুধ লেখাতে অনেক সময় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। চিকিৎসকদের ম্যানেজ করতে প্রয়োজনীয় উপহার কোম্পানির পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হয়। আর এ কারণেই চিকিৎসকেরা তাদের পছন্দের কোম্পানির ওষুধ লিখতে প্রভাবিত হন।

ইনসেপটা কোম্পানির এক বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, প্রতি সপ্তাহে তাদের একটা টার্গেট দেয়া হয়। ওই টার্গেট অনুপাতে চিকিৎসকরা প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন কিনা, তাও মনিটরিং করতে হয়। প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বাস করানোর জন্য মোবাইলে প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে রাখতে রোগীর প্রেসক্রিপশন দেখতে হয়। আর এ জন্য তাকে সকাল থেকে হাসপাতালে থাকতে হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চিকিৎসকরা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে উপহার নেয়া। এসব উপহার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে, ঘরে ফার্নিচার, এসি, ফ্রিজ, টেলিভিশন, ল্যাপটপসহ নানা জিনস। এর ফলে চাপে পড়ে চিকিৎসকরা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধসহ প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওষুধ লিখছেন।

পাবনা মেডিকেল কলেজের একজন অধ্যাপক জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মেডিকেল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া আইন করেছে ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে উপহার নিলে বিভিন্ন মেয়াদে চিকিৎসা সনদ বাতিলের। তবে বাংলাদেশে অদ্যাবধি এ সংক্রান্ত কোন আইন তৈরি হয়নি। তবে তিনি বলেছেন, বাজারে নতুন ওষুধ এলে ওষুধের জেনেটিক নাম এবং ব্রান্ডের নাম জানতে চিকিৎসকরা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের ওপর নির্ভর করেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ আব্দুল বাছেত খান জানান, লন্ডনে চিকিৎসকদের জন্য সর্বোচ্চ ৫ থেকে ৭ পাউন্ড মূল্যমানের উপহার দেয়ার রীতি চালু রয়েছে। দেশে এ ধরনের কোন নিয়মনীতি নেই। ফলে ওষুধ কোম্পানিগুলো পণ্য বিক্রিতে এগিয়ে থাকার লড়াই করতে গিয়ে ব্যবসায়িক নীতি মানছে না।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সিভিল সার্জন বলেন, অনেক সময় রিপ্রেজেন্টেটিভরা নির্ধারিত সময় মানছেন না। বিশেষ করে অখ্যাত কোম্পানির প্রতিনিধিরাই বেশিরভাগ সময় জটলা করেন।

তবে হাসপাতাল প্রশাসনের অনমনীয় মনোভাবের কারণে এখন পরিস্থিতি কিছুটা ভাল। হাসপাতালের বাইরে রোগীদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানির কথা স্বীকার করে বলেন, এতে রোগীরা দূর্ভোগের স্বীকার হন। এটা বন্ধ না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি নাজুক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্রগুলোর পরিস্থিতি।


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!