মোটর সাইকেল নিবন্ধন ফি জমা নিয়ে জটিলতা নিরসনে কাজ করছে পাবনা বিআরটিএ

জামালা উদ্দীন, সহকারি পরিচালক (ইঞ্জি:) পাবনা বিআরটিএ

জামালা উদ্দীন, সহকারি পরিচালক (ইঞ্জি:) 

নিজস্ব প্রতিবেদক:  পাবনায় মোটর সাইকেলের নিবন্ধন ফি জমা দেয়া নিয়ে জটিলতা যেন কাটছেই না। সারা জেলায় মোটর সাইকেল নিবন্ধনের জন্য পুলিশের অব্যাহত অভিযানে অনেকটা দিশেহারা হয়ে পরেছে সাধারণ মানুষ।

এ অবস্থায় নিবন্ধন ফি জমা দিতে গিয়ে ব্যাংকে হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে মানুষকে। কারণ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে একটা সিরিয়ালে মাত্র ৫০ জনের নাম অর্ন্তভূক্ত করে শুধু তাদের টাকা জমা নিচ্ছে পাবনাস্থ স্যোসাল ইসলামী ব্যাংক লিঃ। ফলে প্রতিদিন কয়েক’শ মানুষকে ফিরে যেতে হচ্ছে টাকা জমা দিতে না পেরে।

সরেজমিনে স্যোসাল ইসলামী ব্যাংক পাবনা শাখায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মোটর সাইকেলের নিবন্ধন ফি জমা দিতে প্রচন্ড ভিড় করছেন মানুষ। কিন্তু ব্যাংকের বক্তব্য রমজান মাসে এর বেশী চাপ নিতে পারবেন না তারা। ফলে অনেককে ফিরে যেতে হচ্ছে টাকা জমা না দিয়েই।

তাহলে জটিলতাটা কোথায় বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এ প্রতিবেদক কথা বলেন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) পাবনা জেলার সহকারি পরিচালক (ইঞ্জি:) মোঃ জামাল উদ্দীনের সাথে।

সহকারি পরিচালক (ইঞ্জি:) মোঃ জামাল উদ্দীন জানান, মানুষ কষ্ট পাচ্ছে এটা আমরাও জানি, যতদ্রুত সম্ভব এ সংকট সমাধানে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। এই সমস্যার সমাধান অচিরেই হয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।

তিনি জানান, গত ৮ জুন বিআরটিএ’র প্রধান অফিসে পাবনার এই ব্যাংক সংকটের কথা জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন তিনি।  যার স্মারক নং- বিআরটিএ/সপ/পাব/২০১৬-২৭০। চিঠির উপরে ‘অতিব জরুরী’ লিখে দিলেও এখন পর্যন্ত চিঠির কোন উত্তর পাননি তিনি।

চিঠিতে বিশদভাবে পাবনায় কোন কোন ব্যাংকের সাথে পাবনা বিআরটিএ রাজস্ব আদায় করে তা উল্লেখ রয়েছে। এবং কোন কারণ ছাড়াই স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পাবনা শাখা, মোটর সাইকেলের নিবন্ধন ফি জমা নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বলেও উল্লেখ্য করা হয়েছে।

এবং এই চিঠির একাংশে তিনি যে কোন সময় বিআরটিএ অফিসে যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন। সেইসাথে এই চিঠির অনুলিপিতে তিনি জেলা প্রশাসক, পাবনা। পাবনা পুলিশ সুপার, পাবনা এবং উপ-পরিচালক (ইঞ্জি:) রাজশাহী বিভাগ, রাজশাহীকে অবগত করেছেন। তারপরেও এ সংকটের কোন সমাধান না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন পাবনা বিআরটিএ’র এই অফিসার।

পাবনা বিআরটিএর সহকারি পরিচালক (ইঞ্জি:) মোঃ জামাল উদ্দীন জানান, সিএনএস লিঃ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যারা ব্যাংকে বিআরটিএর সফটওয়্যার সরবরাহ করে থাকে তাদেরকেও পাবনার সম্ভাব্য ৩টি ব্যাংকের নাম সরবরাহ করা হয়েছে। তারপরেও কেন এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হচ্ছেনা এ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি। তবে সেইসাথে দ্রুতই এ সংকটের সমাধান হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।