মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ১১:১১ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

মোরশেদুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের হাতেগোনা যে ক’জন নির্মাতা উজ্জ্বল আলোয় উদ্ভাসিত তাদের মধ্যে মোরশেদুল ইসলাম অন্যতম।

বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করলেও তাঁর কাজে প্রাধান্য পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ। একধরনের দ্বায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই কাজগুলো করেছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মাণ করেছেন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচিত্র এবং পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচিত্র।

১৯৫৭ সালে জন্ম মোরশেদুল ইসলাম চলচিত্র নির্মাণ করে পেয়েছেন জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি।
তাঁর উল্লেখযোগ্য নির্মিত চলচিত্রের মধ্যে রয়েছে আগামি, চাকা, দীপু নাম্বার টু, দুখাই, দূরুত্ব, খেলাঘর, প্রিয়তমেষু, আমার বন্ধু রাশেদ, অনিল বাগচীর একদিন।

মুক্তিযুদ্ধের চলচিত্র এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে গুনী এই নির্মামার সাথে কথা বলেছেন সুলতান মাহমুদ সোহাগ

নিউজ পাবনা: এদেশের চলচিত্রে দুটো ভাগ লক্ষ্য করা যায়। এটা খুব বেশিদিন আগে ছিল না। আপনাদের সময় থেকেই শুরু হয়েছে। একটা হচ্ছে বিকল্পধারা আরেকটা হচ্ছে মূলধারা। এই ধারা সম্পর্কে একটু জানতে চাই।
মোরশেদুল ইসলাম : বিকল্পধারা বলতে আমরা যেটা বোঝাতে চেয়েছি সেটা হচ্ছে বিকল্পভাবে তৈরি। এফডিসির কিছু নিয়ম কানুন আছে। এটা থেকে বের হয়ে বিকল্পভাবে তৈরি।

এখনতো ৩৫ মিলিমিটারে খুব বেশি সিনেমার শুটিং হয় না। তখন হতো। আমরা ৩৫ মিলিমিটারে শুটিং না করে ১৬ মিলিমিটারে শুটিং করলাম। এটাতে খরচ অনেক কমে গেল।

ওইভাবে সেট বানায়ে আমরা শুটিং করতাম না। যেকোন লোকেশনে আমরা কাজ করতাম। কয়েকজন মিলে কাজটা হতো। অডিটোরিয়াম ভাড়া করে এটা প্রদর্শন করতাম।

এই যে সবকিছু বিকল্পভাবে তৈরি হত বলে এটাকে আমরা বলতাম বিকল্পধারার ছবি। আর প্রচলিত ধারায় চলচিত্র বানানোকে বলতাম মূলধারার চলচিত্র।

নিউজ পাবনা:জীবনের ঠিক কোন সময় এসে আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হওয়ার?
মোরশেদুল ইসলাম : আমি যখন স্কুলে পড়ি তখন থেকেই প্রচুর সিনেমা দেখতাম। এরপর একটু বড় হয়ে আমি ফিল্ম সোসাইটির সদস্য হয়।

সেইসাথে বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র দেখা শুরু করি। তখন থেকেই আমার মনে হল চলচ্চিত্র একটা বড় মাধ্যম।চলচ্চিত্র নির্মানের কথা তখনও ভাবিনি।

যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তখন তিন মাসের একটা ফিল্ম এপ্রিসিয়েশন কোর্সের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ। আমি ভর্তি হলাম। তখন থেকেই ইচ্ছেটা শুরু হল চলচ্চিত্র নির্মানের।

ওই কোর্সের পরিচালক ছিলেন আলমগীর কবির। তিনিই আমাদের সাহস দিতেন।তিনি বলতেন চলচ্চিত্র নির্মান খুব কঠিন কিছু না। এই সাহসটাকে সাথে নিয়ে আমি আমার প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগামী’ বানিয়েছিলাম।
সেটা একটা মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা ছিল।

নিউজ পাবনা: আপনার চলচ্চিত্রের বিষয় হিসেবে মুক্তিযুদ্ধকেই আমরা বেশি দেখতে পাই, ব্যাখ্যাটা একটু জানতে চাই?

মোরশেদুল ইসলাম : মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমার বয়স ছিল ১৩ বছর। মুক্তিযুদ্ধ ছিল আমাদের কাছে একেবারে জ্বলজ্বলে স্মৃতি।

আমার প্রথম চলচ্চিত্র বানানোর আগে কোন বিষয় নিয়ে নির্মাণ করব এটা ভাবতেই আমার সামনে মুক্তিযুদ্ধর কথাই মনে হল।

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি তখন বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করছিল, আর মুক্তিযোদ্ধারা শুধু নিরবে চেয়ে চেয়ে দেখছিল, তারা কোনো প্রতিবাদ করতে পারছিল না।

এই বিষয়গুলিই আমি আমার প্রথম চলচ্চিত্রে তুলে আনার চেষ্টা করেছি।

জয় বাংলা স্লোগান আছে এই কারনে ‘আগামী’ চলচ্চিত্রটি সেন্সর আটকে দিল। ৫২ জন বুদ্ধিজীবির একটা বিবৃতি ছাপা হয়েছিল বিভিন্ন পত্রিকার প্রথম পাতায়, ‘আগামী’কে মুক্তি দিন- এই শিরোনামে। তারপরই কিন্তু সরকার এটা মুক্তি দিতে বাধ্য হল।

নিউজ পাবনা: আরেকটা বিষয় ডিসেম্বর বা মার্চ মাসেই আমরা মুক্তিযুদ্ধের ছবি নিয়ে কথা বলি, নির্মান করি, মুক্তি দেয়া হয়? সারা বছর এটা করা হয় না?

মোরশেদুল ইসলাম : বাংলাদেশের মানুষের কাছে ডিসেম্বর এবং মার্চ এই দুটি মাস বিশেষ মাস। এই দুটি মাসেই আমরা মুক্তিযুদ্ধর কথা স্মরণ করি। স্মৃতি রোমন্থন করি। একারনেই মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা আমরা বেশি দেখতে চাই।

তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা কিণ্তু খুব বেশি নির্মাণ হয়না। বেশি নির্মাণ হলে অন্যসময় হয়ত মুক্তিদেয়া হত। তবে আমি মনে করি মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা অনেক বেশি নির্মাণ হ্ওয়া দরকার।

নিউজ পাবনা: আপনি বললেন মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা খুব বেশি নির্মিত হয় না। এর কারণ কি?
কারণ একটাই এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কম তারমানে ব্যবসা নাই। এজন্যই মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা কম নির্মিত হচ্ছে। এটা কিন্তু একটা বড় সংকট।

এছাড়া নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা নির্মাণের আগ্রহ কম। আগ্রহ বাড়াতে হবে। তারা যদি আগ্রহী হয় তাহলে কিন্তু ভিন্ন মাত্রা পাবে। আমাদের আবেগ আর তাদের আবেগ দুই ধরনের।

এরপরও কেউ কেউ বানাচ্ছেন, আমি দেখেছি তাদের সিনেমা, ভালো হয়েছে। তাদেরকে আরো এগিয়ে আসতে হবে তাহলেই এই সংকট দূর হবে। এজন্য রাষ্ট্রকেও সহযোগিতা করতে হবে। তাছাড়া সম্ভব হবে না।
আরেকটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, সবসময় বাণিজ্যকে প্রাধান্য দেয়া যাবে না।

নিউজ পাবনা: খুব শিগ্রী মুক্তি পেতে যাচ্ছে আপনার চলচ্চিত্র ‘আঁখি ও তার বন্ধুরা’ এর গল্প একটু শুনতে চাই।

মোরশেদুল ইসলাম : সিনেমাটা নিয়ে আমি খুব আশাবাদি। দীপু নাম্বার টু এর মত এই সিনেমাটাও সবার ভালো লাগবে। ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের গল্পে ‘আঁখি’ নামের ছোট একটা মেয়েই এই চলচ্চিত্রের মূল কাহিনী।
মেয়েটি অন্ধ। কিন্তু সে প্রতিবন্ধী স্কুলে না পড়ে সাধারণ স্কুলে পড়তে আসে ।

আঁখির বেশকিছু বন্ধু হয়। কিন্তু শিক্ষকদের দুর্ব্যবহারে আঁখি যখন চলে যেতে চায়, তার বন্ধুরা এগিয়ে আসে তখন।

আঁখি জানায়, সে অন্ধ হিসেবে বিবেচিত হতে চায় না। সে অন্য সবার মতো হতে চায়। আঁখির এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে বন্ধুরা। আঁখিকে অন্ধ হিসেবে কোনো করুণা করে না তারা। স্রেফ বন্ধু মনে করে।

এরপর নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় কাহিনী। এই মাসেই মুক্তি পাচ্ছে। সবাইকে দেখার জন্য আমন্ত্রণ।

 

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!