যাত্রী চাহিদা সত্ত্বেও চালু হচ্ছে না ঢাকা-ঈশ্বরদী ফ্লাইট

যাত্রীদের চাহিদা থাকার পরও পাবনার ঈশ্বরদী বিমানবন্দর থেকে ঢাকা রুটে ফ্লাইট চালু হচ্ছে না ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এ বন্দরটি পুনরায় চালুর দাবি উঠেছে সর্বমহলে। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে পাবনা-৪ এর সংসদ সদস্য ও ভূমিমন্ত্রী এবং জেলা প্রশাসনকে কয়েক দফা জানানো হয়েছে।

বিভিন্ন সভা-সমাবেশেও বিমান বন্দরটি চালুর দাবি জানানো হয়েছে। এরপরও ঈশ্বরদী-ঢাকা-ঈশ্বরদী রুটে ফ্লাইট চালু হচ্ছে না। নির্মাণের পর ১৯৬৫ সালে ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা শুরু করে। সেই সময় প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে দুইটি করে ফ্লাইট চলতো। যাত্রীর সংখ্যাও ছিল ভাল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বিমান বন্দরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং স্বাধীনতার পর মেরামত করে ১৯৭২ সালে আবার বিমান চলাচল শুরু হয়। তখন পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর ও রাজশাহীর অনেক যাত্রী ঈশ্বরদী হয়ে বিমানে ঢাকা যাতায়াত করতেন। অনেকদিন বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চলার পর লোকসানের অজুহাতে ১৯৮৭ সালে এই রুটে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়।

যাত্রীদের দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালের ১৭ জুলাই থেকে আবারো বিমান চলাচল শুরু হলেও তিন বছর পর লোকসানের অজুহাতে ১৯৯৬ সালের ৩ নভেম্বর পুনরায় বিমান চলাচল বন্ধ করা হয়। এরপর মানুষের দাবির মুখে ১৯৯৮ সালের ১০ মে বেসরকারি এয়ারলাইন্স এয়ার পারাবতের ফ্লাইট চালু করা হয়। মাত্র ৩৮ দিন চলার পর ২৮শে জুন এই সার্ভিস বন্ধ করা হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আবার ফ্লাইট উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু ৬ মাস ১১ দিন পর আবার বন্ধ হয় বিমানবন্দরটি।

ঈশ্বরদীতে রয়েছে দেশের বেশ কয়কটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। যেমন রূপপুর পারমানবিক প্রকল্প, বাংলাতেশ সুগারক্রপ ইন্সটিটিউট, ঈশ্বরদী ইপিজেড, ডাল গবেষণা কেন্দ্র, রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় অফিস, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, পাবনা চিনিকল, আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিল, পাকশী নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল (বর্তমানে বন্ধ), বেনারসী পল্লীসহ চার শতাধিক চাউল কল, অটো রাইচ মিল, অয়েল মিল ইত্যাদি। বর্তমানে রূপপুর প্রকল্প ও ইপিজেড ঘিরে অনেক বিদেশিরা এখানে বসবাস করছেন। জরুরি প্রয়োজনে ঢাকা যাতায়াত করতে হলে সেই সুযোগ তারা পাচ্ছেন না।

এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপক আব্দুর রশিদ আকন্দ জানান, বিমান বন্দরটি ৪৩৫ একর জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৭শত ফুট ও প্রস্থ ৭৫ ফুট। বর্তমানে দেশে যে ধরনের ফ্লাইট রয়েছে, সেগুলো ঈশ্বরদী বিমান বন্দরে অবতরণের জন্য রানওয়ের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে একটি প্রস্তাব বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দফতরে পাঠানো হয়েছে।