যানজটে বিপর্যস্ত পাবনা শহর

নিজস্ব প্রতিনিধি : যানজটের ফাঁদে আটকে থাকে পাবনা শহর।
শহরের প্রধান সড়ক হামিদ রোডই শুধু নয় শহরের অনন্ত মোড়, পৌলানপুর, খেয়াঘাট, আলিয়া মাদ্রাসা, চাপাবিবি, পাঁচমাথা মোড় সহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে অসহনীয় যানজট পরিস্থিতি ক্রমশই দূর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

শহরের একমাত্র প্রধান ব্যস্ততম সড়ক হামিদ রোডের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের সামনে থেকে শুরু করে খেয়াঘাট মোড়, সদর হাসপাতালের মূল ফটকের সামনের রাস্তা হয়ে মেরিল বাইপাস ও
পৌলানপুর মোড় থেকে আলিয়া মাদ্রাসা হয়ে এডওয়ার্ড কলেজ গেট পর্যন্ত যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে পথে চলাচলকারী মানুষদের।

হাসপাতালগামী এম্বুলেন্স মুমূর্ষু রোগী নিয়ে অসহনীয় যানজটে আটকে থাকে। একজন মুমূর্ষ রোগীর জন্য তা প্রাণঘাতী ভয়ংকর এবং বিপদজনক।

আলমগীর হোসেন একজন এম্বুলেন্স চালক, তিনি বলেন, আমি চালকের আসনে বসে সবসময় চেষ্টা করি যতদ্রুত সম্ভব মুমূর্ষ রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছাতে। কিন্ত পাবনা শহরের যানজটের যে অবস্থা তাতে রোগীকে সময়মত পৌঁছাতে পারিনা।

পাবনা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ মাহফুজ নয়ন বলেন, একজন মুমূর্ষু রোগী সময়মত হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারলে রোগী মারা যেতে পারে।

স্ট্রোকের রোগী বা হার্ড এ্যটাকের রোগীগুলো খুবি স্পর্শকাতর অবস্থা থাকে। তবে হাসপাতালগামী সকল রোগীর জন্যই প্রতিটি মূহুর্তই অনেক মূল্যবান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, যানজটের কারনে অটোরিকশার ভেতরেই একজন প্রসূতি মায়ের বাচ্চা প্রসব হয়েছে এমন ঘটনাও ঘটেছে এই অসহনীয় যানজটের কারনে।

পাবনা শহরে যানজট পরিস্থিতি ক্রমশ জঠিল হওয়ার জন্য বেশকিছু কারণ মনে করেন পাবনার সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

জেলার নাগরিক সামাজের জাকির হোসেন বলেন, প্রধান সড়ক হামিদ রোড প্রসস্থ করতে হবে নয়তো হামিদ রোডের বিকল্প সড়ক গড়তে হবে।

শহরের অনন্ত সিনেমা হল মোড় ক্রস করতে সময় লাগে ৫ থেকে ৭ মিনিট অথচ মোড়ের পূর্ব দিকে কয়েক গজ অদূরে রাস্তা আছে যার উপর কাঠের গুড়ি ফেলে অচল করে রাখেছেন একজন কাঠ ব্যবসায়ী।

সড়ক বিভাগ ব্যবস্থা গ্রহনের কথা থাকলেও এর সূরাহা হয়নি কয়েক মাসেও।

জেলার সিনিয়র সাংবাদিক কৃষ্ণ ভৌমিক বলেন, শহরের যানজট পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে।

রাস্তার পাশে ফুটপাত দখল, এলোপাতাড়ি বাইক পার্কিং ও রাস্তায় গাড়ি রেখে শপিং বন্ধ করতে হবে। এছাড়া ওয়ান ওয়ে ব্যবস্থা গ্রহন বা বিকল্প রাস্তা করতে হবে। যানজট পরিস্থিতি নিরসনের জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে আরো উদ্যোগই হতে হবে। বলছিলেন, কৃষ্ণ ভৌমিক।