শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০, ০৬:২২ অপরাহ্ন

যে কারনে ঈশ্বরদী সরকারী কলেজে দিনভর উত্তেজনা

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : আজ সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) সকালে শিক্ষার্থীরা কলেজে এসে দেখতে পান কলেজের মেইনগেটে তালা লাগানো এবং তালার মধ্যে সুপার গ্লু আঠা দিয়ে আটকে দেওয়া।

শিক্ষার্থীরা মেইনগেটে তালা ও সুপার গ্লুর রহস্য ভেদ করতে শুরু করেন বিক্ষোভ। দেখা দেয় উত্তেজনা, ভেঙে ফেলা হয় তালা।

ঘটনাটি ঘটেছে আজ দুপুর ১২টার দিকে ঈশ্বরদী সরকারী কলেজে।

এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঈশ্বরদী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ও গণিতের বিভাগীয় প্রধান ম্যুরারি মোহন দাস, ইংরেজি বিভাগের প্রধান রবিউল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম ও দর্শন বিভাগের প্রধান নজরুল ইসলামের অপসারণের দাবি করেন।

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রধান গেটের তালা ভেঙে কলেজে প্রবেশ করে। কলেজের সামনে উত্তাল অবস্থার সৃষ্টি হলে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির ও ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকীসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতী নিয়ন্ত্রনে আনেন।

একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে- আর মাত্র ১৫ দিন চাকুরীতে আছেন অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুর রহিম। তারপর তিনি অবসরে চলে যাবেন। যে কারনে অধ্যক্ষ গোপনে মোটা অর্থের বিনিময়ে তিনি নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারনে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার অপসারণ দাবি করছে।

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মোঃ আলাউদ্দিন বিপ্লব বলেন, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে ৪ বিঘা ২ কাঠা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন সমস্যা চলছে। এই জমির বর্তমান মুল্য প্রায় ৩২ কোটি টাকা বলেও জানান সাবেক ভিপি।

আরেকটি সূত্র বলছে, কলেজের সামনের জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে বিচারাধীন মামলায় কলেজের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে কলেজের প্রধান ফটক তালা মেরে সুপার গ্লু আঠা দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন অধ্যক্ষ ও ৪ শিক্ষক। যা ঈশ্বরদী সরকারী কলেজে আগে কখনো ঘটেনি।

ঈশ্বরদী সরকারী কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ও গণিতের বিভাগীয় প্রধান ম্যুরারি মোহন দাস তালা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি অধ্যক্ষের নির্দেশে কলেজের প্রধান ফটকে তালা দিয়েছি।’

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারকী বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি লিখিতভাবে প্রশাসনকে জানায়নি, কলেজের গেটে কে বা কারা তালা মেরেছে তা আমরা জানিনা। আমরা ন্যায়ের পক্ষে কাজ করবো। বিষয়টি ইউএনও ও ডিসি স্যারের সাথে কথা বলে খতিয়ে দেখা হবে।’

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শিহাব রায়হান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনে আমি কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। হাইকোর্ট এর নির্দেশ পেয়ে নাকি তিনি কলেজের প্রধান ফটকে তালা মেরেছেন এই কথা স্বীকার করেছেন।’

ঈশ্বরদী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুর রহিম বলেন ‘আদালতের নির্দেশনায় কলেজের প্রধান ফটকে তালা মেরে বন্ধ করা হয়েছে। তবে কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য পেছনে একটি গেট তৈরী করে দেওয়া হবে।’


ওয়ার্ডপ্রেস থিম দিয়ে নিজেই ওয়েবসাইট তৈরি করুন

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!