রহিম বিশ্বাস হত্যার ৭দিন, গ্রেফতার হয়নি কেউ, পুলিশ নিরব

প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত রহিম বিশ্বাস

প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত রহিম বিশ্বাস

পাবনা জেলা প্রতিনিধি : পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের পয়দা বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সেক্রেটারী রহিম বিশ্বাস হত্যা ঘটনার ৭দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি।

এদিকে আসামীরা এলাকাতেই অবস্থান করছে এবং বাদী আল আমীনকে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। অন্যথায় তাকেও হত্যা করা হবে বলে হুমকী দিচ্ছে। চরম নিরাপত্তা হীনতায় দিনযাপন করছে নিহত রহিমের পরিবার।

সরেজমিনে পয়দা বাজারে গিয়ে এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিহত রহিম বিশ্বাস ছিলো এলাকার সাধারণ মানুষের চোখের মনি। যে কোন সমস্যা নিয়ে মানুষ তার কাছে ছুটে যেত সমাধানের জন্য। ছোট-বড় সবাই তাকে ভালোবাসতো।

এ দিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গয়েশপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে রহিম বিশ্বাস তার আপন চাচা আমজাদ বিশ্বাসকে মেম্বর পদে দাঁড় করায়। এখানে বিশ্বাস গোষ্ঠীর লোকজন বেশী থাকায় আমজাদ বিশ্বাসের বিজয় নিশ্চিত বলে সবার ধারণা। রহিম তার চাচার জন্য কাজ করছিলো।

অপরদিকে, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি সান মোল্লা একই ওয়ার্ডের মেম্বর পদপ্রার্থী। নির্বাচনের শুরু থেকেই সান মোল্লা রহিমকে তার পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। প্রথমে রহিম বিশ্বাসকে মোটা টাকা দিয়ে পক্ষে নিতে চায় সান মোল্লা, কিন্তু রহিম রাজী না হলে সান মোল্লা ও তার ভাই ভাই দুলাল মোল্লা রহিম বিশ্বাসকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকী দেয়। কিন্তু কোন ভাবেই রহিমকে বাগে আনতে না পেরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে ২২ মে সবেবরাতের দিন সান মোল্লা আগে থেকেই পয়দা বাজারে উপস্থিত হয় ।

রহিম বিশ্বাস সকাল ১০টায় পয়দা বাজারে এসে ২ কেজি মাংস কিনে আয়েন এর দোকানে চা খেতে বসে। এ সময় সান মোল্লা মোবাইল করে তাদের লোকজনকে আসতে বলে। কথা মত দুলাল মোল্লা ও পেশাদার খুনি কোরবান আলী একটি হোন্ডা যোগে এবং অপর একটি হোন্ডায় এনামুল হক চায়ের দোকানের পাশে হোন্ডা থামায়। এ সময় সান মোল্লা রহিমের সামনে এসে দাড়ায় এবং তাকে হত্যার নির্দেশ দেয়।

তাৎক্ষণিক দুলাল মোল্লা অস্ত্র রহিমের বুকে ঠেকিয়ে গুলি করে। রহিম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সান মোল্লা তখন ফাঁকা গুলি করে এনামুলের হোন্ডায় উঠে সবাই একসাথে চলে যায়। পুরো ঘটনাটি সিনেমা স্টাইলে ঘটে যায়। রহিম বিশ্বাসের নিথর দেহ পড়ে থাকে মাটি রক্তে লাল হয়ে যায়।

ঘটনার পরদিন নিহত রহিমের ছোট ভাই আলামিন বাদি হয়ে ৭ জনকে আসামী করে পাবনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

একটি সুত্র জানায় একদন্ত কলেজের প্রিন্সিপ্যাল আবুল কালাম আজাদের পরিকল্পনাতেই রহিম বিশ্বাস খুন হয়। কুমিল্লি গ্রামে তার বাড়িতেই বৈঠক করে সান, দুলাল, কোরবান, এনামুল ও মাসুদ রানা। এ হত্যাকান্ডের টাকার যোগান দেন আবুল কালাম নিজেই।

এ দিকে এ ঘটনার ৭ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অতিদ্রুত আসামীদের গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।

পূর্বের সংবাদ : পাবনায় আ.লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা