শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন

রাজধানীর ৫ মেট্রোরেল: কাজের গড় অগ্রগতি ১৫.৩২ শতাংশ

বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা * ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খরচ ১৩ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা * সবচেয়ে এগিয়ে এমআরটি লাইন-৬, পিছিয়ে লাইন-৫ এর সাউদার্ন রুট

রাজধানীতে পাঁচটি মেট্রোরেল লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এগুলোর কাজের গড় অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। শুরু থেকে প্রকল্পগুলোর অনুকূলে ব্যয় হয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট, মেট্রোরেল-লাইন-৬ প্রকল্পটি। অন্যগুলো হলো- মেট্রোরেল লাইন-১ এবং মেট্রোলের লাইন-১ (ই/এস), মেট্রোরেল লাইন-৫ এর নর্দান রুট এবং সাউদার্ন রুট।

সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে থাকা ফাস্টট্র্যাক অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।

এ প্রসঙ্গে ইআরডির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, এটি নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। প্রত্যেক মাসে প্রতিবেদনটি পাঠানো হয় ফাস্টট্র্যাক মনিটরিং টাস্কফোর্সের কাছে। ফাস্টট্র্যাকভুক্ত মেগা প্রকল্পগুলো সরাসরি তত্ত্বাবধান করেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চলমান করোনা মহামারির মধ্যেও প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা আছে।

ফাস্টট্র্যাক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এগিয়ে চলছে মেট্রোরেল লাইন-৬ এর কাজ। এটি তৈরি হচ্ছে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত। ২০১২ সালের জুলাই হতে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। কাজ শুরু থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ৭০৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৫৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। এছাড়া চলতি অর্থবছরের মূল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ ছিল ৫ হাজার ৫৪২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এ অর্থবছরের ৮ মাসে ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৩০৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা বরাদ্দের ২৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএন সিদ্দিকী সম্প্রতি যুগান্তরকে বলেন, ‘করোনার আগে তিন শিফটে কাজ চললেও পরে শিফট একটি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা রয়েছে ২০২২ সালের মধ্যেই পুরো এমআরটি লাইন-৬টি চালু করার। তবে তার আগে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রথম অংশ ট্রেন চলাচল চালুর জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’

এছাড়া ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে মেট্রোরেল লাইন-১ এর কাজ। এটি ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল। এর রয়েছে দুটি অংশ। একটি বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর রুট এবং অপর অংশটি পূর্বাচল রুট (নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ পর্যন্ত)। এ মেট্রোরেলটি ২০১৯ হতে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। শুরু থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৪৯৫ কোটি টাকা।

প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৫৯১ কোটি টাকা। ব্যয় হয়েছে ২৯৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৪৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। মেট্রোরেল লাইন-১ এর (ই/এস) অংশ বাস্তবায়নের ব্যয় হচ্ছে ৬০৭ কোটি টাকা। ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। শুরু থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩১৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ৭০ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২১০ কোটি টাকা। গত ৮ মাসে ব্যয় হয়েছে ৫৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

ফাস্টট্র্যাক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মেট্রোরেল লাইন-৫ এর নর্দান রুট হেয়ামেতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত। ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রুটটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ২০১৯ হতে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। শুরু থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পটির আওতায় ব্যয় হয়েছে ১১২ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

এ সময় পর্যন্ত সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৮০০ কোটি টাকা। গত ৮ মাসে ব্যয় হয়েছে ৯৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড সূত্র জানায়, এ অংশটি পাতাল এবং উড়াল মিলেই তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে পাতাল হবে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার এবং উড়াল সাড়ে ৬ কিলোমিটার। স্টেশন থাকবে ১৪টি। এ অংশের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই কাজ শেষ হয়েছে। বিভিন্ন সার্ভে ও বেসিক ডিজাইন কাজ অব্যাহত রয়েছে।

মেট্রোরেল লাইন-৫ এর সাউদার্ন রুট বাস্তবায়নে প্রাক কার্যক্রম কাজ শেষ করতে ব্যয় হবে ৪০৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। গাবতলী হতে দাশেরকান্দি পর্যন্ত উড়াল ও পাতাল মিলে এর দৈর্ঘ্য হবে ১৭ দশমিক ৪০ কিলোমিটার। এর অধিকাংশই উড়াল। ২০২০ হতে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মেয়াদে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শুরু থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এক কোটি ৬৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ১০০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। গত ৮ মাসে ব্যয় হয়েছে এক কোটি ৪৮ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড সূত্র জানায়, ১৬টি স্টেশন সংবলিত মেট্রোরেল নির্মাণের জন্য প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। প্রজেক্ট রেডিনেস ফাইন্যান্সিংয়ের (পিআরএফ) জন্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

0
1
fb-share-icon1


শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের প্রিন্স অফ পাবনা

Posted by News Pabna on Thursday, February 18, 2021

© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!