সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ০৬:৫২ অপরাহ্ন

রামেক হাসপাতালে আছে মাত্র ১৫টি ভেন্টিলেটর

বার্তাকক্ষ : সংক্রমণের শুরুর দিকে করোনা মোকাবিলায় উদাহরণ হলেও রাজশাহী এখন করোনার হটস্পট। করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে হাসপাতালগুলোতে ভেন্টিলেটরের সংখ্যা অপ্রতুল। পাশাপাশি বাড়েনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) শয্যা সংখ্যাও।

১২শ’ বেডের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ শতাংশ হিসেবে আইসিইউ-ভেন্টিলেটর থাকার কথা কমপক্ষে ১২০টি। কিন্তু সেখানে আছে মাত্র ১৫টি।

করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের উদ্যোগে কঠোর লকডাউন শুরু হয় রাজশাহীতে। তখন সংক্রমণ ছড়ানোর গতি একেবারেই কমে যায়। যা ছিলো সারাদেশের কাছে উদাহরণ। তবে গত ঈদুল ফিতরের পর থেকে সরকার লকডাউন তুলে যাত্রীবাহী পরিবহন চালু করলে শুরু হয় সংক্রমণ বৃদ্ধি।

সারাদিন মানুষের ভিড়ে গাদাগাদি থাকছে শহরের অলিগলি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না কেউ। খোলা সব দোকানপাটও। ফলে প্রতিদিন বাড়ছে সংক্রমণ।

সিভিল সার্জন অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতি তিনজনের নমুনা পরীক্ষায় কমপক্ষে একজন করোনা পজেটিভ মিলছে। রোববার পর্যন্ত রাজশাহীতে ৫৭১ জন করোনা পজিটিভ রোগী পাওয়া গেছে। এরমধ্যে শুধু নগরীতেই ৩৮১ জন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. চিন্ময় দাস বলেন, আমাদের দেশের মানুষ লকডাউন বোঝে না। তারা কারফিউ বোঝে। তাই এই লকডাউন কারফিউ নামে দিতে হবে। তা না হলে ধীরে ধীরে সবাই আক্রান্ত হবে। এছাড়া হাসপাতালের আইসিইউ ভেন্টিলেটর বাড়াতে হবে। এগুলো চালানোর জন্য দক্ষ জনবলও প্রয়োজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১২শ’ শয্যার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে মাত্র ১৫টি আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর আছে। কিন্তু এভাবে রোগী বাড়তে থাকলে হাসপাতালের আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা সব রোগী পাবে না। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, বেডের ১০ শতাংশ আইসিইউ থাকার নিয়ম। সে অনুযায়ী এই হাসপাতালে ১২০টি আইসিইউ থাকার কথা। তবে এই নিয়মে দেশের কোনো হাসপাতালেই আইসিইউ সুবিধা নেই।

তিনি বলেন, আমাদের আইসিইউ সংকট থাকলেও অক্সিজেন সরবরাহ আছে।

রাজশাহী সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, হাসপাতালের আইসিইউ-ভেন্টিলেটর সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু চলমান পরিস্থিতির কারণে ঢাকামুখী হতে পারছি না। তাই দ্রুতগতিতে কাজ হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, এভাবে রোগী বাড়তে থাকলে আইসিইউ-ভেন্টিলেটর সংকট দেখা দেবে। তাই করোনা রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। মানুষ সচেতন না হলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না। অকারণে বাইরে ঘোরাফেরা বন্ধ করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!