রাশিয়া নবভরোনেস পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্রের উপর কোন নেতিবাচক প্রভাব নেই

মোস্তাক আহমেদ কিরণ, নবভরোনেস (রাশিয়া) থেকে ফিরে: রাশিয়া নবভরোনেসে ১২০০ ভিভিইআর রিয়্যাক্টরে গড়ে উঠেছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে তেজষ্ক্রিয়তা নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা। পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্রের উপর তেজস্ক্রিয়তার (রেডিয়েশন) কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কিনা তা পর্যবেক্ষনের জন্য রয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষন কেন্দ্র। তেজঃষ্ক্রিয়তার কোন নেতিবাচক প্রভাব পর্যবেক্ষনের জন্য পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিন কিলোমিটারের মধ্যে ৩৩টি পর্যবেক্ষন কেন্দ্র রয়েছে। তেজঃষ্ক্রিয়তার প্রভাব ধরা পড়লে বা নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশী হলে নিয়ন্ত্রনকক্ষ থেকে সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়। নবভরোনেস এলাকার জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্রের উপর তেজঃষ্ক্রিয়তার কোন নেতিবাচক প্রভাব নেই। নবভরোনেস এলাকার এক পার্শ্বে ডন নদী এবং অন্য দিক গুলোয় সবুজ বনের বেষ্টনি গড়ে তোলা হয়েছে। ১০২ হেক্টর জমিতে রাশিয়ার নবভরোনেস পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে। এখানে নির্বিঘেœ মানুষ বসবাস করে। ৩৩টি পর্যবেক্ষন কেন্দ্রে কখন কি তথ্য উঠে আসছে এ সংক্রান্ত সকল তথ্য জনসাধারনকে জানানোর জন্য সরাসরি ওয়েব সাইটে প্রচার করা হচ্ছে। রাশিয়ার নবভরোনেস ১২০০ ভিভিইআর রিয়্যাক্টরের আদলে বাংলাদেশের রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও একই পদ্ধতি অনুসরন করা হচ্ছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমানবিক শক্তি কমিশন (রোসাটম) এর শিফট প্রধান ভিচেসলভ কোমারোভ, ইগর গুসেভ উপপ্রধান প্রকৌশলী নবভরোনেস এনপিপি রাশিয়া, রোসাটম দক্ষিণ এশিয়ার জনসংযোগ ব্যবস্থাপক ম্যাক্সিম সিসোয়েভ বাংলাদেশের সাংবাদিক প্রতিনিধিদলকে জানান – রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমানবিক শক্তি কমিশন (রোসাটম) তেজঃষ্ক্রিয়তা নিয়ন্ত্রনে সর্বাধুনিক ১২০০ ভিভিইআর প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে খুব সামান্য পরিমান তেজঃষ্ক্রিয় গ্যাস এবং তরল তৈরী হয়। পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের রেডিয়েশন মনিটরিং স্টেশনের রেডিয়েশন সহনীয় মাত্রার তথ্য অনুযায়ী একজন মানুষ প্রতিবছর ১ মিলিসিভারেট রেডিয়েশন গ্রহণ করতে পারে যা তার স্বাস্থ্যের জন্য কোনো ঝুকি তৈরি করবেনা। এছাড়াও রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তার জন্য স্থাপন করা হচ্ছে মোল্টেন কোর ক্যাচার। মোল্টেন কোর ক্যাচার হল যদি কোন কারণে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটে যায় এবং উক্ত দূর্ঘটনার ফলে যদি রিয়েক্টরকোর গলে যায় তাহলে সেই গলিত অংশ যেন পরিবেশে ছড়াতে না পারে তার একটি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা। মোল্টেন কোর ক্যাচারের ভিতরে এমন কিছু পদার্থ থাকে যারা গলিত কোরের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় একটা সলিডগঠন তৈরি করতে সক্ষম ।

রাশিয়ার নবভরোনেস পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের টারবাইন কন্ট্রোল বিভাগে প্রশিক্ষণরত বিজ্ঞানী শিমুল বড়ুয়া মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, মোমিনুল ইসলাম নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, শিহাবুল ইসলাম মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এরা জানান পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিষয়টি বাংলাদেশে নতুন । পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা করা এমন কোন কঠিন কাজ নয় । সাধারণ মানুষের মাঝে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে যে বিভ্রান্তি আছে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে তা দূর হয়ে যাবে । রাশিয়ার নবভরোনেসে প্রশিক্ষণ নিতে এসে দেখছি এবিষয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই । রাশিয়া নবভরোনেস পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ন্যায় বাংলাদেশের রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও সর্বাধুনিক তেজষ্ক্রিয়তা নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। তারা বলেন রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তার জন্য স্থাপন করা হচ্ছে মোল্টেন কোর ক্যাচার । মোল্টেন কোর ক্যাচার পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যে কোন বড় ধরনের বিপর্যয় মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে। তারা অভিমত প্রকাশ করেন রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ফলে দেশের জীবনমান সমৃদ্ধ হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে ।

বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়ার পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয় ১৯৫৮ সালে তৎকালিন সোভিয়েত ইউনিয়নে। রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ও প্রথম পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নবভরোনেস। নবভরোনেস পারমানবিক বিন্দ্যুৎ কেন্দ্রেটি রাশিয়ার শক্তি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জনাব ইয়াফেস ওসমান বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ে বলেন, বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে আগামী প্রজন্মের হাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি তুলে দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার, তারই একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক ড. মোঃ শৌকত আকবর জানিয়েছেন অঞ্চল বিবেচনায় বাংলাদেশে নিরাপত্তা আরও জোরালো করা হচেছ। তিনি জানান রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে স্থাপিত ৩৩টি পর্যবেক্ষন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত সকল তথ্য জনসাধারনকে জানানোর জন্য সরাসরি ওয়েব সাইটে প্রচার করা হবে । সার্বক্ষনিক তথ্য জানাতে রাশিয়ার নবভরোনেসে রয়েছে তথ্য কেন্দ্র যা বাংলাদেশের রূপপুরেও থাকবে।