শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

রিজার্ভের অর্থ উধাও, বাজেট ঘাটতিতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুল ফটক

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : অনুমোদিত বাজেটের চেয়ে অতিরিক্ত ৭০ লাখ টাকা খরচ করায় বাজেট ঘাটটিতে পড়েছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি)। অন্যদিকে রিজার্ভ ফান্ডের প্রায় এক কোটি টাকা উধাও হয়ে গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম বাজেট ঘাটতি ও রিজার্ভের অর্থ খরচের কথা স্বীকার করেছেন। তবে বিষয়টি স্বাভাবিক বলেই উল্লেখ করেন তিনি।

অতিরিক্ত খরচের কারণে বাজেট ঘাটতি ও রিজার্ভের টাকা খরচ করার বিষয়ে বিজন কুমার ব্রহ্ম বলেন, ‘নতুন অর্থ বছরের শুরুতে এরকম ঘাটতি হয়, বরাদ্দ পেলে সেটি পুরণ হয়ে যাবে।’ তবে অতিরিক্ত খরচের ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আগের ভিসিদের উদ্যোগে সোনালী ব্যাংকের পবনা শাখায় প্রায় দুই কোটি টাকা রিজার্ভ ফান্ডে সংরক্ষণ করা হয়। বর্তমান ভিসি দায়িত্ব দেওয়ার এই অর্থ প্রায় সবটাই খরচ হয়ে গেছে। অভিযোগ অপচয় করে এই অর্থ ব্যয় করা হয়।

অভিযোগ মতে, চার বিঘা জমির ওপর দেড় কোটি টাকা মূল্যের ভিসির জন্য বাঙলো থাকলেও তা তালা মেরে রেখেছেন ভিসি। ভিসির বাংলো ব্যবহার না করে বাড়ি ভাড়া করে থাকছেন তিনি।

প্রতি বছর চার লাখ ২২ হাজার করে টাকা নিজ নামে উত্তোলন করেছেন বাড়িভাড়া বাবদ। নির্ধারিত বাংলোতে না ওঠে এভাবে অর্থ অপচয়ের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অর্থ ও হিসাব সংক্রান্ত অডিটে আপত্তি তোলে।

অতিরিক্ত অর্থ খরচের বিষয়ে পাবিপ্রবির অর্থ ও হিসাব শাখার অফিস প্রধান অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) সঙ্গে ভিসির বনিবনা না হওয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অপেক্ষাকৃত জুনিয়র কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মিন্টু কুমার বিষ্ণুকে এডহক ভিত্তিতে অফিস প্রধান করা হয়।

মিন্টু কুমার বিষ্ণুকে দিয়ে ভিসির ইচ্ছামত আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেই এটি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মিন্টুকে পঞ্চম গ্রেডে বেতন দেওয়া হতো।

মাত্র দু’বছর পঞ্চম গ্রেডে চাকরি করা নবীণ এই ব্যক্তিকে চতুর্থ গ্রেড ওভারটেক করে সরাসরি তৃতীয় গ্রেডে এডহক হিসেবে প্রতিমাসে ৮৯ হাজার ৫২০ টাকা করে বেতন দেওয়া হয়। এ নিয়ে গত ৯ এপ্রিল হাইকোর্টে ইতোমধ্যে ভিসি ড. আল নকিব চৌধুরীর বিরুদ্ধে রিট পিটিশন (পিটিশন নং-৪৭৯০) দাখিল হয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলেননি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. আল নকিব চৌধুরী।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘অভিযোগগুলো সঠিক নয়, ভিত্তিহীন। প্রশাসিক ও অর্থনৈতিক সব কার্যক্রম সরকারি নিয়মনীতি ও বিধিমালা মেনেই করা হয়েছে।’

বিশবিদ্যালয়টির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইন অনুযায়ী স্বামী ও স্ত্রী উভয়ই সরকারি কর্মচারী হলে সন্তান যেকোনও একজনের ক্ষেত্রেই সংখ্যা গণনা করে ভাতা নির্ধারণ করতে হবে।

মিন্টুর স্ত্রী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের সহকারী পরিচালক হওয়ায় তিনি সেখান থেকে দুই সন্তানের জন্য প্রতিমাসে এক হাজার টাকা করে বছরে ১২ হাজার উত্তোলন করেন।

অন্যদিকে মিন্টু ওই সন্তানের একজনের নামেও পাবিপ্রবি থেকেও প্রতিমাসে এক হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।

এই অভিযোগ প্রসঙ্গে উপ-পরিচালক মিন্টু কুমার বিষ্ণু বলেন, ‘শিক্ষা সহায়ক ভাতা উত্তোলন করা আমার উচিত হয়নি। আইন না জানার কারণে আমার এই ভুল হয়েছে। বিষয়টি জানার পরে আমি উত্তোলন করা অর্থ সংশ্লিষ্ট দফতরে ফেরত দিয়েছি।

অভিযোগে আরও জানা গেছে, বিধিমতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল স্টোরে স্টক এন্ট্রি করার পর যেকোনও বিল দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় অর্ধকোটি টাকার আভ্যন্তরীণ পিবিএক্স সংযোগের বিলের ক্ষেত্রে স্টক এন্ট্রি ছাড়াই ভিসির অনুমোদনসহ বিল দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কক্ষে পিবিএক্স সংযোগ স্থাপন হয়নি।

ভিসি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে পাবনা শহরের গ্রীন হাউজ নামক একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে অফিস দেখিয়ে অফিস ভাড়া বাবদ অর্থ উত্তোলন করছেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

বিভিন্নভাবে সাড়ে তিন বছরে প্রায় সাত কোটি অপচয় করেছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান এ অবস্থা নিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। পাবিপ্রবির মানবিক ও সমাজিক অনুষদের ডীন ড. আব্দুল আলীম গত ১০ জুলাইয়ে নিজ আই.ডি থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করে অভিযোগ তোলেন বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ‘পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য কর্মকর্তা থাকার পরও ভাইস চ্যান্সেলর তার ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিন্টু কুমার বিষ্ণুকে এডহক  নিয়োগ দেন উপ পরিচালক (অর্থ) হিসাবে।’

এদিকে, পাবনার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধান করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!