মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

রুপপুর প্রকল্পের ঈশ্বরদী-পাকশী রেলরুট পরিদর্শন করলেন রেলসচিব

ঈশ্বরদীর পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজে যুদ্ধবিমান থেকে বোমা হামলা চালিয়ে ব্রিজের একটি স্প্যান ভেঙে ফেলা হয়। সেই বোমার একটি অংশ এখনো মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহন করে চলেছে। পাকশীর বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের (ডিআরএম) কার্যালয়ের সামনে বোমাটির খোলস পরিদর্শন করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এর সচিব মোফাজ্জল হোসেন।

image_pdfimage_print

উপজেলা করেসপন্ডেন্ট : পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের মালামাল ও যন্ত্রপাতি পৌঁছাতে ঈশ্বরদী-পাকশি রেলরুটের রেললাইন নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছেন রেল মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আজ সোমবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী রুপপুর পারমাণবিক প্রকল্প এলাকায় ঈশ্বরদী-পাকশী রেলরুটের এই প্রকল্প পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প কর্মকর্তা আসাদুল হক নিউজ পাবনাকে জানান, দেশের অন্যতম মেগাপ্রকল্প পাকশী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।

ব্রিটিশ আমলের বিনা পয়সার ট্রেন ‘পাইলট’ চলাচলের পরিত্যক্ত রেললাইন সরিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে।

ঈশ্বরদী-পাকশী পর্যন্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মালামাল ও যন্ত্রপাতি পৌঁছাতে প্রায় ‘তিনশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে এই রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে।

ভারতের জিপিটি এবং বাংলাদেশের এসইএল ও সিসিসিএল অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে (জয়েন্ট ভেঞ্চার) ২৯৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় ডুয়েল গেজ এই রেলপথ হবে।

এছাড়াও রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যন্ত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ প্রকল্পের আওতায় যে ২৬ দশমিক ৫২ কিলোমিটার নতুন রেললাইন হবে, তার মধ্যে ২২ দশমিক ২ কিলোমিটার হবে মূল লাইন, আর ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার হবে লুপ লাইন।

এছাড়া ১৩টি লেভেলক্রসিং গেইট, একটি ‘বি’ শ্রেণির স্টেশন ভবন, একটি প্ল্যাটফর্ম এবং সাতটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।

পাকশি বিভাগীয় দফতরের প্রকৌশলী-২ আব্দুর রহিম নিউজ পাবনাকে জানান, ২০২০ সালের জানুয়ারী মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।

মাটিভরাট শেষে রেললাইন প্রস্তুত করে বসানোর পর পাথর ফেলা কাজ শেষের দিকে। তবে কয়েকটি লেভেলক্রসিং গেট, করতে নির্ধারিত সময় থেকে আরও কিছু সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল রাজশাহীর মহাব্যবস্হাপক (জিএম) মিহির কান্তি গুহ, প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর মিঞা, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুল হক পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্হাপক আহছান উল্লা ভূঞা, পাকশি বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন, বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত বানিজ্যিক কর্মকর্তা মাসুদ সরোয়ার, বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ মোঃ মনিরুজ্জামান মনির, বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আব্দুর রহিম, বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী খাইরুল ইসলাম, সংকেত ও টেলিকম প্রকৌশলী রুবাইয়াত শরীফ প্রান্ত প্রমুখ।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশি বিভাগীয় ব্যবস্হাপক (ডিআরএম) মোহাম্মদ আহছান উল্ল্যা ভূঞা নিউজ পাবনাকে জানান, ঈশ্বরদী থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করতে ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন থেকে পরিত্যক্ত পাইলট লাইন হয়ে মোট ২২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ কাজ চলছে।

রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোফাজ্জল হোসেন নিউজ পাবনাকে জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন, স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।

তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা রেলওয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সবাই সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

সময়ের সাথে সাথে এই এলাকায় এই রুপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কারণেই এই অঞ্চলে স্কুল-কলেজ, মসজিদসহ ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

পাকশী বিভাগীয় দপ্তর আছে একসময় এই দপ্তর রেলওয়ে জোন হতে পারে, যেহেতু কাছেই পদ্মা নদী, নদীবন্দরও হতে পারে। মূলতঃ ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে এ অঞ্চলের।এতে এই অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে।

উল্লেখ্য ১৯১৫ সালে পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ স্থাপনের কিছুদিন পর তৎকালীন সময়ে সাঁড়াঘাটের বরফকল থেকে বরফ পরিবহন করার জন্য ব্রিটিশ রেল কর্তৃপক্ষ প্রথমে এখানে রেলপথ স্থাপন করে।

পরে রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে যাতায়াতের প্রয়োজনে এই রেলপথ দিয়ে ‘পাইলট’ নামের বিনা পয়সার একটি ট্রেন চালু করা হয়।

টিকিট কাটার প্রয়োজনীয়তা না থাকায় রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে স্থানীয় সাধারণ মানুষও বিনা পয়সায় চলাচল করতেন এই পাইলট ট্রেনে।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তৎকালীন সরকার কোন কারণ ছাড়াই এই পাইলট ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। তারপর এই রেলপথে শুধু রেলের বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মোটর ট্রলি মাঝেমধ্যে চলাচল করত।

দীর্ঘ দুই যুগেরও পর আবার এই রুটে চলাচল করবে ট্রেন। এতে করে এ অঞ্চলে বিভিন্ন ব্যবসা-বানিজ্য প্রসারিত হবে।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!