বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০১:২৩ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

রূপপুরে ভারী মালমাল পরিবহনে সংশ্লিষ্ট নদীর নাব্যতা বাড়াবে সরকার

image_pdfimage_print

বিশেষ প্রতিবেদক :  পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারী মালমাল পরিবহন নিরাপদ ও সহজলভ্য করতে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর থেকে রূপপুর পর্যন্ত নদীর নাব্যতা উন্নয়ন করতে যাচ্ছে সরকার।

এজন্য মংলা থেকে চাঁদপুর-মাওয়া-গোয়ালন্দ হয়ে পাকশী পর্য‌ন্ত নৌপথ সচল রাখতে নদীগুলোর ড্রেজিং করা হবে। এজন্য ৯৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘মংলা থেকে চাঁদপুর-মাওয়া-গোয়ালন্দ হয়ে পাকশী পর্যন্ত নৌরুটের নাব্যতা উন্নয়ন প্রকল্প’ হাতে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলানগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় মোট আটটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আজকের সভায় আটটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৩ হাজার ১৭১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে করা হবে ২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৫৯২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

নৌরুটের নাব্যতা উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে মুস্তফা কামাল বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থায় নৌ পরিবহন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু দিন দিন নদীগুলো নাব্যতা হারাচ্ছে। নৌপথ সচল রাখতে নদীগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণ ড্রেজিং করা দরকার।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের মালমাল পরিবহনের জন্য অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহার করা হয়। পাকশীর কাছেই নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারী যন্ত্রপাতি সমুদ্রবন্দর থেকে নিয়ে আসতে নৌ ব্যবহার করা হবে। তাই ‘মোংলা থেকে চাঁদপুর-মাওয়া- গোয়ালন্দ হয়ে পাকশী পর্যন্ত নৌরুটের নাব্যতা উন্নয়ন প্রকল্প’ অনুমোদন দেওয়া  হয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৯৫৬ কোটি টাকা, যার পুরোটাই সরকারি অর্থায়ন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ জুলাই ২০১৭ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত মেয়াদকালে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে-  বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেক্টিভিটি প্রজেক্ট, শেওলা, ভোমরা, রামগড় স্থলবন্দর উন্নয়ন এবং বেনাপোল স্থলবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯৩ কোটি টাকা।

৩৪৩ কোটি ৬০ লাখ টাকায় ব্যয়ে নবীনগর-শিবপুর-রাধিকা আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্প।

জামালপুর-ধানুয়া কামালপুর-কদমতলা (রৌমারী) জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতকরণ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

রাজবাড়ী শহর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর ও ভুঞাপুর উপজেলাধীন যমুনা নদীর বাম তীরবর্তী কাউলীবাড়ী ব্রিজ থেকে শাখারিয়া পর্যন্ত তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে চাঁদপুর জেলার হরিণা ফেরিঘাট এবং চরভৈরবী এলাকার কাটাখাল বাজার রক্ষা প্রকল্প। এতে ব্যয় হবে ১৯০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

এছাড়া ১১০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সিলেট টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল ইসলাম প্রমুখ।

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!