মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র- সঞ্চালন লাইন নির্মাণে অনিশ্চয়তা!

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : দেশের সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রকল্প পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। অপেক্ষাকৃত কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সরকার এ প্রকল্প গ্রহণ করে।

তিন বছর পর ২০২৩ সালে এর প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার কথা রয়েছে; কিন্তু ওই সময়ে গ্রাহক পর্যায়ে সে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে জাতীয় গ্রিড পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় তৈরি হয়েছে এ অনিশ্চয়তা।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্র জানায়, দুই ইউনিটের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত হবে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। প্রতি ইউনিটে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট। এ বিদ্যুৎ জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে দেশের অন্তত ১৩টি জেলাজুড়ে নির্মিত হবে সঞ্চালন লাইন। মোট আটটি উপ-প্রকল্পের আওতায় ৬১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ রূপপুর-বাঘাবাড়ী সঞ্চালন লাইন নির্মাণ শুরু হয়েছে। এটি আগামী বছর নাগাদ শেষ হতে পারে। বাকি ৫৬০ কিলোমিটারের জন্য সাতটি প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। কাজে এ ধীরগতির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের উৎপাদন প্রস্তুতি পুনঃনির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হলেও সঞ্চালন লাইন প্রস্তুত না হওয়ায় বিতরণ শুরু করা যাবে না।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণসূচি অনুযায়ী, এর প্রথম ইউনিটের ফুয়েল লোডিং হবে ২০২২ সালের অক্টোবরে ও উৎপাদন শুরু হবে একই বছরের ডিসেম্বরে। ফুয়েল লোডিংয়ের আগেই সঞ্চালন লাইন প্রস্তুত হওয়া দরকার; কিন্তু ২০২৩ সালের জুনের আগে তা নির্মাণ শেষ হবে না বলে জানিয়েছে পিজিসিবি। বরং আরো দেরি হতে পারে।

৬১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সঞ্চালন লাইন নির্মাণে সরকার ১০ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) এক হাজার ৫২৭ কোটি টাকা, পিজিসিবির নিজস্ব তহবিল এক হাজার ২৩৫ কোটি টাকা ও প্রকল্প ঋণ আট হাজার ২১৯ কোটি টাকা খরচ হবে। প্রকল্প ঋণ দেবে ভারত। ইন্ডিয়ান লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় এ ঋণ দিতে ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। একাধিক সূত্র জানায়, ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের ঋণ ছাড়ে ধীরগতি ও কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সঞ্চালন লাইনের কাজ শুরু করতে বেশ সময়ক্ষেপণ হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমায় এখন কাজ সম্পন্ন করা কঠিন। নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ পিজিসিবির একাধিক কর্মকর্তার।

বিষয়টি নিয়ে পিজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘২০২৩ সাল নাগাদ নির্ধারিত সময়ে সঞ্চালন লাইন নির্মাণ সম্পন্নের বিষয়ে আমরা আশাবাদী। প্রকল্পের শুরুর দিকে ঋণছাড় নিয়ে কিছু জটিলতা থাকলেও এখন আর নেই। এটি বেশ বড় প্রকল্প। পরিকল্পনার বাইরে কোনো পরিস্থিতি উদ্ভব হলে হয়তো দেরি হতে পারে। তা না হলে নির্ধারিত সময়ে গ্রিড লাইন প্রস্তুত করার ব্যাপারে আমরা ইতিবাচক।’

জানা যায়, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যাক ফিড পাওয়ার সরবরাহের লক্ষ্যে রূপপুর-বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি ৬০ কিলোমিটার ডবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণে টার্নকী ঠিকাদারদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে চলতি বছরের ১৮ মে। আমিন বাজার-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি ৫১ কিলোমিটার ডবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন, রূপপুর-ঢাকা (আমিন বাজার-কালিয়াকৈর) ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট ১৪৭ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ ও বে-এক্সটেনশনের জন্য ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক টেন্ডার আহ্বান করেছে। এগুলোর কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন সম্পন্ন করে চুক্তি করতে এ বছর শেষ হয়ে যাবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবমিলিয়ে আগের অভিজ্ঞতা এবং বাস্তবতা বিবেচনা করলে এ লাইনগুলোর কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব।

২০১৩ সালে শুরু হওয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। একই সক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটে উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পটির মোট ব্যয়ের সিংহভাগ- ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া। কেন্দ্রটিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাড়ে তিন টাকার মতো খরচ হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়।

দেশে বর্তমানে জলবিদ্যুৎ ছাড়া বাকি তেল, গ্যাস বা কয়লা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের খরচ এর চেয়ে বেশি। তবে সময় বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। ফলে উৎপাদিত বিদ্যুতের খরচ প্রতি ইউনিট সাড়ে তিন টাকা যে থাকছে না, তা হলফ করেই বলে দেয়া যায়।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!