রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৩১ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

লোকসানের মুখে চলনবিলের শুঁটকি উৎপাদনকারীরা

লোকসানের মুখে চলনবিলের শুঁটকি উৎপাদনকারীরা

image_pdfimage_print
লোকসানের মুখে চলনবিলের শুঁটকি উৎপাদনকারীরা

লোকসানের মুখে চলনবিলের শুঁটকি উৎপাদনকারীরা

চাটমোহর প্রতিনিধি : মৎস্য ভাণ্ডার খ্যাত চলনবিলে শুঁটকি তৈরির মৌসুম শুরু হয়েছে। শুঁটকি মাছের চাতালগুলোতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে মাছ কাটা, বাছাই, রোদে শুকানো আর প্যাকেটজাত করার কাজ।

তবে আড়তে কাঁচা মাছের দাম বেশি এবং শুঁটকির দাম কম হওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই লোকসানের মুখে পড়েছেন উৎপাদনকারীরা।

গড়ে প্রতি মণ শুঁটকি বিক্রি করে তাদের প্রায় দুই হাজার টাকা লোকসান যাচ্ছে। মৎস্য বিভাগের হিসাব মতে, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, সিংড়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত ১০২৪ বর্গমাইলের এ চলনবিলে প্রতি বছর দুই থেকে আড়াইশ’ শুঁটকির চাতাল গড়ে ওঠে।

এসব চাতালে বছরে ১২০ থেকে ১৩০ টন শুঁটকি উৎপাদিত হয় যার বাজার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। টেংরা, পুঁটি, খলসে, বাতাসী, চেলা, মলা, ঢেলা, টাকি, গুচি, বাইম, শোল, বোয়াল, গজার, কই, মাগুর, সিংসহ নানাজাতের সুস্বাদু ছোট মাছ এবং বিক্রি না হওয়া উদ্বৃত্ত মাছ কেটে ধুয়ে এসব চাতালে শুকানোর জন্য বিছিয়ে দেয়া হয়।

২-৩ দিন নিয়মিত রোদের তাপে শুকালে এসব মাছ শুকিয়ে শুঁটকিতে পরিণত হয়। চলতি বছরের ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি থেকে শুঁটকি উৎপাদনকারীরা চাতালে শুঁটকি তৈরি ও বিক্রি করেছেন। কিন্তু কাঁচা মাছের দাম বেশি হওয়ায় প্রতিনিয়ত লোকসান গুনছেন তারা।

মহিষলুটি শুঁটকির চাতালে কর্মরত হযরত আলী ও আলতাফ হোসেন জানান, বিলে কখনও পানি কমছে, কখনও বাড়ছে। এতে মাছ কম ধরা পড়ছে। ফলে কাঁচা মাছের সংকট হওয়ায় দাম বেশি পড়ছে।

বর্তমানে মাঝারি আকারের প্রতি কেজি পুঁটি মাছের দাম ৩০-৩৫ টাকা। এক মণ শুঁটকি তৈরিতে ৪ মণ মাছ লাগে। ৪ মণ কাঁচা মাছের দাম ৪৮০০-৫৬০০ টাকা। এছাড়া মহিষলুটি মাছের আড়তে মাছ কিনতে মণপ্রতি ১০ টাকা আড়ৎ খরচ, ১০ টাকা শ্রমিক খরচ এবং বিক্রি করতে প্রতি কেজিতে ৭ টাকা আড়ৎ খরচ লাগে।

এভাবে প্রতি মণ শুঁটকির উৎপাদন খরচ পড়ে ৫১৬০-৫৭৬০ টাকা। উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শুঁটকির মোকাম সৈয়দপুরে বর্তমানে প্রতি কেজি পুঁটি মাছের শুঁটকি ৮০ টাকা দরে এক মণ শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার দুইশ’ টাকায়।

এভাবে প্রতি মণ শুঁটকি বিক্রি করে গড়ে ২০০০-২৫০০ টাকা লোকসান হচ্ছে। মাঝে মাঝে বৃষ্টিতে পচে যাওয়ায় শুঁটকির লোকসান আরও বাড়ে।

কচুগাড়ি এলাকার শুঁটকি উৎপাদনকারী শাহাবুল ইসলাম বলেন, পুঁজির অভাবে অনেকেই আড়ৎদারের কাছ থেকে অগ্রিম দাদন নিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে সে আড়তেই শুঁটকি বিক্রি করেন। এতে প্রকৃত দাম থেকে কম দামেই শুঁটকি বেছে দিতে হয়।

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!