শনিবার চাটমোহরের ৬ ইউনিয়নে ভোট, ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

চাটমোহর প্রতিনিধি : চাটমোহরের ৬ টি ইউনিয়নে আগামি ৪ জুন শনিবার ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। ৬ষ্ঠ ধাপে অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীকও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই কোমড় বেঁধে মাঠে নেমেছেন ২৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী।

এর মধ্যে বিএনপির ৬ জন ও আওয়ামীলীগের ৬ জন দলীয় প্রার্থী। বাঁকী ১১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলেও এদের অনেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী। হান্ডিয়াল ইউনিয়নের আবু হানিফ ও হরিপুর ইউনিয়নের বাবলুর রহমান নামক দুই প্রার্থী মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেছেন।

ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাড়ি-বাড়ি, দোকান-পাট, হাট-বাজার সর্বত্র প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এ ২৩ প্রার্থীসহ সদস্য প্রার্থী ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যা প্রার্থীরা।

প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীর ভারে ভারাক্রান্ত আ.লীগের প্রার্থীরা দলীয় ইমেজ রক্ষায় প্রানপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজয় ছিনিয়ে আনতে। অপর দিকে বিদ্রোহী প্রার্থীর চাপ না থাকায় বিএনপির প্রার্থীরা সুষ্ঠু ভাবে ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

বিলচলন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন (নৌকা) প্রতীক। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুল ইসলাম (আনারস) ও মোঃ আকতার হোসেন (চশমা), এ ইউনিয়নে নারী প্রার্থী বুলবুলি খাতুন পেয়েছেন (ঘোড়া) প্রতীক। ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী লড়ছেন (ধানের শীষ) প্রতীক নিয়ে। বিএনপির একক প্রার্থী তিনি।

ছাইকোলা ইউনিয়নে মোঃ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন (নৌকা) প্রতীক। আঃলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ বোরহান উদ্দিন (ঘোড়া) প্রতীক পেয়েছেন। এ ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আতাউর রহমান তোতা (ধানের শীষ) বিএনপির একক প্রার্থী। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল ইসলাম ও রয়েছেন নির্বাচনের মাঠে।

হান্ডিয়াল ইউনিয়নে আঃলীগ মনোনীত প্রার্থী মোঃ রবিউল করিম (নৌকা), বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন মাঠে রয়েছেন মোঃ গোলবার হোসেন (চশমা) ও কে.এম. জাকির হোসেন (ঘোড়া)। বিএনপির সোহেল রানা পেয়েছেন (ধানের শীষ) প্রতীক। বিদ্রোহী প্রর্থিী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ছহির উদ্দিন স্বপন (আনারস)।

গুনাইগাছা ইউনিয়নে আঃ লীগ মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম (নৌকা)। বিদ্রোহী প্রার্থী তার ভায়রা ভাই রজব আলী বাবলু (আনারস)। বিএনপির একক প্রার্থী গোলাম মওলা (ধানের শীষ) প্রতীক নিয়ে ফুরফুরে মেজাজে গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

হরিপুর ইউনিয়নে মকবুল হোসেন (নৌকা) প্রতীক পেয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কাশেম সরদার (আনারস) বেড়াচ্ছেন মাঠ চষে। বিএনপির একক প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম (ধানের শীষ) প্রতীকের পক্ষে রাত দিন ভোটারদের দারে দারে ভোট প্রার্থনা করছেন।

নিমাইচড়া ইউনিয়নে আঃলীগ মনোনীত একক প্রার্থী এ. এইচ. এম কামরুজজামান (নৌকা) প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন ইউনিয়নের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। এ ইউনিয়নে তার কোন বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন তিনি। বিএনপির আব্দুল্লাহ আল মামুন লড়ছেন ধানেরশীষ প্রতীক নিয়ে। স্বতন্ত্র প্রার্থী আক্কাস আলী (আনারস) প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

এসকল প্রার্থীর মধ্যে অনেকেই আচরণ বিধি ভঙ্গ করে দেয়ালে দেয়ালে পোষ্টার সেটেছেন, অধিক পরিমান মাইক ব্যবহার করছেন, সভা সমাবেশ মিছিল করলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সাথে বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে হরিপুর ও গুনাইগাছা ইউনিয়নে।

গত ২৩ এপ্রিল তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে ভোটের ফলাফল দেরীতে ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চাটমোহরের বাহাদুর পুরে বিজিবির গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ায় আগামি নির্বাচন নিয়ে প্রার্থী ও ভোটাররা শংকায় রয়েছেন।

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম শেহেলী লায়লা জানান, চাটমোহরের ৬ ইউনিয়নের নির্বাচন সুষ্ঠভাবে করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রস্ততি গ্রহন করা হয়েছে। ভাঙ্গুড়ার ইউএনও শামসুল ইসলামকে ১৯ দিনের জন্য এবং চাটমোহর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মিজানুর রহমানকে নির্বাচনপূর্ব ৭২ ঘন্টা এবং পরবর্তী ২৪ ঘন্টার জন্য ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এছাড়া নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবে। উল্লেখ্য এ ৬ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২ হাজার ৭৩৭ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ৫১ হাজার ৯২১ জন এবং পুরুষ ভোটার ৫০ হাজার ৮১৬ জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৭ টি। সব গুলো কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন।