বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

শপথ নিতে সরকার বিএনপির এমপিদের চাপ দেয়নি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার জন্য সরকার কোনো চাপ দেয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা চাপ দিতে যাব কেন? তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তারা নিজেরাই বলছে, তাদের সংসদীয় এলাকাতেই চাপ। যে জনগণ তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, তারাই চাপ দিচ্ছে। তারা শপথ নিয়েছে। তারা বলেছে, তারা সংসদে গিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে কথা বলবে।’

প্রধানমন্ত্রী গতকাল শুক্রবার বিকেলে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির একজন এমপির শপথগ্রহণ ও অন্যদের শপথ নেওয়ার সম্ভাবনা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। ব্রুনেই সফর শেষে সফরের বিভিন্ন তথ্য জানাতে গণভবনের ব্যাংকোয়েট হলে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত বক্তব্যে ব্রুনেই সফরের নানা বিষয়ে তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রায় এক ঘণ্টা সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। সেখানে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠানো, আওয়ামী লীগে সুবিধাবাদীদের অনুপ্রবেশ, নিজের অবসর, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, সংবাদপত্রের ওয়েজ বোর্ড, আলোচিত নুসরাত হত্যাসহ নানা বিষয় উঠে আসে।

বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা শপথ নিয়েছে তারা স্বেচ্ছায় গিয়ে শপথ নিয়েছে। শপথ নিয়ে তারা পার্লামেন্টে এসেছে। তারা তাদের কথা বলবে। এখানে আমাদের দোষ দেওয়ার কী আছে? আর বিএনপি একটা রাজনৈতিক দল, যেটাই তারা করুক, এটা তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। একটা দল তাদের সিদ্ধান্ত নেবে। অন্য কোনো দল তো তাদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। পারবেও না। দেশে যখন বহুদলীয় গণতন্ত্র আছে, সেখানে সবারই দল করার অধিকার আছে এবং করে যাচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিএনপির নির্বাচিত ছয়জন সংসদ সদস্যের মধ্যে একজন জাহিদুর রহমান শপথ নিয়েছেন।

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণত প্যারোলের জন্য আবেদন করতে হয়। এখানে কিন্তু কেউ আবেদন করেনি। যেহেতু কেউ আবেদন করেনি, সেহেতু এ বিষয়ে আমাদের কমেন্টের কিছু নেই।’

কেন দল ভাঙতে যাব

বিএনপিকে ভেঙে দেওয়া সংক্রান্ত গুঞ্জন বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো দল ভাঙা—এটা কিন্তু আমাদের নীতি না। প্রস্তাব কিন্তু অনেক পাই। আমি কিন্তু বলি, ওসবের মধ্যে যাব না। যার যার দল সে সে করুক। যারা এ ধরনের এজেন্সির মাধ্যমে তৈরি হয়েছে, তারা (বিএনপির নেতা) তো তাদের (গোয়েন্দা সংস্থা) ভালো চেনে। ভাঙতে বললে তো ভাঙা কোনো ব্যাপারই না। কথা হচ্ছে, আমরা কেন ভাঙতে যাব? আমাদের যথেষ্ট লোকবল আছে। আমাদের নতুন লোকবলের দরকার নেই। আমার আওয়ামী লীগ একাই এক শ।’

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তারা ক্ষমতায় থাকলে টিকে থাকতে পারে। ক্ষমতার বাইরে থাকলে টিকে থাকতে পারে না। কারণ তাদের সেই শিকড় নেই। স্বর্ণলতা যখন কোনো গাছের ওপর পড়ে, দেখতে কিন্তু খুব সুন্দর লাগে। কিন্তু স্বর্ণলতা গাছকে ধ্বংস করে দেয়। এসব দল যখন তৈরি হয়েছে, দেখতে কিন্তু চোখ-ধাঁধানো সুন্দর। অনেকে সেখানে ছুটে গেছে। কিন্তু এদের শিকড় নেই। কাজেই তাদের অবস্থান যদি নাজুক হয়, সেই দায় দায়িত্ব কার? যারা এ দলটাকে চালাচ্ছে ও নেতৃত্ব দিচ্ছে, তাদের।’

দলের নেতৃত্বে কে আসবে দলই ঠিক করবে

নিজের অবসর ও দলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘অবসর তো নিতেই হবে। অবশ্যই। এখানে কে নেতৃত্বে আসবে, সেটা দল ঠিক করবে। আমি তো ঠিক করব না। এটা আওয়ামী লীগ, রাজনৈতিক দল হিসেবে তার নেতৃত্ব বেছে নেবে। সেখানে আমি কি বলে যাব নাকি অমুক হবে, তমুক হবে? আমরা সেটা করব না, করিও না।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমরা একটি কাজ করতে চাচ্ছি যে ডিজিটাল বাংলাদেশ, আমরা আমাদের কমিটিগুলোকে ডিজিটালাইজড করতে চাচ্ছি। আমরা আমাদের একটি অ্যাপ তৈরি করে সেখানে সমস্ত তথ্য রাখব। এ জন্য একটি টিমও তৈরি করে দিয়েছি। তারা বিভাগওয়ারি একবারে ইউনিয়ন পর্যন্ত কারা কারা দলের সদস্য সবই এখানে থাকবে। আমি এখানে বসে একটি টিপ দিলেই সব দেখতে পারব—কী আছে। আর আমি যখন অবসর নিয়ে টুঙ্গিপাড়া যাব, টুঙ্গিপাড়ায় বসে দেখতে পারব কোথায় কে কী করছে।’

দলে সুবিধাভোগী ও অনুপ্রবেশকারী খুব একটা দেখিনি

আওয়ামী লীগে সুবিধাবাদী ও অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনাকে একটি প্রশ্ন করি। আপনি বলছেন—আমাদের দলে সুবিধাবাদী ও অনুপ্রবেশকারী! আমি যদি আপনাকে অনুরোধ করি—আমাকে যদি একটি তালিকা দিতে পারেন তো ভালো হয়। কারা সুবিধাবাদী ও কারা অনুপ্রবেশকারী। আমি কিন্তু সুবিধাবাদী ও অনুপ্রবেশকারী খুব একটা দেখিনি।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সারা জীবন মার খাবে। আমার এটাই প্রশ্ন। তাদের কি ভালো থাকার অধিকার নেই?’

বর্তমান সরকারের ১০০ দিন পার হওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্নীতির কথা বলছেন, ১০০ দিন পার হয়ে গেছে, কার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে, সে বিষয়টা সুনির্দিষ্ট করেন, আমরা ব্যবস্থা নেব। কারণ আমি এখানে দুর্নীতি করতেও বসিনি, আমি চাই না কেউ এখানে দুর্নীতি করুক। কিন্তু কথা হচ্ছে, দুর্নীতি কারা করেছে, কিভাবে করেছে, আপনারা বের করেন। আমি ব্যবস্থা নেব। ফাঁকা কথা বললে, অপবাদ দিলে তো আমি মেনে নেব না। কারণ আমার একটা বিবেচনা আছে আমার দল সম্পর্কে, আমার দলের মানুষ সম্পর্কে। আমি তো নতুন না। আমি স্কুলজীবন থেকে রাজনীতিতে যুক্ত। এটা ভুললে চলবে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের কিন্তু জেনারেশনের পর জেনারেশন পার্টি করে যাচ্ছে। প্রত্যেকেরই কিন্তু ত্যাগের ইতিহাস আছে। এর মধ্যে ব্যতিক্রম নেই তা নয়। ব্যতিক্রম তো থাকবেই। ডিগবাজি খাওয়া কিছু ছিল, থাকবেই। বিএনপিতেও আছে কিছু। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেই হাতা গুটিয়ে আসত। এরাই আবার বিএনপিতে গিয়ে ঠিক জিয়াউর রহমানের স্লোগান ধরেছে। আমার জীবনে কিন্তু অনেক দেখা। আমি সব থেকে প্রবীণ বলতে গেলে এখন রাজনীতিতে। এটা ভুলে যাবেন না।’

সন্ত্রাসের ঝুঁকি তো আছেই

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের হুমকি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার আশঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব সময় উদ্বিগ্ন হওয়ার আশঙ্কা আছে। কারণ আপনারা চিন্তা করেন—নিউজিল্যান্ডের মতো একটি দেশ, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ একটি দেশ। সেখানে পুলিশও ব্যবহার করা লাগে না। এই ধরনের একটি দেশে যখন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে, বাংলাদেশে তো সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ লেগেই আছে। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, আমরা যথেষ্ট সজাগ আছি। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা যথেষ্ট তৎপর আছে। আমি গতকালও আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বসে কথা বলেছি। সমস্ত বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বসে কথা বলেছি। আমি এটুকু বলব, শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে কাজ হবে না, আমাদের সতর্ক হতে হবে। আমাদের জনমত সৃষ্টি করতে হবে।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতনের খোঁজ রাখা হচ্ছে

ফেনীতে মাদরাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন ও পুড়িয়ে মারার ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেউ অন্যায় করলে সে যে-ই হোক, যে দলের হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবই। আমি মনে করি, নুসরাতের বিষয়টি যদি সময়মতো না ধরতাম তাহলে দোষটা নুসরাতের ওপরই পড়ত এবং তাকে একেবারে চরিত্রহীন বানিয়ে ছেড়ে দিত। আমাদের মিডিয়া কতটুকু কী করতে পারত, আমি জানি না। আর এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আর শিক্ষকরা…। যাক বলতে চাই না। আমরা খোঁজখবর রাখছি কোথায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে, আর কোথায় ঘটার আশঙ্কা আছে।’

ওয়েজ বোর্ড নির্ভর করছে মালিকপক্ষের ওপর

সংবাদপত্রে নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন বিষয়ে একজন সাংবাদিক জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়েজ বোর্ডে সরকারের পক্ষ থেকে যেটা করণীয়, আমরা কিন্তু তা করে দিয়েছি। এখন এটা নির্ভর করছে মালিকপক্ষ কতটুকু বাস্তবায়ন করবে। এখানে আর আমাদের কিছু করণীয় নেই। এখন দায়িত্ব চলে গেছে, মালিকপক্ষ এবং সাংবাদিকরা সেখান থেকে কতটুকু আদায় করে নিতে পারে। আরেকটা হচ্ছে, প্রিন্ট মিডিয়া—শুধু বাংলাদেশ বলে না, সারা বিশ্বে এখন অনেক নামিদামি পত্রিকা কিন্তু বন্ধই হয়ে গেছে, এমনকি অনেকগুলোর কিন্তু এখন শুধু অনলাইনটাই চলে, ছাপানোটা নেই। এ রকম অনেক পত্রিকা কিন্তু চলে গেছে অনলাইনে। কাগজ আর ব্যবহার হয় না। এটা হচ্ছে যুগের বা প্রযুক্তির প্রভাব। এভাবে বিবর্তন আসবে। এই বিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।’

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে অনীহা সাহায্য সংস্থাগুলোর

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি খোলামেলাভাবে বলতে চাই—কক্সবাজারে যাওয়া খুব সহজ। থাকার জায়গা খুব সুন্দর। তারা মানবিক কারণে সেবা দিতে আসে; কিন্তু নিজেদের সেবার দিকেও একটু বেশি করে তাকায়। এখানেই তাদের আপত্তি, আর কিছু না। না হলে এই রিফিউজিরা এখানে যেভাবে পলিথিনের নিচে থাকে, সেভাবে থাকাও তো কষ্টকর।…এখন কথা হলো এরা যেতে চাইলেও এখানে অনেক সংস্থা আছে তারা পাঠাতে চায় না।’ তিনি বলেন, ‘তিনটি প্রতিষ্ঠানকেই আমি শক্তভাবে জানিয়ে দিয়েছি যে সামনে বর্ষাকাল আসছে। সেখানে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, পাহাড়ধস হতে পারে, জলোচ্ছ্বাস হতে পারে, যেটা আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত ঘটে। যদি এ ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটে এটার জন্য দায়ী কে থাকবে? এসব সংগঠনগুলোকেও তখন কিছুটা দায় নিতে হবে। আমি জাতিসংঘকেও সে কথা জানিয়েছি।’

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!